সোমবার , ১৭ আগস্ট ২০২৬
সোমবার , ১৭ আগস্ট ২০২৬
হোমজাতীয়বিভ্রান্তকারীদের বিষয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

বিভ্রান্তকারীদের বিষয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

favicon
ভোরের আলো ডেস্ক:
বিভ্রান্তকারীদের বিষয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

দেশে বিভ্রান্তি ও গুজব ছড়ানো ব্যক্তিদের ব্যাপারে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, যারা বিভ্রান্তি ছড়ায়, তাদের অতীত কর্মকাণ্ড বিবেচনায় নিয়ে ভবিষ্যৎ কার্যক্রমের ওপর নজর রাখতে হবে।


রোববার (১৬ আগস্ট) বিকেলে পুরাতন কিশোরগঞ্জ স্টেডিয়ামে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ এবং ইমাম, মুয়াজ্জিন, পুরোহিত, ভিক্ষু ও পাদ্রীসহ বিভিন্ন ধর্মীয় ব্যক্তিত্বদের সম্মানী প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।


প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশে অনেক বিভ্রান্তকারী ও রটনাকারী রয়েছে। তাদের বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে। তারা অতীতে কী করেছে, তা বিবেচনা করে তাদের কর্মকাণ্ড পর্যবেক্ষণ করতে হবে। কোনো বিভ্রান্তকারীর কথায় বিভ্রান্ত না হয়ে দেশের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে হবে। কেউ বিভ্রান্তি ছড়াতে এলে অতীতের মতো তাদের যথাযথ জবাব দেওয়ার কথাও বলেন তিনি।


রাজনৈতিক সংকটের বিভিন্ন সময়ে কিছু গোষ্ঠীর ভূমিকার সমালোচনা করে তারেক রহমান বলেন, একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ, ১৯৮৬ ও ১৯৯৬ সালের রাজনৈতিক ঘটনাবলি এবং গত ১৭ বছরের গণতান্ত্রিক আন্দোলনে তাদের রাজপথে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা ছিল না। বরং এই সময়ে বিএনপি ও তাদের মিত্র দলের নেতাকর্মীরা গুম, খুন, নির্যাতন ও নিপীড়নের শিকার হয়েছেন।


সাম্প্রতিক সংস্কার প্রসঙ্গ তুলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যারা দীর্ঘ ১৭ বছর রাজপথে অনুপস্থিত থেকে এখন সংস্কারের নামে বড় বড় কথা বলছেন, তারা বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছেন। বিএনপি ২০২২ সালেই রাষ্ট্রীয় সংস্কারের রূপরেখা জনগণের সামনে উপস্থাপন করেছিল। এরও আগে খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে সংস্কারের প্রস্তাবনা তৈরি হয়েছিল বলে দাবি করেন তিনি।


অনুষ্ঠানে জেলার নারীদের মধ্যে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ এবং বিভিন্ন ধর্মীয় গুরুদের মধ্যে সম্মানী প্রদান করা হয়। পাশাপাশি অসচ্ছল ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের আর্থিক সহায়তার চেক এবং একজন প্রতিবন্ধী ব্যক্তির হাতে চাকরির নিয়োগপত্র তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী।


সামাজিক সুরক্ষা ও জনকল্যাণকে সরকারের অগ্রাধিকার হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ডের কার্যকর বাস্তবায়ন, ইমাম-মুয়াজ্জিনদের ভাতা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার কাজ এগিয়ে নিতে হবে। কৃষির আধুনিকায়নের পাশাপাশি তরুণদের কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে নতুন মিল, কারখানা ও শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।


তারেক রহমান বলেন, মানুষকে আত্মনির্ভরশীল করে গড়ে তুলতে না পারলে দেশের প্রকৃত উন্নয়ন সম্ভব নয়। দেশের প্রতিটি নাগরিককে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করার লক্ষ্যেই সরকার কাজ করছে।


বাংলাদেশকে অন্য কোনো দেশের অনুকরণে নয়, আত্মনির্ভরশীল ও কল্যাণমুখী রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তোলা হবে যেখানে প্রতিটি শ্রেণি-পেশার মানুষ রাষ্ট্রের কাছ থেকে তার প্রাপ্য মর্যাদা ও প্রয়োজন অনুযায়ী সহায়তা পাবে।


নারীর ক্ষমতায়নের ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, দেশের অর্ধেক জনগোষ্ঠী নারী। তাদের পেছনে রেখে কোনো দেশ এগিয়ে যেতে পারে না। নারীদের আত্মনির্ভরশীল করতে ফ্যামিলি কার্ডের মতো উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি নারীদের স্নাতক পর্যায় পর্যন্ত বিনামূল্যে পড়াশোনার সুযোগ এবং ভালো ফলাফলের জন্য সরকারি সহায়তার ব্যবস্থার কথাও জানান তিনি।


কৃষকদের কল্যাণে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কৃষকদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করতে কৃষক কার্ড চালু করা হয়েছে। ইতোমধ্যে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ সুদসহ মওকুফ করা হয়েছে, এতে ১৩ লাখ কৃষক উপকৃত হয়েছেন। সেচ সুবিধা বাড়ানো ও পানি সংকট মোকাবিলায় দেশব্যাপী ২৫০ কিলোমিটার খাল খননের পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।


শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, শুধু প্রাতিষ্ঠানিক সনদ অর্জন নয়, শিক্ষার্থীদের খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড ও ভাষাগত দক্ষতার মাধ্যমে পরিপূর্ণ মানুষ হিসেবে গড়ে তোলা হবে। এ লক্ষ্যে সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের চালু করা ‘নতুন কুঁড়ি’ প্রতিযোগিতা পুনরায় চালুর কথাও জানান তিনি।


তিনি আরও বলেন, ইমাম, মুয়াজ্জিন, খতিবসহ বিভিন্ন ধর্মীয় ব্যক্তিত্বদের আত্মনির্ভরশীল রাখতে বিশেষ সামাজিক ভাতা দেওয়া হচ্ছে। অসচ্ছল ব্যক্তি, শারীরিক প্রতিবন্ধী ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্যও রাষ্ট্রীয় সহায়তা অব্যাহত থাকবে।


প্রধানমন্ত্রী জানান, স্বৈরাচারের সময়ে বঞ্চনার শিকার ১ লাখ ২৩ হাজার শিক্ষকের অবসর ভাতার জটিলতা নিরসন করে তাদের অর্থ প্রদান সম্পন্ন করেছে বর্তমান সরকার।


বিএনপির রাজনীতি মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের রাজনীতি উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, শিক্ষায় সহায়তা, কৃষকের উৎপাদন বাড়ানো এবং শিল্প-কারখানা প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে জনগণের কল্যাণ করাই বিএনপির লক্ষ্য। নির্বাচনের আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি।


সমাজকল্যাণ মন্ত্রী অধ্যাপক এজেডএম জাহিদ হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলম, সংসদ সদস্য ফজলুর রহমান, মাজহারুল ইসলাম ও জালাল উদ্দীনসহ স্থানীয় নেতারা বক্তব্য দেন।