বুধবার , ২৬ আগস্ট ২০২৬
বুধবার , ২৬ আগস্ট ২০২৬
হোমসারা দেশপ্রকল্পের পর প্রকল্প, কিন্তু জলাবদ্ধতা রয়ে গেছে আগের মতোই

প্রকল্পের পর প্রকল্প, কিন্তু জলাবদ্ধতা রয়ে গেছে আগের মতোই

favicon
ভোরের আলো ডেস্ক:
প্রকল্পের পর প্রকল্প, কিন্তু জলাবদ্ধতা রয়ে গেছে আগের মতোই

বর্ষা মৌসুমে খুলনা শহরের অন্যতম বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে জলাবদ্ধতা। বছরজুড়ে সিটি করপোরেশন নানা প্রকল্প নিলেও সামান্য বৃষ্টিতেই ডুবে যাচ্ছে নগরীর প্রধান সড়ক থেকে অলিগলি পর্যন্ত। নগরবাসীর অভিযোগ, এ সমস্যার মূলে রয়েছে প্রশাসনিক ব্যর্থতা। বিশেষজ্ঞরাও বলছেন, টেকসই পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা না থাকাই এই ভোগান্তির মূল কারণ।


আষাঢ়ের প্রথম ভারী বর্ষণেই নগরীর বহু অংশ পানিতে তলিয়ে যায়। কয়েক ঘণ্টার বৃষ্টিতে শহরের রাস্তাঘাট জলমগ্ন হয়ে পড়ে। অথচ গত কয়েক বছরে খাল খনন, ড্রেন নির্মাণ, স্লুইস গেট বসানোসহ নানামুখী উন্নয়ন প্রকল্পে খরচ হয়েছে শত শত কোটি টাকা। কিন্তু এতো ব্যয়ে আশানুরূপ সুফল নেই।


২০১৯ সালে খুলনা সিটি করপোরেশন (কেসিসি) নেয় ৮২৩ কোটি টাকার একটি ড্রেনেজ উন্নয়ন প্রকল্প। এতে ৯টি খাল খনন, ৮টি স্লুইস গেট স্থাপন, ড্রেন নির্মাণ এবং ময়ূর নদীতে সেতু নির্মাণের পরিকল্পনা ছিল। ২০২৩ সালেই এর মেয়াদ শেষ হলেও অগ্রগতি ছিল অত্যন্ত ধীর। এছাড়া গত সাত বছরে ১৯৮টি ড্রেন পুনর্নির্মাণে ব্যয় হয়েছে ৬৩৪ কোটি টাকা।


তবে নগরীর গুরুত্বপূর্ণ পানি নিষ্কাশন পথ লবণচরা খাল দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ হয়ে আছে। আবর্জনা, কচুরিপানা এবং দখল হয়ে যাওয়া মুখগুলো পানি প্রবাহে বাধা সৃষ্টি করছে। মতিয়াখালি, ক্ষেত্রখালী, নিরালা, খানজাহান আলী রোডসহ অন্তত ১০টি এলাকার খাল-ড্রেনও একই পরিস্থিতিতে রয়েছে।


নগরবাসীরা অভিযোগ করছেন, ড্রেনেজের কাজ হলেও নিয়মিত পরিষ্কার না হওয়ায় পানি আটকে গিয়ে সড়কসহ বাড়িঘরে ঢুকে যাচ্ছে। কোথাও কোথাও পানি তিনদিন পর্যন্ত জমে থাকে, নষ্ট হচ্ছে আসবাবপত্র, বন্ধ হয়ে যাচ্ছে কর্মজীবনের গতিধারা।


এ বিষয়ে কেসিসির প্রধান পরিকল্পনা কর্মকর্তা আবির উল জব্বার বলেন, প্রকল্প বাস্তবায়ন চলছে, কিন্তু বরাদ্দ ও মূল্যবৃদ্ধির কারণে কাজ ব্যাহত হচ্ছে। ড্রেন নির্মাণ যথেষ্ট নয়, নিয়মিত পরিষ্কার না হলে জলাবদ্ধতা দূর হবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।


খুলনা নাগরিক কমিটির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট বাবুল হাওলাদার অভিযোগ করেন, "উন্নয়নের নামে অর্থ খরচ হলেও কাজ হচ্ছে না। কেসিসির আন্তরিকতার ঘাটতি রয়েছে।"


কুয়েটের নগর পরিকল্পনা বিভাগের অধ্যাপক ড. তুষার কান্তি রায় বলেন, খুলনার জলাবদ্ধতা এখন মৌসুমি সমস্যা নয়, বরং এটি একটি দীর্ঘমেয়াদি সংকটে পরিণত হয়েছে। তিনি বলেন, অপরিকল্পিত নগরায়ণের ফলে প্রাকৃতিক নিষ্কাশনের পথ বন্ধ হয়ে গেছে। গত এক দশকে নগরীর চারপাশে ৫৯ বর্গকিলোমিটার এলাকা অপরিকল্পিতভাবে সম্প্রসারিত হয়েছে, যেগুলোতে নেই কোনো সঠিক ড্রেনেজ ব্যবস্থা। ফলে চাপ বেড়েছে মূল শহরেও।


ওয়ার্ল্ড ক্লাইমেট রিস্ক ইনডেক্স অনুযায়ী, খুলনা বিশ্বের অন্যতম জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ নগরীগুলোর একটি। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব এতে আরও বাড়াচ্ছে ঝুঁকি। তাই পুরনো প্রকল্পের ধারা নয়, প্রয়োজন টেকসই, প্রকৃতিবান্ধব ও গণমুখী পরিকল্পনার। নগরবাসীর বাস্তব অভিজ্ঞতা ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রেক্ষাপট বিবেচনায় নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি সমাধানই এখন সময়ের দাবি।