শুক্রবার , ০১ মে ২০২৬
শুক্রবার , ০১ মে ২০২৬
হোমস্বাস্থ্যনাটোরে ঘরে ঘরে ভাইরাস জ্বর, হাসপাতালে রোগীর চাপ

নাটোরে ঘরে ঘরে ভাইরাস জ্বর, হাসপাতালে রোগীর চাপ

favicon
অনলাইন সংস্করণ
নাটোরে ঘরে ঘরে ভাইরাস জ্বর, হাসপাতালে রোগীর চাপ

নাটোরের বাগাতিপাড়ায় ঘরে ঘরে ছড়িয়ে পড়ছে ভাইরাসজনিত জ্বর ও ডায়রিয়া। এতে ছোট-বড় নির্বিশেষে সবাই আক্রান্ত হচ্ছেন। পরিবারের একজন আক্রান্ত হলে ক্রমেই অন্য সদস্যদের মাঝেও ছড়িয়ে পড়ছে এ রোগ।

জ্বরের পাশাপাশি শরীরে প্রচণ্ড ব্যথা, সর্দি-কাশি, বমি ও শ্বাসকষ্টের মতো উপসর্গ দেখা দিচ্ছে। বিশেষ করে শিশু, বয়স্ক এবং আগে থেকেই শ্বাসকষ্টে ভুগছেন—তাদের দুর্ভোগ বেশি।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, প্রতিদিন গড়ে ৬৫০–৭০০ রোগী চিকিৎসা নিতে আসছেন। তাদের মধ্যে বেশির ভাগই জ্বর, সর্দি-কাশি, নিউমোনিয়া ও ডায়রিয়ায় আক্রান্ত। ডেঙ্গু ও সাপে কাটা রোগীর সংখ্যাও দেখা যাচ্ছে।

রবিবার (১৭ আগস্ট) সকালে হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, সকাল থেকেই জরুরি বিভাগ ও বহির্বিভাগে রোগীদের দীর্ঘ লাইন। শিশু ও বয়স্কদের নিয়ে স্বজনদের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। হাসপাতালের ৫০ শয্যার মধ্যে কার্যকর শয্যা মাত্র ৩১টি থাকায় অনেক রোগীকেই মেঝে ও বারান্দায় চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। কেউ কেউ বাধ্য হয়ে বেসরকারি ক্লিনিকেও যাচ্ছেন।

নার্সরা জানান, প্রতিদিন ৬০–৭০ জন রোগী ভর্তি হচ্ছেন। শয্যা সংকটে তাদের হিমশিম খেতে হচ্ছে। অধিকাংশ রোগী জ্বর, সর্দি-কাশি, নিউমোনিয়া ও ডায়রিয়ায় আক্রান্ত। কিছু ডেঙ্গু রোগীও ভর্তি রয়েছেন। দ্রুত পূর্ণাঙ্গ ৫০ শয্যা চালুর দাবি জানিয়েছেন তারা।

হাসপাতালে আসা রোগীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, শিশুদের মধ্যে জ্বর ও ডায়রিয়া সবচেয়ে বেশি। কেউ জ্বর-কাশিতে, কেউ আবার বমি ও পাতলা পায়খানায় ভুগছে। শ্বাসকষ্ট বাড়লে রোগীদের ভর্তি হতে হচ্ছে।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিক্যাল অফিসার ডা. রেজাউল করিম বলেন, আবহাওয়া পরিবর্তন ও আর্দ্রতার কারণে ভাইরাসজনিত জ্বর বাড়ছে। আক্রান্তদের অন্যদের থেকে আলাদা রাখা, মাস্ক ব্যবহার, পর্যাপ্ত পানি ও তরল খাবার খাওয়ানো এবং পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার পরামর্শ দেন তিনি।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সূচনা মনোহরা বলেন, বর্ষায় আর্দ্রতা বেশি থাকায় ভাইরাসজনিত ইনফ্লুয়েঞ্জার প্রকোপ বেড়েছে। তবে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। সময়মতো চিকিৎসা নিলে রোগীরা দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠবেন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর দেশব্যাপী জনগণকে সতর্ক থাকতে এবং অসুস্থ হলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়ার পরামর্শ দিয়েছে।