এলসি খোলার অনুমতি পেল শাইনপুকুর সিরামিকস, সাময়িক ছাড় দিল বাংলাদেশ ব্যাংক
বড় অঙ্কের খেলাপি ঋণসহ নানা আর্থিক সংকটে থাকা শাইনপুকুর সিরামিকস পিএলসি-কে উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামাল আমদানির লক্ষ্যে ঋণপত্র (এলসি) খোলার বিশেষ অনুমতি দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এ জন্য ব্যাংক কোম্পানি আইনের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিধান থেকে প্রতিষ্ঠানটিকে সাময়িক ছাড় দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) বাংলাদেশ ব্যাংক ‘ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১’-এর ১২১ ধারার আওতায় জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এ সিদ্ধান্ত জানায়।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ২০২৭ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত শাইনপুকুর সিরামিকসের ক্ষেত্রে ব্যাংক কোম্পানি আইনের ২৭(ক)(ক)(৩) ধারার প্রয়োগ স্থগিত থাকবে। বেক্সিমকো গ্রুপের এই অঙ্গপ্রতিষ্ঠান ঋণখেলাপি হওয়ায় এতদিন কাঁচামাল আমদানির জন্য এলসি খুলতে পারছিল না।
ব্যাংক কোম্পানি আইনের ওই ধারায় ঋণখেলাপি প্রতিষ্ঠানগুলোর নতুন ঋণ গ্রহণ এবং আমদানি এলসি খোলার ওপর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। তবে বিশেষ বিবেচনায় দেওয়া এই সুবিধা পেতে প্রতিষ্ঠানটিকে বেশ কয়েকটি কঠোর শর্ত মেনে চলতে হবে।
নির্দেশনা অনুযায়ী, রাষ্ট্রায়ত্ত সোনালী ব্যাংক পিএলসি শুধুমাত্র ১০০ শতাংশ নগদ মার্জিনের বিপরীতে শাইনপুকুর সিরামিকসের এলসি খুলতে পারবে। অর্থাৎ এলসি ইস্যুর আগে আমদানিকৃত পণ্যের পুরো মূল্য কোম্পানিকে ব্যাংকে জমা দিতে হবে।
এ সুবিধা কেবল উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামাল আমদানির ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য হবে।
বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, উৎপাদন কার্যক্রম সচল রাখা এবং কর্মসংস্থান রক্ষার স্বার্থে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
ঋণদাতা ব্যাংকের স্বার্থ সুরক্ষায় আরও শর্ত আরোপ করা হয়েছে। কোম্পানির ব্যবসায়িক কার্যক্রম থেকে অর্জিত সব অর্থ নির্দিষ্ট একটি ব্যাংক হিসাবে জমা রাখতে হবে এবং সেখান থেকে আনুপাতিক হারে নিয়মিতভাবে সোনালী ব্যাংকের বকেয়া ঋণ পরিশোধ করতে হবে।
এছাড়া সার্কুলারে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, এই বিশেষ সুবিধার ফলে ভবিষ্যতে কোনো আর্থিক দায় সৃষ্টি হলে তার দায়ভার সরকার বা বাংলাদেশ ব্যাংক বহন করবে না।