বৃহস্পতিবার , ১৫ অক্টোবর ২০২৬
বৃহস্পতিবার , ১৫ অক্টোবর ২০২৬
হোম › রাজনীতি › স্থানীয় সরকার নির্বাচন ঘিরে রাজনৈতিক হিসাব-নিকাশ, মাঠে বিএনপি-জামায়াত-এনসিপি

স্থানীয় সরকার নির্বাচন ঘিরে রাজনৈতিক হিসাব-নিকাশ, মাঠে বিএনপি-জামায়াত-এনসিপি

favicon
ভোরের আলো ডেস্ক:
স্থানীয় সরকার নির্বাচন ঘিরে রাজনৈতিক হিসাব-নিকাশ, মাঠে বিএনপি-জামায়াত-এনসিপি

স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে রেখে দেশের তৃণমূল পর্যায়ে রাজনৈতিক তৎপরতা বাড়ছে। নির্দলীয়ভাবে অনুষ্ঠেয় এ নির্বাচন ঘিরে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টিসহ (এনসিপি) বিভিন্ন রাজনৈতিক দল নিজস্ব কৌশলে প্রস্তুতি নিচ্ছে। সম্ভাব্য প্রার্থী বাছাই, সাংগঠনিক কার্যক্রম জোরদার এবং ভোটারদের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ানোর মধ্য দিয়ে নির্বাচনী মাঠ গোছাচ্ছে দলগুলো।


নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত রোডম্যাপ অনুযায়ী, আগামী বছরের ২১ জানুয়ারি থেকে ২৭ মে পর্যন্ত পাঁচ ধাপে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে এরই মধ্যে নানা সমীকরণ তৈরি হয়েছে।


একক প্রার্থী বাছাইয়ে কাজ করছে বিএনপি


দীর্ঘ বিরতির পর স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশ নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে বিএনপি। দলীয় প্রতীক ও আনুষ্ঠানিক মনোনয়ন না থাকায় একই পদে একাধিক নেতার প্রার্থী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে দলীয় বিভক্তি এড়াতে প্রতিটি এলাকায় একজন করে সমর্থিত প্রার্থী নির্ধারণের উদ্যোগ নিয়েছে দলটির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব।


তৃণমূলের মতামত, স্থানীয় পর্যায়ে সমন্বয় এবং সম্ভাব্য প্রার্থীদের জনপ্রিয়তা ও গ্রহণযোগ্যতা বিবেচনায় নিয়ে প্রার্থীকে সমর্থন দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে বিএনপির। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের হাতে থাকবে।


বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু নাসের মুহাম্মদ রহমাতুল্লাহ বলেন, দীর্ঘদিন নির্বাচনে অংশ না নেওয়ায় বরিশাল সদর উপজেলার প্রায় প্রতিটি ইউনিয়নে চার থেকে পাঁচজন করে প্রার্থী রয়েছেন। তাঁর মতে, ভোটারদের বিভ্রান্তি এড়াতে দলকে কঠোর অবস্থান নিয়ে একজন প্রার্থী নির্ধারণ করতে হবে।


দলটির স্থানীয় নেতাদের ভাষ্য, দীর্ঘদিন নির্বাচনের বাইরে থাকায় পুরোনো নেতাদের পাশাপাশি নতুন করে সক্রিয় হওয়া নেতারাও প্রার্থী হতে আগ্রহী। ফলে একই পদে একাধিক প্রার্থী থাকায় দলীয় সমর্থন বিভক্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।


বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী জানিয়েছেন, একজন করে প্রার্থীকে সমর্থন দেওয়ার লক্ষ্যে দলের পক্ষ থেকে কাজ চলছে।


**প্রার্থী বাছাইয়ে এগিয়ে জামায়াতে ইসলামী**


স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে রেখে প্রার্থী বাছাই ও সাংগঠনিক প্রস্তুতিতে এগিয়ে থাকার দাবি করছে জামায়াতে ইসলামী। দলটির নেতারা জানিয়েছেন, বিভিন্ন এলাকায় সম্ভাব্য প্রার্থীদের চিহ্নিত করে মাঠপর্যায়ে সক্রিয় করা হচ্ছে।


জাতীয় নির্বাচনে জোটগতভাবে অংশ নিলেও স্থানীয় সরকার নির্বাচনে নিজেদের সাংগঠনিক শক্তি যাচাই করতে চায় দলটি। নির্বাচনে দলীয় প্রতীক না থাকলেও সমর্থিত প্রার্থীদের কেন্দ্র করে নেতা-কর্মীদের সংগঠিত করার কৌশল নিয়েছে জামায়াত।


বিভিন্ন ইউনিয়নে সম্ভাব্য প্রার্থীদের প্রচার-প্রচারণা ও জনসংযোগের মধ্য দিয়ে দলটির নির্বাচনী প্রস্তুতি এগিয়ে চলছে।


**এককভাবে নির্বাচনে অংশ নিতে চায় এনসিপি**


স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ইউনিয়ন পরিষদ থেকে সিটি করপোরেশন পর্যন্ত এককভাবে অংশ নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। দলটির পক্ষ থেকে দেশের প্রতিটি ইউনিয়নে একজন করে প্রার্থী দেওয়ার পরিকল্পনার কথাও জানানো হয়েছে।


ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনেও দলটির সম্ভাব্য প্রার্থীদের নিয়ে আলোচনা রয়েছে। জাতীয় পর্যায়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে মিত্রতা থাকলেও স্থানীয় নির্বাচনে নিজস্ব সাংগঠনিক শক্তি যাচাইয়ের দিকে গুরুত্ব দিচ্ছে এনসিপি।


**আওয়ামী লীগের অংশগ্রহণ নিয়ে ভিন্ন বক্তব্য**


স্থানীয় সরকার নির্বাচন ঘিরে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সম্ভাব্য অংশগ্রহণ নিয়েও আলোচনা চলছে। এ বিষয়ে সরকারের বিভিন্ন পর্যায় থেকে ভিন্ন বক্তব্য আসায় বিষয়টি নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।


প্রতিবেদন অনুযায়ী, জুন মাসে প্রধানমন্ত্রীর এক উপদেষ্টা বলেছিলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন নির্দলীয় হওয়ায় আইনগত যোগ্যতা পূরণ করলে আওয়ামী লীগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা ব্যক্তিগতভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারবেন। তবে দলীয় পরিচয়ে বা দলীয় কার্যক্রম হিসেবে প্রচার চালানোর সুযোগ থাকবে না।


অন্যদিকে, সেপ্টেম্বরে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম জানিয়েছিলেন, কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ নেই। ফলে দলটির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নির্বাচনে অংশগ্রহণের বিষয়টি নিয়ে সরকারি বক্তব্যে পার্থক্য দেখা যাচ্ছে।


এ পরিস্থিতিতে নিষিদ্ধ দলের নেতা-কর্মীদের প্রার্থী হওয়ার সুযোগ বন্ধ করার প্রস্তাব নির্বাচন কমিশনের কাছে দিয়েছে জামায়াতে ইসলামী।


সব মিলিয়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে রেখে প্রার্থী বাছাই, দলীয় সমর্থন এবং সাংগঠনিক শক্তি প্রদর্শনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক দলগুলোর তৎপরতা বাড়ছে। নির্দলীয় নির্বাচনে দলীয় সমর্থন কতটা প্রভাব ফেলবে, তা নিয়ে তৃণমূল পর্যায়ে তৈরি হচ্ছে নানা হিসাব-নিকাশ।