মঙ্গলবার , ০৩ নভেম্বর ২০২৬
মঙ্গলবার , ০৩ নভেম্বর ২০২৬
হোম › জাতীয় › জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় কৌশলগত নেতৃত্ব তৈরির আহ্বান রাষ্ট্রপতির

জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় কৌশলগত নেতৃত্ব তৈরির আহ্বান রাষ্ট্রপতির

favicon
সাইফুল আলম মিরাজ
জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় কৌশলগত নেতৃত্ব তৈরির আহ্বান রাষ্ট্রপতির

উদীয়মান নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা এবং জাতীয় স্বার্থ সমুন্নত রাখতে কৌশলগত নেতৃত্ব, প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা ও সম্মিলিত প্রচেষ্টা জোরদারের আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।


সোমবার (২ নভেম্বর) বঙ্গভবনে ন্যাশনাল ডিফেন্স কোর্স-২০২৬ এবং আর্মড ফোর্সেস ওয়ার কোর্স-২০২৬-এর অংশগ্রহণকারীদের উদ্দেশে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এ আহ্বান জানান।


রাষ্ট্রপতি বলেন, জাতীয় নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক সম্পৃক্ততা অবশ্যই ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতির আলোকে পরিচালিত হতে হবে। একই সঙ্গে দেশের সার্বভৌমত্ব, স্বাধীনতা, জাতীয় মর্যাদা, নিরাপত্তা ও জনগণের কল্যাণ নিশ্চিত করার পাশাপাশি সার্বভৌম সমতা, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সুবিধার ভিত্তিতে গঠনমূলক আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বজায় রাখতে হবে।


তিনি বলেন, বাংলাদেশকে আরও সমৃদ্ধ, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও স্থিতিশীল রাষ্ট্রে পরিণত করতে মানসম্মত নেতৃত্ব, শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান এবং জাতীয় স্বার্থ অর্জনে ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টা প্রয়োজন।


### মুক্তিযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক সংগ্রামে আত্মত্যাগকারীদের স্মরণ


বক্তব্যের শুরুতে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান রাষ্ট্রপতি। স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠায় তাঁদের সাহস, আত্মত্যাগ ও অঙ্গীকারের কথা স্মরণ করেন তিনি।


এ সময় মুক্তিযুদ্ধে সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের (বীর উত্তম) অবদান ও স্বাধীনতার ঘোষণার কথা উল্লেখ করে তাঁর প্রতিও শ্রদ্ধা জানান মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। পাশাপাশি ১৯৭৭ সালে ডিফেন্স সার্ভিসেস কমান্ড অ্যান্ড স্টাফ কলেজ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে পেশাদার সামরিক শিক্ষার প্রসারে জিয়াউর রহমানের অবদানের কথাও স্মরণ করেন তিনি।


রাষ্ট্রপতি ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান এবং গত ১৭ বছরে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার দীর্ঘ সংগ্রামে আত্মোৎসর্গকারীদেরও স্মরণ করেন। জনগণের মর্যাদা সমুন্নত রাখা, ন্যায়বিচার ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা এবং গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।


### জাতীয় নিরাপত্তায় নতুন চ্যালেঞ্জ


রাষ্ট্রপতি বলেন, প্রচলিত নিরাপত্তা উদ্বেগের পাশাপাশি জলবায়ু পরিবর্তন, সাইবার হুমকি, আন্তদেশীয় অপরাধ, সন্ত্রাসবাদ, মহামারি, অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা ও প্রযুক্তির দ্রুত পরিবর্তন নতুন চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে।


তিনি আরও বলেন, জাতীয় নিরাপত্তা শুধু সামরিক প্রস্তুতির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এর সঙ্গে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা, খাদ্য ও জ্বালানি নিরাপত্তা, পরিবেশগত স্থায়িত্ব, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা এবং শক্তিশালী প্রতিষ্ঠানও গভীরভাবে জড়িত।


পরিবর্তনশীল ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি তুলে ধরে রাষ্ট্রপতি বলেন, বঙ্গোপসাগর ও বৃহত্তর ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে বাংলাদেশের কৌশলগত অবস্থানের কারণে সতর্কতা ও দূরদর্শিতার গুরুত্ব বেড়েছে।


তিনি উল্লেখ করেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা ও উন্নত ডিজিটাল প্রযুক্তি যুদ্ধ এবং নিরাপত্তার ধরন বদলে দিচ্ছে। অন্যদিকে, ভুল তথ্য, অপতথ্য ও সাইবার হুমকি জাতীয় নিরাপত্তা এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য ক্রমবর্ধমান চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে।


এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কৌশলগত দূরদর্শিতা, সঠিক বিচার-বিশ্লেষণ, বুদ্ধিবৃত্তিক উদারতা এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও দেশের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করার সক্ষমতাসম্পন্ন নেতৃত্ব প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন রাষ্ট্রপতি।


### নেতৃত্ব বিকাশে ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজের ভূমিকা


ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজের ভূমিকা তুলে ধরে রাষ্ট্রপতি বলেন, প্রতিষ্ঠানটি সশস্ত্র বাহিনী, বেসামরিক প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থা এবং বন্ধুপ্রতিম দেশগুলোর জ্যেষ্ঠ নেতাদের মধ্যে মতবিনিময়ের সুযোগ সৃষ্টি করেছে। একই সঙ্গে সমসাময়িক নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ সম্পর্কে অভিন্ন উপলব্ধি গড়ে তুলতেও প্রতিষ্ঠানটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।


ন্যাশনাল ডিফেন্স কোর্স-২০২৬ এবং আর্মড ফোর্সেস ওয়ার কোর্স-২০২৬-এর অংশগ্রহণকারীদের অভিনন্দন জানিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে সবকিছুর ঊর্ধ্বে দেশ ও জনগণের স্বার্থকে স্থান দিতে হবে। পেশাদারিত্ব, সততা, শৃঙ্খলা ও জবাবদিহি বজায় রেখেও কাজ করতে হবে।


অন্য দেশের অংশগ্রহণকারীদের শুভেচ্ছা জানিয়ে তিনি আশা প্রকাশ করেন, বাংলাদেশে তাঁদের অভিজ্ঞতা নিজ নিজ দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের বন্ধুত্ব ও সহযোগিতা আরও জোরদার করতে সহায়ক হবে।


রাষ্ট্রপতি শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান, জাতিগুলোর মধ্যে বন্ধুত্ব এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে গঠনমূলক সম্পৃক্ততার প্রতি বাংলাদেশের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি সংঘাতের পরিবর্তে সহযোগিতা, মতবিরোধের পরিবর্তে সংলাপ এবং সংঘর্ষের পরিবর্তে শান্তির আহ্বান জানান।


সক্ষম ও দূরদর্শী নেতৃত্ব গড়ে তুলতে নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করার জন্য ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজের কমান্ড্যান্ট, শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের প্রশংসা করেন তিনি।


উল্লেখ্য, ন্যাশনাল ডিফেন্স কোর্স-২০২৬-এ বাংলাদেশের সশস্ত্র বাহিনীর ৫৪ জন, বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসের ১৮ জন এবং বন্ধুপ্রতিম ১৭টি দেশের ৩১ জনসহ মোট ১০৩ জন অংশগ্রহণ করেন।