সোমবার , ০২ নভেম্বর ২০২৬
সোমবার , ০২ নভেম্বর ২০২৬
হোম › জাতীয় › পূর্বাচলে প্লট দুর্নীতি: আত্মসমর্পণের পর কারাগারে শওকত আজিজ রাসেল

পূর্বাচলে প্লট দুর্নীতি: আত্মসমর্পণের পর কারাগারে শওকত আজিজ রাসেল

favicon
ভোরের আলো ডেস্ক:
পূর্বাচলে প্লট দুর্নীতি: আত্মসমর্পণের পর কারাগারে শওকত আজিজ রাসেল

রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) পূর্বাচল আবাসিক প্রকল্পে প্লট বরাদ্দে দুর্নীতির মামলায় ১৪ বছরের কারাদণ্ডপ্রাপ্ত পারটেক্স গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান প্রয়াত এম এ হাসেমের ছেলে শওকত আজিজ রাসেলকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত।


রোববার (১ নভেম্বর) ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৯-এর বিচারক মো. আব্দুস সালামের আদালতে আত্মসমর্পণ করে আপিলের শর্তে জামিন আবেদন করেন রাসেল। শুনানি শেষে আদালত তাঁর জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।


দুদকের প্রসিকিউটর খন্দকার শামীম হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, মামলার রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করার শর্তে রাসেলের আইনজীবীরা জামিন আবেদন করেছিলেন। একই সঙ্গে কারাগারে ডিভিশন দেওয়ার আবেদনও করা হয়। তবে আদালত জামিন আবেদন নাকচ করে তাঁকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।


**আটজনকে ১৪ বছরের কারাদণ্ড**


এর আগে গত ১৩ অক্টোবর একই আদালত শওকত আজিজ রাসেলসহ আটজনকে ১৪ বছর করে কারাদণ্ড দেন। দণ্ডপ্রাপ্ত অন্য ব্যক্তিরা হলেন রাজউকের সাবেক চেয়ারম্যান ইকবাল উদ্দিন চৌধুরী, সাবেক সদস্য এস ডি ফয়েজ, এ কে এম ওয়াহেদুল ইসলাম, এস এম জাফর উল্লাহ, এইচ এম জহুরুল হক, মো. রেজাউল করিম তরফদার এবং রাসেলের ভাই আশফাক আজিজ রুবেল।


রায়ে শওকত আজিজ রাসেল ও আশফাক আজিজকে ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারা এবং দণ্ডবিধির ৪০৯ ধারায় দোষী সাব্যস্ত করা হয়। প্রতিটি ধারায় তাঁদের সাত বছর করে মোট ১৪ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। পাশাপাশি প্রত্যেককে ১০ লাখ টাকা করে মোট ২০ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। জরিমানা অনাদায়ে আরও এক বছর করে সশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে।


রাজউকের সাবেক ছয় কর্মকর্তাকেও একই দুই ধারায় ১৪ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং ২০ লাখ টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানা অনাদায়ে তাঁদেরও অতিরিক্ত এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।


আসামিদের হাজতবাসের সময় মূল দণ্ড থেকে বাদ যাবে এবং দুই ধারার সাজা একসঙ্গে কার্যকর হবে বলে রায়ে উল্লেখ করা হয়। তবে দণ্ডবিধির ৪২০ ধারার অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় আসামিদের ওই অভিযোগ থেকে খালাস দেওয়া হয়েছে।


**দুটি প্লটের বরাদ্দ বাতিল**


রায়ে শওকত আজিজ রাসেল ও আশফাক আজিজের নামে বরাদ্দ করা পূর্বাচলের সেক্টর-১, রোড-৪০৫-এর ১১ ও ১৩ নম্বর প্লটের বরাদ্দ বাতিল করে সেগুলো রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।


**২০১৭ সালে দুদকের মামলা**


প্রভাব খাটিয়ে পূর্বাচলে ২০ কাঠা জমির দুটি প্লট বরাদ্দ নেওয়া ও দেওয়ার অভিযোগে ২০১৭ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি মামলা করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। সংস্থাটির তৎকালীন উপসহকারী পরিচালক সিলভিয়া ফেরদৌস বাদী হয়ে মামলাটি করেন।


মামলার অভিযোগে বলা হয়, আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে শওকত আজিজ রাসেল ও আশফাক আজিজের নামে ১০ কাঠা করে মোট ২০ কাঠা জমির দুটি প্লট বরাদ্দ দেন। এতে রাষ্ট্রের আর্থিক ক্ষতি হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়।