মঙ্গলবার , ২৮ জুলাই ২০২৬
মঙ্গলবার , ২৮ জুলাই ২০২৬
হোমজাতীয়ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে আপাত ঐক্য, কিন্তু সামনে আছে একাধিক চ্যালেঞ্জ

ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে আপাত ঐক্য, কিন্তু সামনে আছে একাধিক চ্যালেঞ্জ

favicon
ভোরের আলো ডেস্ক:
ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে আপাত ঐক্য, কিন্তু সামনে আছে একাধিক চ্যালেঞ্জ

ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় নির্বাচন নিয়ে আপাতভাবে রাজনৈতিক ঐক্য তৈরি হলেও সংকট পুরোপুরি কেটে গেছে—এমনটি মনে করছেন না বিশ্লেষকরা। তাদের মতে, সামনে রয়েছে জুলাই সনদ, তারেক রহমানের দেশে ফেরা, নির্বাচন কমিশনের তফসিল ঘোষণা এবং ভোটার তালিকা ইস্যু। এসব বিষয় নিয়ে রাজনীতিতে উত্তাপ বাড়তে পারে।


বিশ্লেষকরা বলছেন, কিছু রাজনৈতিক শক্তি এখনো নির্বাচন চায় না, আবার ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগও পিছিয়ে থাকবে না। তবে, বর্তমান পরিস্থিতি যদি অব্যাহত থাকে, তাহলে নির্বাচন বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা কম।


অন্তবর্তী সরকার ও বিএনপির মধ্যে নির্বাচনের বিষয়ে একটি সমঝোতা হয়েছে লন্ডনে তারেক রহমান ও ড. ইউনূসের মধ্যে বৈঠকে। যদিও ঐ নির্বাচনের ক্ষেত্রে ছিলো বিচার ও সংস্কারের পর্যাপ্ত অগ্রগতির শর্ত।


রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ মনে করেন, ঘোষিত সময়ের পর নির্বাচন করার মতো সময় নেই সরকারের হাতে। নির্বাচন এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগও নেই।


দৈনিক মানবজমিন সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী বলেন, রাজনীতির বর্তমান গতিপ্রকৃতি পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। এই পরিবর্তন ধরে রাখতে পারলে নির্বাচন সম্ভব। তবে নির্বাচনবিরোধী শক্তিগুলো এখনো সক্রিয়।


বিশ্লেষকরা সতর্ক করছেন, ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের সময়সূচী নিয়ে আপাত ঐক্য হলেও সামনে রয়েছে বহু চ্যালেঞ্জ। বিশেষত, জুলাই সনদ ঘিরে রাজনীতিতে নাটকীয় মোড় আসতে পারে।


তিনি আরও বলেন, নির্বাচন কমিশন কবে তফসিল ঘোষণা করবে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। তারেক রহমানের দেশে ফেরা, আওয়ামী লীগের ভূমিকা—সব মিলিয়ে রাজনৈতিক মাঠে উত্তেজনা বাড়তে পারে।


অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ বলেন, বিভিন্ন শক্তির স্বার্থ ও ভবিষ্যৎ ভাবনা নিয়ে সংঘাত চলবে। কখনো ঐক্য, কখনো দ্বন্দ্ব—এই দ্বৈত ধারা আগামী সময়গুলোতে রাজনীতির চালচিত্র হয়ে উঠবে।


এদিকে জামায়াত ও এনসিপি ফেব্রুয়ারির নির্বাচন নিয়ে অসন্তুষ্ট। তারা তরুণ ভোটারের সংখ্যা বাড়াতে চায়। তবে বিশ্লেষকদের মতে, এতে নির্বাচনী প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হওয়ার সম্ভাবনা কম।


তরুণ ভোটারদের নিয়ে আশা করা হলেও, অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ মনে করেন, তারা কার পক্ষে ভোট দেবে তা নিশ্চিত নয়। কারো পক্ষে তরুণ ভোটার নিশ্চয়তা দিতে পারে না।


সবশেষে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হলেও, একবার তফসিল ঘোষণা হলে নির্বাচনী পথে সবাই এগোবে এবং এতে সংকট অনেকটাই কমে আসবে বলে বিশ্লেষকদের অভিমত।