আশাশুনিতে সাতদিনের বৃষ্টিতে প্লাবিত জনপদ, পানিবন্দি হাজারো মানুষ
সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলায় সাতদিন ধরে টানা বৃষ্টিতে সৃষ্টি হয়েছে ভয়াবহ জলাবদ্ধতা। নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে ঘরবাড়ি, মাছের ঘের এবং সবজির ক্ষেত পানির নিচে তলিয়ে গেছে। এতে হাজারো মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন, দেখা দিয়েছে সুপেয় পানির সংকট ও স্যানিটেশন সমস্যাও।
উপজেলার বুধহাটা, কুল্যা, দরগাহপুর, কাদাকাটি, আশাশুনি সদর, শ্রীউলা, খাজরা, আনুলিয়া, প্রতাপনগর, বড়দল ও শোভনালী ইউনিয়নের অধিকাংশ এলাকায় বসতঘর, রান্নাঘর, টিউবওয়েল ও চলাচলের রাস্তা তলিয়ে গেছে। মাছের ঘেরের বাঁধ ডুবে যাওয়ায় বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছেন খামারিরা। অনেক জায়গায় বাঁধের উপর নেটজাল দিয়ে মাছ রক্ষার শেষ চেষ্টা চালানো হচ্ছে।
বুধহাটা গ্রামের বাসিন্দা অ্যাডভোকেট শহিদুল ইসলাম বলেন, “বেতনা নদী খননের কাজ এখনো শেষ না হওয়ায় এবং নদীতে বাঁধ দেওয়ার ফলে পানি নামতে পারছে না। এর ফলেই জলাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে।”
নৈকাটি গ্রামের মোশাররফ হোসেন বলেন, “বিলের পানি নিষ্কাশনের জন্য খালের পলিমাটি সরানো জরুরি। আশপাশের পানি মরিচ্চাপ নদীতে ফেলানোর ব্যবস্থা নিতে হবে।”
নাগরিক নেতা ইয়াহিয়া ইকবাল বলেন, “নেটপাটা অপসারণ, খাল-নদী খনন, স্লুইসগেট সংস্কার ও দুর্নীতি প্রতিরোধে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে হবে।”
উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা সত্যজিত মজুমদার জানান, “বেশিরভাগ ঘেরই পানির নিচে চলে গেছে। মালিকরা নেটজাল ব্যবহার করে মাছ রক্ষার চেষ্টা করছেন।”
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কৃষ্ণা রায় বলেন, “নদীর বাঁধগুলো পরিদর্শন করা হয়েছে। বাঁধ রক্ষায় পানি উন্নয়ন বোর্ড ও জেলা প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ চলছে। বেতনা ও মরিচ্চাপ নদী ও খাল খনন এবং কালভার্ট নির্মাণের কাজও চলমান রয়েছে। তবে একটানা বৃষ্টির কারণে পানি নিষ্কাশনে সমস্যা হচ্ছে। দুর্যোগ মোকাবেলায় সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালানো হবে।”