বুধবার , ২৪ জুন ২০২৬
বুধবার , ২৪ জুন ২০২৬
হোমসারা দেশফরিদপুরে মাদক ব্যবসার অভিযোগে যুবককে গণপিটুনি, প্রাইভেট কারে আগুন

ফরিদপুরে মাদক ব্যবসার অভিযোগে যুবককে গণপিটুনি, প্রাইভেট কারে আগুন

favicon
ভোরের আলো ডেস্ক:
ফরিদপুরে মাদক ব্যবসার অভিযোগে যুবককে গণপিটুনি, প্রাইভেট কারে আগুন

ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলায় মাদক ব্যবসার অভিযোগে এক ব্যক্তিকে গণপিটুনি দেওয়ার পাশাপাশি তার ব্যবহৃত প্রাইভেট কারে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। তবে পরে পুলিশি তল্লাশিতে তার কাছ থেকে কোনো মাদক উদ্ধার না হওয়ায় ঘটনাটি নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।


ঘটনাটি ঘটে সোমবার (২২ জুন) সন্ধ্যায় উপজেলার পরমেশ্বরদী ইউনিয়নের মালিখালী বাজার এলাকায়। আহত ব্যক্তির নাম মামুন মোল্লা (৪২)।


পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সন্ধ্যায় একটি প্রাইভেট কার নিয়ে এলাকায় আসেন মামুন মোল্লা। এ সময় কয়েকজন তাকে মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত বলে অভিযোগ করলে সেখানে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরে একদল লোক তাকে মারধর করে এবং তার ব্যবহৃত গাড়িতে ভাঙচুর চালিয়ে আগুন ধরিয়ে দেয়।


খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং আহত অবস্থায় মামুনকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।


মামুনের বাবা মানিক মোল্লার দাবি, তার ছেলে আদালতে একটি মামলার হাজিরা শেষে বাড়ি ফিরে দুপুরের খাবার খেয়ে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছিল। পথে তাকে আটক করে মারধর করা হয় এবং গাড়িতে আগুন দেওয়া হয়। তিনি বলেন, অতীতে তার ছেলে মাদকাসক্ত থাকলেও বর্তমানে স্বাভাবিক জীবনযাপন করছে এবং তার কাছে কোনো মাদক পাওয়া যায়নি।


স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা জানান, এলাকায় মাদকের বিস্তার নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে মানুষের মধ্যে ক্ষোভ রয়েছে। তবে অভিযোগের ভিত্তিতে কাউকে মারধর করা কিংবা তার সম্পত্তির ক্ষতি করা গ্রহণযোগ্য নয় বলে তারা মত দেন।


বোয়ালমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, মামুনের বিরুদ্ধে পূর্বে মাদক সংক্রান্ত মামলা রয়েছে। স্থানীয়রা তাকে মারধরের পর পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেছে। তবে তার কাছ থেকে কোনো মাদক উদ্ধার হয়নি। গাড়িতে অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুরের ঘটনায় অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


এ ঘটনার পর স্থানীয়ভাবে আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার প্রবণতা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। সচেতন মহল ও আইনজীবীদের মতে, কোনো ব্যক্তি অপরাধে জড়িত কি না, তা নির্ধারণের দায়িত্ব আদালতের। অভিযোগের ভিত্তিতে কাউকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করা বা তার সম্পত্তি ধ্বংস করা আইনের দৃষ্টিতে শাস্তিযোগ্য অপরাধ।