রংপুরে শিক্ষক পরিবার হত্যা: পুলিশের ব্যাখ্যায় আস্থা নেই স্বজন-স্থানীয়দের
রংপুরে শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী ও তার পরিবারের চার সদস্যকে হত্যার ঘটনায় পুলিশের দেওয়া ব্যাখ্যায় আস্থা রাখতে পারছেন না স্বজন ও স্থানীয়রা। তাদের দাবি, এ ঘটনায় গ্রেপ্তার সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাসকে কখনো মাদক সেবন করতে দেখা যায়নি। ফলে পুলিশের প্রাথমিক তদন্তের সঙ্গে ঘটনার বাস্তবতার মিল নেই বলে মনে করছেন তারা।
শনিবার রংপুরের কামাল কাছনা মাছুয়াপাড়া এলাকায় শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী ও তার পরিবারের চারজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ঘটনার পর থেকেই এলাকায় শোক ও উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে।
পুলিশের দাবি, মাদক সেবনের বিষয়টি দেখে ফেলায় চারজনকে হত্যা করা হয়েছে। তবে স্থানীয়দের অনেকেই এ বক্তব্য নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তাদের মতে, প্রকৃত হত্যাকারীরা আড়ালে থেকে যেতে পারে এবং গ্রেপ্তার দুই ব্যক্তিকে অন্য কোনো কারণে ফাঁসানো হয়ে থাকতে পারে।
এলাকাবাসীর একজন বলেন, গ্রেপ্তার হওয়া দুই ব্যক্তিকে নিয়ে পুলিশের বক্তব্য তাদের কাছে অবিশ্বাস্য মনে হচ্ছে। পুরো ঘটনাটি সাজানো বলেও সন্দেহ প্রকাশ করেন তিনি।
স্থানীয় এক তরুণের দাবি, হত্যাকাণ্ডের আলামত ও তদন্ত নিয়ে এখনো অনেক প্রশ্নের উত্তর পাওয়া যায়নি। আরেক শিক্ষার্থী বলেন, প্রকৃত অপরাধীদের আড়াল করে অন্যদের দায়ী করা হচ্ছে কি না, সে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।
এদিকে, শনিবার রাতে চারজনের মরদেহ উদ্ধারের পর সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে আদালতে তারা স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
রংপুর কোতয়ালী থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মিলন চ্যাটার্জি বলেন, সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে আসামিদের আদালতে হাজির করা হলে তারা নিজেদের দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন। মামলার তদন্ত এখনো চলমান রয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে আসামিরা রাজনৈতিক উদ্দেশ্য, ডাকাতি কিংবা কোনো ধরনের বিরোধের কথা উল্লেখ করেননি।
রংপুরের পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ আব্দুল মাবুদ বলেন, আসামিরা ইয়াবা কেনার জন্য একটি বাটন ফোন বন্ধক রেখে টাকা নিয়েছিল। পরে হত্যার পর পাওয়া অর্থের অংশ দিয়ে পরদিন তারা ওই মোবাইল ফোনটি ছাড়িয়ে নেয়।
তবে হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ এবং এর সঙ্গে আরও কেউ জড়িত কি না, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত অব্যাহত রেখেছে পুলিশ ও সিআইডি।
এদিকে ময়নাতদন্তে চারজনকেই শ্বাসরোধে হত্যা করার প্রাথমিক তথ্য পাওয়া গেছে। রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. বাবলু কিশোর বিশ্বাস জানান, ময়নাতদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় নমুনা সংগ্রহ করে সিআইডি ল্যাবে পাঠানো হবে। ল্যাবের প্রতিবেদন পাওয়ার পর চূড়ান্ত মতামত দেওয়া হবে।
প্রকৃত হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে সোমবারও বিক্ষোভ করেছে রংপুর জিলা স্কুলের শিক্ষার্থীরা।