বুধবার , ২৮ অক্টোবর ২০২৬
বুধবার , ২৮ অক্টোবর ২০২৬
হোম › তথ্যপ্রযুক্তি › স্টারলিংক ব্যবহারকারীদের তথ্য সংগ্রহের অভিযোগ ইসরায়েলি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে

স্টারলিংক ব্যবহারকারীদের তথ্য সংগ্রহের অভিযোগ ইসরায়েলি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে

favicon
ভোরের আলো ডেস্ক:
স্টারলিংক ব্যবহারকারীদের তথ্য সংগ্রহের অভিযোগ ইসরায়েলি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে

স্যাটেলাইট ইন্টারনেট সেবা স্টারলিংকের ব্যবহারকারীদের লক্ষ্য করে ব্যাপকভাবে অনলাইন বিজ্ঞাপন প্রচারের মাধ্যমে তাঁদের ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ ও অবস্থান শনাক্তের চেষ্টা করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে ইসরায়েলি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ডিসকভার-টেকের বিরুদ্ধে। সাইবার নিরাপত্তা গবেষকদের আশঙ্কা, এসব বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে সংগৃহীত তথ্য ব্যবহারকারীদের ওপর নজরদারির কাজে ব্যবহৃত হয়ে থাকতে পারে।


মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়।


প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাইবার নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান ট্রেন্ডএআইয়ের গবেষকেরা ডিজিটাল বিজ্ঞাপনের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখেছেন, স্টারলিংক ব্যবহারকারীদের কাছে বিজ্ঞাপন পৌঁছানোর ক্ষেত্রে ডিসকভার-টেক বিশ্বের অন্যতম বড় দরদাতা হয়ে উঠেছিল। সংশ্লিষ্ট ছয়জনের বরাতে রয়টার্স জানিয়েছে, ১০০টিরও বেশি দেশে স্টারলিংক ব্যবহারকারীদের লক্ষ্য করে বিজ্ঞাপন প্রচারে প্রতিষ্ঠানটি শীর্ষ অবস্থানে ছিল। এসব দেশের কয়েকটিতে স্টারলিংক ব্যবহার নিষিদ্ধ বা সীমিত।


গবেষকদের আশঙ্কা, বিজ্ঞাপন প্রচারের এই প্রক্রিয়া ব্যবহারকারীদের ভৌগোলিক অবস্থান শনাক্ত করা এবং তাঁদের গতিবিধি পর্যবেক্ষণের কাজে ব্যবহৃত হয়ে থাকতে পারে।


অনলাইন বিজ্ঞাপন প্রচারের জন্য বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান স্বয়ংক্রিয় নিলামে অংশ নিয়ে বিজ্ঞাপনের জায়গা কেনে। এ প্রক্রিয়ায় ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের সম্পর্কে কিছু তথ্য বিজ্ঞাপনদাতাদের কাছে পৌঁছাতে পারে। পরে এসব তথ্য অন্যান্য তথ্যের সঙ্গে মিলিয়ে ব্যবহারকারীর পরিচয় শনাক্ত করা কিংবা বিভিন্ন ওয়েবসাইটে তাঁদের কার্যক্রম অনুসরণ করা সম্ভব হতে পারে।


গত ১৫ অক্টোবর কানাডাভিত্তিক সাইবার নিরাপত্তা গবেষণা প্রতিষ্ঠান সিটিজেন ল্যাব এবং নিউইয়র্কভিত্তিক বিজ্ঞাপন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান কনফিয়েন্ট ডিসকভার-টেকের বিরুদ্ধে অনলাইন বিজ্ঞাপনের নিলাম প্রক্রিয়ার অপব্যবহারের অভিযোগ তোলে। তাদের দাবি, বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে পাওয়া তথ্য ব্যবহার করে ব্যবহারকারীদের পরিচয় শনাক্ত করা এবং কিছু ক্ষেত্রে তাঁদের নজরদারি সফটওয়্যারের লক্ষ্যবস্তু করার সুযোগ তৈরি হয়েছিল।


গবেষকদের ভাষ্য অনুযায়ী, সংবাদমাধ্যম, সরকারি সংস্থা ও প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের মতো সংবেদনশীল নেটওয়ার্কেও এসব বিজ্ঞাপন দেখা গেছে। তদন্তের পর গুগল ও কমকাস্টসহ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান ডিসকভার-টেককে নিজেদের বিজ্ঞাপন প্ল্যাটফর্ম থেকে সরিয়ে দেওয়ার কথা জানিয়েছে।


ট্রেন্ডএআইয়ের ১৫ অক্টোবর প্রকাশিত প্রতিবেদনে ‘শ্যাডো-আর্থ-৭৯’ নামের একটি বিজ্ঞাপন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের কথা উল্লেখ করা হয়। রয়টার্সের ছয়টি সূত্র জানিয়েছে, এটি ডিসকভার-টেককে বোঝাতে ট্রেন্ডএআইয়ের ব্যবহৃত সাংকেতিক নাম।


প্রতিবেদন অনুযায়ী, সিরিয়া, লিবিয়া, ইয়েমেন ও দক্ষিণ সুদানে বিজ্ঞাপন কেনার ক্ষেত্রে ওই প্রতিষ্ঠানটি শীর্ষে ছিল। আফগানিস্তানে ছিল দ্বিতীয় অবস্থানে। এ ছাড়া হাঙ্গেরি, ইসরায়েল, মিসর, আজারবাইজান ও ভেনেজুয়েলার মতো কয়েকটি দেশেও প্রতিষ্ঠানটির বিজ্ঞাপন কেনার হার অস্বাভাবিক বেশি বলে গবেষকেরা উল্লেখ করেছেন।


গবেষকদের ধারণা, এসব দেশে বিজ্ঞাপন কেনার ধরন সাধারণ বাণিজ্যিক প্রচারণার চেয়ে ব্যবহারকারীদের তথ্য সংগ্রহ ও তাঁদের কার্যক্রম অনুসরণের অবকাঠামোর সঙ্গে বেশি সামঞ্জস্যপূর্ণ।


স্যাটেলাইটের মাধ্যমে ইন্টারনেট সেবা দেয় স্টারলিংক। ফলে প্রচলিত জাতীয় টেলিযোগাযোগ অবকাঠামোর ওপর নির্ভর না করেও অনেক ক্ষেত্রে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়। সংঘাতপূর্ণ এলাকায় যোগাযোগ বজায় রাখা এবং ইউক্রেনের যুদ্ধক্ষেত্রে সামরিক যোগাযোগের ক্ষেত্রেও এই সেবা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।


এ কারণে বিভিন্ন দেশের সরকার স্যাটেলাইট ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের শনাক্ত ও তাঁদের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণের উপায় খুঁজছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।


এর আগে গত মে মাসে ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম হারেৎজ ও ওয়েবসাইট ইন্টেলিজেন্স অনলাইন জানিয়েছিল, ইসরায়েলি মালিকানাধীন কিছু প্রতিষ্ঠান স্টারলিংক ব্যবহারকারীদের পরিচয় শনাক্ত ও তাঁদের অনুসরণ করার প্রযুক্তি সম্ভাব্য গ্রাহকদের কাছে উপস্থাপন করছে।


রয়টার্স জানিয়েছে, এ বিষয়ে স্পেসএক্স, ডিসকভার-টেক ও প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহীর কাছে মন্তব্য চাওয়া হলেও তাঁরা সাড়া দেননি। অন্যদিকে, ট্রেন্ডএআই তাদের প্রতিবেদনে সন্দেহভাজন প্রতিষ্ঠানের নাম প্রকাশ না করার কারণ হিসেবে ভুল শনাক্তকরণের ঝুঁকি কমানো এবং বিভ্রান্তিকর পরিচয় ব্যবহারের আশঙ্কা এড়ানোর কথা জানিয়েছে।