দেশের স্বার্থ ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় বিএনপি আপসহীন: রাশেদ খান
বিএনপি নেতা ও গণঅধিকার পরিষদের সাবেক সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খান বলেছেন, দেশের স্বার্থ ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার প্রশ্নে বিএনপি সবসময় আপসহীন অবস্থানে রয়েছে। তিনি দাবি করেন, দলটি কখনোই কোনো দেশের স্বার্থে নয়, বরং বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়েই রাজনীতি করে।
শনিবার (২৭ জুন) ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে সাংবাদিকদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে তিনি এসব কথা বলেন।
রাশেদ খান বলেন, বিগত প্রায় ১৮ বছরে আওয়ামী লীগ সরকারের নীতির কারণে বাংলাদেশ চীনের মতো উন্নয়নের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, সে সময় দেশের পররাষ্ট্রনীতি জাতীয় স্বার্থের পরিবর্তে অন্য দেশের প্রভাবের অধীনে পরিচালিত হয়েছে।
বিএনপিকে ভারতের দালাল বলে যে প্রচারণা চালানো হচ্ছে, তা বাস্তবতার সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে মন্তব্য করেন তিনি। তার দাবি, বিএনপি ভারতের স্বার্থে কাজ করলে সরকারপ্রধান চীন সফরের আগে ভারত সফর করতেন।
ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়ে তিনি বলেন, প্রতিবেশী ও বন্ধুপ্রতিম রাষ্ট্র হিসেবে ভারতের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখতে বিএনপি আগ্রহী। তবে সেই সম্পর্ক অবশ্যই পারস্পরিক সম্মান, সমতা এবং জাতীয় মর্যাদার ভিত্তিতে হতে হবে। কোনো ধরনের আধিপত্য বাংলাদেশের জনগণ মেনে নেবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সীমান্ত পরিস্থিতির প্রসঙ্গ তুলে রাশেদ খান বলেন, বর্তমানে সীমান্তে দায়িত্ব পালনে বিজিবি আগের তুলনায় বেশি আত্মবিশ্বাসী ভূমিকা রাখছে এবং দেশের স্বার্থ রক্ষায় দৃঢ় অবস্থান নিচ্ছে।
এ সময় তিনি রাজনৈতিক প্রতিপক্ষেরও সমালোচনা করেন। জামায়াত ও এনসিপির কিছু নেতার বক্তব্যের সমালোচনা করে তিনি বলেন, যারা দীর্ঘ সময় নিজেদের রাজনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারেননি, তারা এখন সরকার পতনের হুমকি দিচ্ছেন।
এ ছাড়া সরকারি বরাদ্দ ব্যবহারের বিষয়ে বিরোধী নেতাদের সমালোচনা করে তিনি বলেন, দুর্নীতির বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে হলে সবাইকে একই মানদণ্ডে বিচার করতে হবে।
পররাষ্ট্রনীতি প্রসঙ্গে রাশেদ খান বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় মর্যাদা অক্ষুণ্ন রেখে প্রতিবেশীসহ বিশ্বের সব দেশের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখাই বিএনপির নীতি।