চীনা নারী গুপ্তচরের সঙ্গে প্রেমের অভিযোগ, কংগ্রেসের তোপের মুখে এনভিডিয়া প্রধান
কথিত এক চীনা নারী গুপ্তচরের সঙ্গে রোমান্টিক সম্পর্কে জড়ানোর অভিযোগে মার্কিন কংগ্রেসের তোপের মুখে পড়েছেন এনভিডিয়ার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) জেনসেন হুয়াং। রোববার (৮ নভেম্বর) এ-সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশ্যে আসার পর যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। খবর এক্সিওসের।
জেনসেন হুয়াং বিশ্বের অন্যতম প্রভাবশালী প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের প্রধান। তাঁর নেতৃত্বাধীন এনভিডিয়ার তৈরি চিপ বিশ্বজুড়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তির গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, জেনসেন হুয়াং চীনা গোয়েন্দা সংস্থার ফাঁদে পড়ে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করছেন মার্কিন আইনপ্রণেতারা। বিষয়টিকে জাতীয় নিরাপত্তার জন্য গুরুতর হুমকি হিসেবে বিবেচনা করছেন কংগ্রেসের উভয় দলের সদস্যরা।
এ ঘটনায় পূর্ণাঙ্গ তদন্তের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন ডেমোক্র্যাট সিনেটর ক্রিস কুনস। তিনি জানান, ট্রাম্প প্রশাসন, চীনা গুপ্তচর এবং প্রযুক্তি খাতের প্রভাবশালী ব্যক্তিদের মধ্যকার কথিত সম্পর্ক নিয়ে কংগ্রেস সঠিক তথ্য বের করার চেষ্টা করবে।
সংবাদমাধ্যমের দাবি, এলিস হুয়াং নামের এক প্রযুক্তি নির্বাহীর সঙ্গে জেনসেনের গভীর প্রেমের সম্পর্ক ছিল। পশ্চিমা গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর দাবি, জেনসেনের ওপর নজরদারি এবং তাঁকে প্রভাবিত করার উদ্দেশ্যেই ওই নারীকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল।
অভিযোগ অনুযায়ী, জেনসেনকে প্রভাবিত করে চীনে আধুনিক প্রযুক্তির চিপ রপ্তানির অনুমতি আদায় করাই ছিল এর মূল লক্ষ্য। এ ঘটনায় মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তা কতটা ঝুঁকির মুখে পড়েছে, তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন কংগ্রেস সদস্যরা।
এদিকে জেনসেন হুয়াংকে আগামী ১১ নভেম্বরের মধ্যে কংগ্রেসের সংশ্লিষ্ট কমিটির কাছে বিস্তারিত ব্রিফিংয়ের সময়সূচি জানাতে বলা হয়েছে। এ বিষয়ে তাঁকে আল্টিমেটাম দিয়েছেন প্রতিনিধি পরিষদের রিপাবলিকান নেতারা।
তবে কথিত ওই নারী গুপ্তচরের সঙ্গে কোনো রোমান্টিক সম্পর্ক থাকার অভিযোগ দৃঢ়ভাবে অস্বীকার করেছে এনভিডিয়া। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, তাঁদের মধ্যে যোগাযোগ ছিল নিছক ব্যবসায়িক। অন্যদিকে, চীন সরকারও গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে।
প্রতিবেদনে উল্লিখিত সম্পর্ক ও গুপ্তচরবৃত্তির বিষয়গুলো অভিযোগ ও সংবাদমাধ্যমের দাবি হিসেবে উপস্থাপিত হয়েছে; এগুলো স্বাধীনভাবে প্রমাণিত তথ্য নয়।