বৃহস্পতিবার , ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
বৃহস্পতিবার , ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
হোমজাতীয়অনিয়ম-জালিয়াতির অভিযোগের মুখে ডব্লিউএইচওর পদ ছাড়লেন সায়মা ওয়াজেদ

অনিয়ম-জালিয়াতির অভিযোগের মুখে ডব্লিউএইচওর পদ ছাড়লেন সায়মা ওয়াজেদ

favicon
ভোরের আলো ডেস্ক:
অনিয়ম-জালিয়াতির অভিযোগের মুখে ডব্লিউএইচওর পদ ছাড়লেন সায়মা ওয়াজেদ

বিভিন্ন আর্থিক অনিয়ম ও শিক্ষাগত সনদে অসত্য তথ্য দেওয়ার অভিযোগের মধ্যে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের আঞ্চলিক পরিচালকের পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন সায়মা ওয়াজেদ।


বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) ডব্লিউএইচওর মহাপরিচালক তেদরোস আধানোম গেব্রেয়াসুসের কাছে তিনি পদত্যাগপত্র জমা দেন বলে আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।


২০২৩ সালের নভেম্বরে সদস্য দেশগুলোর ভোটে নির্বাচিত হওয়ার পর ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে পাঁচ বছরের মেয়াদে দায়িত্ব নেন সায়মা ওয়াজেদ। তবে ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর শেখ হাসিনা ও তার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগের অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে সায়মা ওয়াজেদের বিরুদ্ধেও দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) তদন্ত শুরু হয়। এর ধারাবাহিকতায় ২০২৫ সালের জুলাইয়ে ডব্লিউএইচও তাকে অবৈতনিক ছুটিতে পাঠায়।


রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, সায়মা ওয়াজেদের বিরুদ্ধে চীন সফরে আর্থিক অনিয়ম, শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদে ভুল তথ্য দেওয়া এবং বাংলাদেশে অবৈধভাবে প্লট অধিগ্রহণের অভিযোগ তদন্ত করছিল ডব্লিউএইচও।


তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সায়মা ওয়াজেদ। তার আইনজীবীদের মাধ্যমে দেওয়া বক্তব্য অনুযায়ী, চীন সফরের ৯০১ ডলারের অর্থ সমন্বয়সংক্রান্ত জটিলতা একজন সহকারীর প্রশাসনিক ভুলের কারণে হয়েছিল। একই সঙ্গে তার ডক্টরেট ডিগ্রিটি যে সম্মানসূচক, সেটিও ডব্লিউএইচওর মহাপরিচালককে আগেই জানানো হয়েছিল বলে দাবি করেন তিনি।


পদত্যাগপত্রে সায়মা ওয়াজেদ অভিযোগ করেন, দায়িত্ব কার্যকরভাবে পালনে তাকে বাধা দেওয়া হয়েছে। এ কারণে ডব্লিউএইচওর নেতৃত্বের ওপর তার আস্থা ও বিশ্বাস নষ্ট হয়েছে। দীর্ঘদিন বেতন ছাড়া ছুটিতে থাকায় প্রায় এক বছর পারিশ্রমিক না পাওয়ার বিষয়টিও তার আর্থিক পরিস্থিতিকে অসহনীয় করে তুলেছে বলে পদত্যাগপত্রে উল্লেখ করেন তিনি।


এদিকে সংস্থাটির সূত্রের বরাতে জানা গেছে, সায়মা ওয়াজেদকে আনুষ্ঠানিকভাবে পদ থেকে সরানোর প্রক্রিয়া চলছিল। আগামী ১২ অক্টোবর এ পদে নতুন মনোনয়ন ঘোষণা হতে পারে। যাচাই-বাছাই শেষে আগামী ২৪ জানুয়ারি নতুন আঞ্চলিক পরিচালক নির্বাচনে ভোট হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।