বন্যা পরিস্থিতি উত্তপ্ত: কানাইঘাট, জকিগঞ্জ ও রাজনগর ‘ডেঞ্জার লেভেল’র ওপরে, ৮ অঞ্চলে সতর্কবার্তা
দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে। সিলেটের কানাইঘাট ও জকিগঞ্জ এবং মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলায় নদীর পানি বিপদসীমার (‘ডেঞ্জার লেভেল’) ওপরে অবস্থান করছে। এছাড়া দেশের আরও অন্তত আটটি এলাকায় বন্যা সতর্কতা জারি করেছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র।
রোববার (১ জুন) দুপুরে সংস্থাটির ওয়েবসাইটে প্রকাশিত তথ্যে বলা হয়, সিলেটের সদর এলাকা ও বিয়ানীবাজার; সুনামগঞ্জের ডেরাই; মৌলভীবাজারের কুলাউড়া ও সদর উপজেলা; হবিগঞ্জের চুনারুঘাট; নীলফামারীর ডিমলা এবং বাগেরহাটের মংলায় বন্যার সম্ভাব্য ঝুঁকি রয়েছে।
এর আগে, শনিবার (৩১ মে) প্রকাশিত এক পূর্বাভাসে জানানো হয়, সিলেট ও ময়মনসিংহ বিভাগের কয়েকটি প্রধান নদী—যাদুকাটা, সারিগোয়াইন, ধলাই, সোমেশ্বরী ও মনু নদীর পানি আগামী দুই দিন বাড়বে। এতে নদীসংলগ্ন এলাকাগুলোতে সমতল ভূমিতে বন্যা দেখা দিতে পারে।
নদ-নদীর পানি পরিস্থিতি:
সুরমা-কুশিয়ারা অববাহিকা: সিলেট, মৌলভীবাজার ও সুনামগঞ্জে খোয়াই, মনু, ধলাই নদীর পানি দ্রুত বাড়ছে। আগামী দুই দিনের মধ্যে বিপদসীমা অতিক্রমের শঙ্কা রয়েছে।
ব্রহ্মপুত্র-যমুনা: আপাতত স্থিতিশীল থাকলেও আগামী পাঁচ দিনে পানি বাড়তে পারে, তবে তা বিপদসীমার নিচেই থাকবে।
তিস্তা-ধরলা-দুধকুমার: রংপুর অঞ্চলে এসব নদীর পানি ৩ দিনের মধ্যে বাড়বে, কিছু নদী সতর্কতা সীমা ছাড়াতে পারে।
চট্টগ্রাম বিভাগের নদীগুলো (হালদা, সাঙ্গু, মাতামুহুরী): আগামী ২৪ ঘণ্টায় পানি বাড়বে, এরপর কমে আসার সম্ভাবনা রয়েছে।
গঙ্গা-পদ্মা: গঙ্গা নদীর পানি কমছে, তবে পদ্মার পানি বাড়ছে। এতে রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, কুষ্টিয়া, পাবনা, ফরিদপুর ও শরীয়তপুর অঞ্চলে পানি বৃদ্ধির সম্ভাবনা রয়েছে।
ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চল:
সিলেট, সুনামগঞ্জ, নেত্রকোনা ও মৌলভীবাজারের নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদী বন্যার ঝুঁকি রয়েছে। পাহাড়ি ঢল অব্যাহত থাকলে পরবর্তী ৩-৫ দিনে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে।
অন্যদিকে, উপকূলীয় নদ-নদীর পানি স্বাভাবিক রয়েছে এবং এসব অঞ্চলে বর্তমানে বিশেষ কোনো বন্যার শঙ্কা নেই।
সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোকে সতর্ক থাকতে এবং ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোর মানুষকে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।