বিশৃঙ্খলা বন্ধ না হলে কারখানা চালাতে চান না মালিকরা: বিজিএমইএ সভাপতি
পোশাকশিল্পে চলমান বিশৃঙ্খলা ও কারখানা ভাঙচুর বন্ধ না হলে মালিকরা কারখানা চালু রাখতে চাইবেন না বলে জানিয়েছেন তৈরি পোশাকশিল্পের মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএর সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বাবু।
রোববার (১ নভেম্বর) সন্ধ্যায় নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি এ কথা জানান।
বিজিএমইএ সভাপতি বলেন, সংগঠনের প্রতিটি সদস্যই প্রতিদিন কারখানা পরিচালনা করতে চান। কারণ উদ্যোক্তারা কারখানা চালু রাখার উদ্দেশ্যেই বিনিয়োগ করেছেন। কিন্তু কারখানা পরিচালনার উপযুক্ত পরিবেশ না থাকলে উৎপাদন অব্যাহত রাখা সম্ভব নয়।
তিনি বলেন, ন্যূনতম মজুরি বোর্ড গঠনের প্রজ্ঞাপন জারি হয়েছে এবং এ বিষয়ে শ্রমিকদের আগেই জানানো হয়েছিল। এরপরও মজুরি বোর্ড গঠনের প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন স্থানে বিশৃঙ্খলা, কারখানা ভাঙচুর এবং কাজে বাধা দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে।
বিশৃঙ্খলাকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি
মাহমুদ হাসান খান বাবু বলেন, চলমান পরিস্থিতিতে উদ্যোক্তারা চরম উদ্বেগের মধ্যে রয়েছেন। অধিকাংশ শ্রমিক কাজ করতে চান এবং মালিকরাও কারখানা চালু রাখতে আগ্রহী। তবে গুটিকয়েক শ্রমিক নামধারী ব্যক্তি বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
বিজিএমইএ সভাপতি বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বিষয়টি চিহ্নিত করেছে। যারা আইন নিজের হাতে তুলে নিচ্ছেন, তাঁদের আইনের আওতায় আনতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কঠোর ভূমিকা প্রত্যাশা করেন তাঁরা।
তিনি আরও জানান, বিশৃঙ্খলা বন্ধ না হলে মালিকরা কারখানা চালাতে চান না—এমন বার্তা উদ্যোক্তারা দিয়েছেন। সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে শিগগিরই সরকারের সঙ্গে বৈঠক করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
মিরপুর, গাজীপুর ও সাভারে শ্রমিকদের বিক্ষোভ
এদিকে ন্যূনতম মাসিক বেতন ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণসহ বিভিন্ন দাবিতে রোববার সকাল থেকে রাজধানীর মিরপুর, গাজীপুর ও সাভারে সড়ক অবরোধ ও বিক্ষোভ করেন পোশাকশ্রমিকরা।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দুপুরে মিরপুরে সাউন্ড গ্রেনেড ও বাঁশি ব্যবহার করে আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করে পুলিশ। এর আগে সংঘর্ষের একপর্যায়ে মিরপুর-১১ নম্বরে পুলিশের একটি গাড়িতে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটে।
ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) যুগ্ম কমিশনার মহিদুল ইসলাম জানান, জনভোগান্তি এড়াতে সড়ক পরিষ্কার করা হয়েছে। এ সময় কোনো লাঠিচার্জ করা হয়নি এবং কাউকে আটকও করা হয়নি।
তিনি বলেন, পোশাকশ্রমিকদের আন্দোলনের সুযোগ নিয়ে কোনো সরকারবিরোধী বা রাষ্ট্রবিরোধী চক্র আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটানোর চেষ্টা করছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
নতুন মজুরি বোর্ড গঠন
অন্যদিকে শ্রমিকদের আন্দোলনের মুখে রোববার সচিবালয়ে পোশাকশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে ছয় সদস্যের নতুন মজুরি বোর্ড গঠনের ঘোষণা দেন শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী।
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, বোর্ডে মালিকপক্ষের প্রতিনিধি হিসেবে বিজিএমইএর পরিচালক এ বি এম সামছুদ্দিন এবং শ্রমিকপক্ষের প্রতিনিধি হিসেবে বাংলাদেশ গার্মেন্টস অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক বাবুল আকতারকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া নিরপেক্ষ সদস্য হিসেবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন বিভাগের অধ্যাপক ড. মোসলেহ উদ্দিন আহমদকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।