নতুন আয়কর কাঠামোয় বাড়ছে মধ্যবিত্তের চাপ, উচ্চ আয়ে মিলছে স্বস্তি
চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের নতুন আয়কর কাঠামোয় করমুক্ত আয়সীমা বাড়িয়ে ৪ লাখ টাকা করা হয়েছে। ফলে বছরে ৪ লাখ টাকা পর্যন্ত আয় করা ব্যক্তিদের আয়কর দিতে হবে না। তবে করমুক্ত সীমা বাড়ানোর পাশাপাশি দ্বিতীয় করস্লাবে করহার ৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১০ শতাংশ করায় নিম্ন-মধ্যবিত্ত ও মধ্যবিত্তের একটি বড় অংশের ওপর করের চাপ বাড়বে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা।
আগের অর্থবছরে সাড়ে ৩ লাখ টাকার বেশি আয়ের পরবর্তী ১ লাখ টাকার ওপর ৫ শতাংশ হারে কর প্রযোজ্য ছিল। নতুন কাঠামোয় ৪ লাখ টাকার পরবর্তী ৩ লাখ টাকার আয়ের ওপর ১০ শতাংশ হারে কর ধার্য করা হয়েছে। এতে করমুক্ত সীমা কিছুটা বাড়লেও পরবর্তী ধাপে করের হার দ্বিগুণ হওয়ায় অনেক করদাতার করের পরিমাণ বেড়ে যাবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, মূল্যস্ফীতির প্রভাব বিবেচনায় করমুক্ত আয়সীমা বৃদ্ধি ইতিবাচক পদক্ষেপ হলেও দ্বিতীয় করস্লাবে করহার বাড়ানো মধ্যবিত্তের জন্য বাড়তি চাপ তৈরি করবে।
এ বিষয়ে সিপিডির গবেষণা পরিচালক ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, নতুন বাজেটে সর্বোচ্চ করস্লাবের হার চলতি অর্থবছরে ৩০ শতাংশই রাখা হয়েছে, যদিও আগামী অর্থবছর থেকে তা ৩৫ শতাংশ করার পরিকল্পনা রয়েছে। তার মতে, উচ্চ আয়ের করদাতারা আপাতত স্বস্তি পেলেও মধ্যবিত্তের একটি বড় অংশ নতুন কর কাঠামোর কারণে বেশি চাপে পড়বে।
তিনি আরও বলেন, করমুক্ত আয়সীমা বাড়ানোর মূল উদ্দেশ্য ছিল মূল্যস্ফীতির প্রভাব থেকে সাধারণ মানুষকে কিছুটা সুরক্ষা দেওয়া। কিন্তু নতুন করস্লাবের কারণে সেই সুফল অনেকাংশেই কমে যেতে পারে।
উল্লেখ্য, নতুন বাজেটে বিভিন্ন খাতে কর ছাড়ের পাশাপাশি নতুন নতুন খাতকে করের আওতায় আনা হয়েছে। ফলে নির্ধারিত রাজস্ব আদায়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সামনে বড় চ্যালেঞ্জ থাকছে।