বৃহস্পতিবার , ২৯ অক্টোবর ২০২৬
বৃহস্পতিবার , ২৯ অক্টোবর ২০২৬
হোম › আইন ও আদালত › আইনজীবীর ভুলের দায় মক্কেলের ওপর চাপানো যাবে না: হাইকোর্ট

আইনজীবীর ভুলের দায় মক্কেলের ওপর চাপানো যাবে না: হাইকোর্ট

favicon
ভোরের আলো ডেস্ক:
আইনজীবীর ভুলের দায় মক্কেলের ওপর চাপানো যাবে না: হাইকোর্ট

আইনজীবীর ভুলের কারণে কোনো মক্কেলকে ভোগান্তির শিকার হতে দেওয়া উচিত নয় বলে পর্যবেক্ষণ দিয়েছেন হাইকোর্ট। জমির মালিকানা নিয়ে একটি মামলার রায়ে আদালত বলেছেন, আইনজীবীর ভুলের কারণে মক্কেল ক্ষতিগ্রস্ত হলে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।


‘মোহাম্মদ আসিফ বনাম রাষ্ট্র’ মামলায় এ পর্যবেক্ষণ দেন হাইকোর্ট। বুধবার (২৮ অক্টোবর) সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি প্রকাশ করা হয়।


এর আগে, গত ১০ সেপ্টেম্বর জমির মালিকানা-সংক্রান্ত একটি প্রথম আপিল মামলায় অধস্তন আদালতের রায় ও ডিক্রি বাতিল করে মামলাটি পুনর্বিচারের জন্য ফেরত পাঠান বিচারপতি এস এম কুদ্দুস জামান ও বিচারপতি তামান্না রহমান খালিদীর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ।


### আইনজীবীর ভুলে ক্ষতিগ্রস্ত হন বাদী


রায়ে আদালত উল্লেখ করেন, মামলার আরজি প্রস্তুত করার সময় সংশ্লিষ্ট আইনজীবী ভুল করেছিলেন। এ ক্ষেত্রে বাদী বা মক্কেলের কোনো ভূমিকা ছিল না। তাই আইনজীবীর করা ভুল বা ত্রুটির কারণে মক্কেলকে ভোগান্তির শিকার হতে দেওয়া উচিত নয়।


আদালত আরও বলেন, মামলার সার্বিক তথ্য-উপাত্ত ও নথিপত্র বিবেচনায় উভয় পক্ষকে নিজ নিজ আরজি সংশোধন এবং প্রয়োজনে অতিরিক্ত সাক্ষ্য-প্রমাণ উপস্থাপনের সুযোগ দিয়ে মামলাটি পুনর্বিচারের জন্য বিচারিক আদালতে পাঠানো হলে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হবে।


### ৬৭.৪০ শতাংশ জমির মালিকানা নিয়ে বিরোধ


প্রকাশিত রায় ও মামলার বিবরণ অনুযায়ী, হাইকোর্টে আপিলকারী মোহাম্মদ আসিফ বিরোধপূর্ণ ৬৭.৪০ শতাংশ জমির ওপর স্বত্ব ঘোষণার আবেদন জানিয়ে মামলা করেন।


বাদীর দাবি ছিল, জমিটি প্রসন্ন কুমার বসু ও অন্যদের মালিকানাধীন ছিল এবং সি.এস. খতিয়ান নম্বর ২৭১৫-এ যথাযথভাবে রেকর্ড করা হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে নিবন্ধিত পাট্টা ও কবলা দলিলের মাধ্যমে জমির মালিকানা বিভিন্ন ব্যক্তির কাছে হস্তান্তরিত হয়।


মামলার বিবরণে বলা হয়, আর.এস. খতিয়ানে মোট ৬৭.৪০ শতাংশ জমির পরিবর্তে ভুলবশত মাত্র ৫৮.৬৮ শতাংশ জমি কাজী সালাহউদ্দিনের নামে রেকর্ড করা হয়। পরে ১৯৮৯ সালের ৩১ মে নিবন্ধিত কবলা দলিলের মাধ্যমে সালাহউদ্দিন মোহাম্মদ আসিফের কাছে জমি হস্তান্তর করেন।


মোহাম্মদ আসিফের দাবি অনুযায়ী, তিনি ওই জমিতে একটি কারখানা স্থাপন করে শান্তিপূর্ণভাবে ভোগদখল করে আসছিলেন। কিন্তু পরবর্তী সময়ে সিটি জরিপের খতিয়ান নম্বর ১-এ জমিটি বিবাদীদের নামে রেকর্ড করা হয়। ওই রেকর্ডের ভিত্তিতে স্থানীয় তহশিলদার তাঁর কাছ থেকে খাজনা নেওয়াও বন্ধ করে দেন।


### ২০১৭ সালে মামলা খারিজ, ২০১৮ সালে হাইকোর্টে আপিল


ভুল ও অবৈধ সিটি জরিপের খতিয়ান বাতিলের দাবিতে মোহাম্মদ আসিফ ঢাকার যুগ্ম জেলা জজ আদালতে মামলা করেন। তবে মামলার আরজিতে জমির পরিমাণ ও বিভিন্ন খতিয়ানে ভুল রেকর্ডের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো তাঁর আইনজীবী যথাযথভাবে উপস্থাপন করতে পারেননি বলে মামলার বিবরণে উল্লেখ করা হয়েছে।


এর ফলে ২০১৭ সালের ১৫ জুন ঢাকার যুগ্ম জেলা জজ আদালত মামলাটি খারিজ করে রায় ও ডিক্রি দেন। ওই সিদ্ধান্তে সংক্ষুব্ধ হয়ে মোহাম্মদ আসিফ ২০১৮ সালে হাইকোর্টে প্রথম আপিল করেন।


দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে হাইকোর্ট অধস্তন আদালতের রায় ও ডিক্রি বাতিল করে মামলাটি পুনর্বিচারের নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে উভয় পক্ষকে আরজি সংশোধন এবং প্রয়োজনে অতিরিক্ত সাক্ষ্য-প্রমাণ উপস্থাপনের সুযোগ দেওয়ার কথা বলেন আদালত।


হাইকোর্টের এই পর্যবেক্ষণে মামলার বিচারপ্রক্রিয়ায় ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে মক্কেলের স্বার্থ ও আইনজীবীর পেশাগত দায়িত্বের গুরুত্ব আবারও উঠে এসেছে।