চার দশক পর টেস্টে বিব্রতকর রেকর্ডের সামনে পাকিস্তান
ইংল্যান্ডের বিপক্ষে হেডিংলি ও লর্ডসে টানা দুই টেস্টে হেরেছে পাকিস্তান। এই দুই পরাজয়ে শুধু সিরিজেই পিছিয়ে পড়েনি দলটি, টেস্ট ইতিহাসেও যোগ হয়েছে একটি বিব্রতকর পরিসংখ্যান।
এখন পর্যন্ত ৪৭৩টি টেস্ট খেলেছে পাকিস্তান। এর মধ্যে জয় ১৫৩টি, হার ১৫৪টি এবং ড্র ১৬৬টি। অর্থাৎ, ৩৯ বছর পর টেস্টে জয়ের চেয়ে হারের সংখ্যা বেশি হলো পাকিস্তানের।
এর আগে সর্বশেষ ১৯৮৭ সালে এমন অবস্থায় পড়েছিল পাকিস্তান। সে সময় ওভালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচ ড্র হওয়ার পর পাকিস্তানের জয় ছিল ৩৯টি এবং হার ৪০টি। এরপর দীর্ঘ সময় জয়ের সংখ্যাই বেশি ছিল তাদের। তবে সাম্প্রতিক সময়ে ধারাবাহিক ব্যর্থতায় আবারও সেই নেতিবাচক সমীকরণে ফিরল পাকিস্তান।
অবশ্য এমন অবস্থায় পাকিস্তান একা নয়। টেস্ট ক্রিকেটের আরেক পরাশক্তি ভারতও একই সমীকরণে রয়েছে। ৬০১ টেস্টে ভারতের জয় ১৮৭টি, বিপরীতে হার ১৮৮টি। অর্থাৎ জয়-হারের হিসাবে এক ম্যাচ পিছিয়ে আছে ভারতও।
তবে টেস্ট ক্রিকেটের সবচেয়ে সফল দল অস্ট্রেলিয়ার পরিসংখ্যান সম্পূর্ণ ভিন্ন। ৮৮৪ টেস্টে অস্ট্রেলিয়ার জয় ৪২৭টি, হার ২৩৬টি। ৪৮ দশমিক ৪১ শতাংশ জয়ের হার নিয়ে এই তালিকায় সবার ওপরে রয়েছে তারা।
অস্ট্রেলিয়ার পর টেস্টে সবচেয়ে বেশি জয় ইংল্যান্ড ও দক্ষিণ আফ্রিকার। ১ হাজার ৯৯টি টেস্ট খেলে ইংল্যান্ড জিতেছে ৪০৭টিতে এবং হেরেছে ৩৩৬টিতে। দক্ষিণ আফ্রিকার জয় ১৯১টি, হার ১৬২টি।
বাংলাদেশের চিত্র আরও কঠিন। ১৬১ টেস্টে টাইগারদের জয় মাত্র ২৮টি, বিপরীতে হার ১১৪টি। জয়ের হার ১৭ দশমিক ৩৯ শতাংশ। ১২টি টেস্ট খেলুড়ে দেশের মধ্যে জয়ের হারে বাংলাদেশের অবস্থান দ্বিতীয় সর্বনিম্ন।
বাংলাদেশের চেয়েও নিচে রয়েছে জিম্বাবুয়ে। ১৩০ টেস্টে তাদের জয় ১৬টি এবং হার ৮৪টি। জয়ের হার মাত্র ১২ দশমিক ৩০ শতাংশ। অর্থাৎ টেস্ট ক্রিকেটে ২০ শতাংশের নিচে জয়ের হার রয়েছে শুধু বাংলাদেশ ও জিম্বাবুয়ের।
অন্যদিকে টেস্ট পরিবারের নবীন দুই সদস্য আফগানিস্তান ও আয়ারল্যান্ডের পরিসংখ্যান তুলনামূলকভাবে ভালো। আফগানিস্তান ১৩ টেস্ট খেলে জিতেছে চারটিতে, তাদের জয়ের হার ৩০ দশমিক ৭৬ শতাংশ। একই সংখ্যক টেস্ট খেলে আয়ারল্যান্ডের জয় তিনটি, জয়ের হার ২৩ দশমিক ০৭ শতাংশ।