রবিবার , ১২ জুলাই ২০২৬
রবিবার , ১২ জুলাই ২০২৬
হোমঅর্থনীতি-ব্যবসাবাংলাদেশ-চীনের নতুন জি-টু-জি অংশীদারত্বে কৃষি ও গ্রামীণ উন্নয়নে সম্ভাবনার দ্বার

বাংলাদেশ-চীনের নতুন জি-টু-জি অংশীদারত্বে কৃষি ও গ্রামীণ উন্নয়নে সম্ভাবনার দ্বার

favicon
ভোরের আলো ডেস্ক:
বাংলাদেশ-চীনের নতুন জি-টু-জি অংশীদারত্বে কৃষি ও গ্রামীণ উন্নয়নে সম্ভাবনার দ্বার

বাংলাদেশ ও চীনের ফুজিয়ান প্রদেশ কৃষি, সার সরবরাহ, গ্রামীণ উন্নয়ন, মৎস্য, খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, কোল্ড স্টোরেজ এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে সরকার-টু-সরকার (জি-টু-জি) ভিত্তিক নতুন অংশীদারত্ব গড়ে তোলার বিষয়ে নীতিগতভাবে একমত হয়েছে।


গত বুধবার (৮ জুলাই) সচিবালয়ে কৃষিমন্ত্রী আমিন উর রশিদ ইয়াসিনের সঙ্গে চীনা প্রতিনিধি দলের বৈঠকে এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বৈঠকে প্রযুক্তি হস্তান্তর, কৃষি গবেষণা, আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির ব্যবহার, উন্নত জাতের বীজ, খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, কোল্ড চেইন ব্যবস্থার উন্নয়ন, মৎস্য খাত, সৌরচালিত সেচ ব্যবস্থা এবং গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নে যৌথভাবে কাজ করার বিষয়ে উভয় পক্ষ নীতিগত ঐকমত্যে পৌঁছায়।


এছাড়া বাংলাদেশি কৃষি বিজ্ঞানী, গবেষক ও সরকারি কর্মকর্তাদের জন্য প্রশিক্ষণ, গবেষণা সহযোগিতা এবং স্কলারশিপ কর্মসূচি চালুর বিষয়েও সম্মতি জানায় দুই পক্ষ।


বৈঠকে বিদ্যমান বাংলাদেশ-চীন সরকার-টু-সরকার (জি-টু-জি) ডিএপি সার সরবরাহ চুক্তির দ্রুত নবায়নের বিষয়টিও গুরুত্ব পায়। চীনা প্রতিনিধি দল জানায়, সেপ্টেম্বর-অক্টোবর মৌসুমে সরকারি সার সংগ্রহ শুরুর আগেই চুক্তি নবায়ন করা জরুরি। কৃষিমন্ত্রী জানান, এ লক্ষ্যে কৃষি মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম শুরু করেছে এবং দ্রুত চুক্তি নবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে, যাতে কৃষকদের সার সরবরাহ নির্বিঘ্ন থাকে।


এ সময় ধানের উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধিতে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার, কাঁঠালসহ বিভিন্ন ফলের প্রক্রিয়াজাতকরণ, আধুনিক কোল্ড চেইন, কাঁকড়ার হ্যাচারি, অ্যাকুয়াকালচার, মাছ চাষ, সৌরচালিত সেচ ব্যবস্থা এবং উপকূলীয় লবণাক্ত জমির উন্নয়নে প্রযুক্তিগত সহযোগিতার বিষয়েও আলোচনা হয়। চীনা প্রতিনিধি দল এসব খাতে প্রযুক্তি সহায়তা, কারিগরি সহযোগিতা এবং সম্ভাব্য বিনিয়োগের আগ্রহ প্রকাশ করে।


বৈঠকে আরও জানানো হয়, আগামী এক থেকে দুই মাসের মধ্যে বাংলাদেশের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল ফুজিয়ান সফর করবে। সফরে কৃষি, মৎস্য, খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও গ্রামীণ উন্নয়ন সংশ্লিষ্ট গবেষণা প্রতিষ্ঠান, প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান এবং বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।


উভয় পক্ষ আশা প্রকাশ করেছে, এই সম্প্রসারিত জি-টু-জি অংশীদারত্ব বাংলাদেশের কৃষি উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, খাদ্য নিরাপত্তা জোরদার এবং দুই দেশের দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন সহযোগিতাকে আরও শক্তিশালী করবে।