ফিলিস্তিনিদের জন্য নতুন ফাঁসির মঞ্চ বানাচ্ছে ইসরায়েল
ফিলিস্তিনিদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করতে নতুন ফাঁসির মঞ্চ নির্মাণ করছে ইসরায়েল। সেখানে দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তির পরিবারের সদস্যরা যাতে ফাঁসি কার্যকরের দৃশ্য সরাসরি দেখতে পারেন, সে জন্য বিশেষ বুথ বা গ্যালারি রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
গত মার্চে ইসরায়েলি পার্লামেন্ট নেসেটে ‘সন্ত্রাসীদের জন্য মৃত্যুদণ্ড আইন’ পাস হওয়ার পর নতুন ফাঁসির মঞ্চ নির্মাণের বিষয়টি সামনে এলো। আইনটি মূলত সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে দোষী সাব্যস্ত ফিলিস্তিনিদের ক্ষেত্রে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পথ তৈরি করেছে।
ইসরায়েলের জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গ্যভির এক ভিডিওতে নির্মাণাধীন স্থানটি পরিদর্শন করে নতুন ফাঁসির মঞ্চ নির্মাণের কথা জানান। তার দল ওতজমা ইয়েহুদিতের ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে প্রকাশিত ভিডিওতে তিনি বলেন, সেখানে ‘সন্ত্রাসীদের’ মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হবে এবং ভুক্তভোগীদের পরিবারের সদস্যদের জন্য ফাঁসি দেখার বিশেষ জায়গা থাকবে।
ইসরায়েলি গণমাধ্যমে প্রকাশিত ছবিতে একটি ঘেরাও করা এলাকায় নির্মাণকাজ চলতে দেখা গেছে। স্থানটি একটি কারাগারের কাছাকাছি বলে জানা গেছে।
নতুন আইন অনুযায়ী, সামরিক আদালতগুলো সন্ত্রাস-সম্পর্কিত মামলায় দোষী সাব্যস্ত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে ফাঁসির মাধ্যমে মৃত্যুদণ্ড দিতে পারবে। সমালোচকদের দাবি, আইনটি মূলত ফিলিস্তিনিদের লক্ষ্য করেই প্রণয়ন করা হয়েছে।
বেন-গ্যভির দীর্ঘদিন ধরে ফিলিস্তিনিদের বিষয়ে কঠোর অবস্থানের জন্য সমালোচিত। ২০২২ সাল থেকে তিনি ইসরায়েলের জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছেন।
নতুন মৃত্যুদণ্ড আইন পাসের অন্যতম প্রধান সমর্থক বেন-গ্যভির গত মে মাসে ফাঁসির দড়ির ছবি দিয়ে সাজানো কেক কেটে নিজের ৫০তম জন্মদিন উদযাপন করেন বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এদিকে বেন-গ্যভিরের বিভিন্ন বক্তব্য ও কর্মকাণ্ড নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে সমালোচনা রয়েছে। গত বছর ফ্রান্স, আয়ারল্যান্ড ও যুক্তরাজ্য তার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে।
ইসরায়েলের নতুন মৃত্যুদণ্ড আইন এবং ফাঁসির মঞ্চ নির্মাণের উদ্যোগ ইতোমধ্যে মানবাধিকার ও আন্তর্জাতিক মহলে বিতর্ক তৈরি করেছে।