বুধবার , ২৬ আগস্ট ২০২৬
বুধবার , ২৬ আগস্ট ২০২৬
হোমসারা দেশখুলনায় এক সপ্তাহে ৫ খুন: মাদক, আধিপত্য ও প্রতিশোধে কাঁপছে নগরী

খুলনায় এক সপ্তাহে ৫ খুন: মাদক, আধিপত্য ও প্রতিশোধে কাঁপছে নগরী

favicon
অনলাইন সংস্করণ
খুলনায় এক সপ্তাহে ৫ খুন: মাদক, আধিপত্য ও প্রতিশোধে কাঁপছে নগরী

গত ১ আগস্ট খুলনার সোনাডাঙা সবুজবাগ এলাকায় পরিবারের সামনে মনোয়ার হোসেন টগরকে (২৬) ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, চার যুবক টগরের বাড়িতে ঢুকে ৪ মিনিটের মধ্যে খুন করে পালিয়ে যায়। পুলিশ জানায়, মাদক ও এলাকার আধিপত্য নিয়ে বিরোধে তিনি নিহত হন। তিনি নিজেও পাঁচটি মামলার আসামি ছিলেন।


এরপর ২ আগস্ট পারিবারিক কলহে দিঘলিয়ার এক গ্রামে ভ্যানচালক আলামিন সিকদারকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। ৩ আগস্ট মহেশ্বরপাশা খানাবাড়িতে আল আমিন (৪০) নামে একজনকে গুলি করে ও গলা কেটে হত্যা করা হয়। পুলিশ জানায়, আল আমিনের বিরুদ্ধেও মাদকের একাধিক মামলা রয়েছে।


একই রাতে কাস্টমঘাটে সেলুনের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা সোহেল (২৮) নামের এক যুবককে গুলি করে মোটরসাইকেলে আসা মুখোশধারীরা। পুলিশ জানায়, সোহেল স্থানীয় একটি সন্ত্রাসী গ্রুপের সদস্য এবং মাদক ও টাকার লেনদেন নিয়ে বিরোধে হামলার শিকার হন।

৫ আগস্ট সঙ্গীতা সিনেমা হলের নিচে সাবেক চরমপন্থী নেতা শেখ শাহাদাত হোসেনকে গুলি করে ও কুপিয়ে হত্যা করা হয়। তিনি আগে চরমপন্থী দলে যুক্ত ছিলেন এবং জামিনে মুক্ত হয়ে ভাঙারির ব্যবসা করছিলেন।


খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গত এক বছরে খুলনায় ৩১টি হত্যাকাণ্ড ঘটেছে, যার মধ্যে অন্তত ১১টির পেছনে রয়েছে মাদক ও চাঁদাবাজদের আধিপত্য বিস্তার। কিছু অপরাধী কারাগার বা বিদেশ থেকে চক্র পরিচালনা করছে। এতে যুক্ত রয়েছে ‘গ্রেনেড বাবু’, ‘নুর আজিম’, ‘পলাশ’, ‘আশিক’ গ্রুপসহ একাধিক চরমপন্থী দল।


নাগরিক সমাজের সদস্য মো. বাবুল হাওলাদার বলেন, অপরাধীরা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রস্তুতির অভাব এবং বিচারহীনতার সুযোগ নিচ্ছে। খুলনা এখন কিশোর অপরাধ, মাদক আধিপত্য ও গ্যাং কালচারে বিপজ্জনক পথে এগোচ্ছে।


খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. তানভীর আহমেদ সোহেল বলেন, পারিবারিক বন্ধন দুর্বল হওয়া, মূল্যবোধের অবক্ষয় এবং প্রশাসনের ব্যর্থতাই অপরাধ বৃদ্ধির কারণ। সমাধানে কমিউনিটিকে এগিয়ে আসতে হবে।

খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-কমিশনার মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম জানান, গত এক বছরে ৩১টি হত্যা মামলায় ১৩৫ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অধিকাংশ মামলার তদন্ত চলছে ও আসামিরা ধরা পড়ছে।