শুক্রবার , ০১ মে ২০২৬
শুক্রবার , ০১ মে ২০২৬
হোমস্বাস্থ্যপ্রতি হাজারে ১৯ শিশু জন্মগত হৃদরোগে আক্রান্ত: বিএমইউ গবেষণা

প্রতি হাজারে ১৯ শিশু জন্মগত হৃদরোগে আক্রান্ত: বিএমইউ গবেষণা

favicon
ভোরের আলো ডেস্ক:
প্রতি হাজারে ১৯ শিশু জন্মগত হৃদরোগে আক্রান্ত: বিএমইউ গবেষণা

বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএমইউ) পরিচালিত এক গবেষণায় দেখা গেছে, দেশে শিশুদের মধ্যে জন্মগত হৃদরোগের প্রকোপ উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। দেশের আট বিভাগের আটটি এলাকা থেকে সংগ্রহ করা ৬ হাজার ১৪৬ জন শিশুর স্বাস্থ্য পরীক্ষায় প্রতি হাজারে প্রায় ১৯ জনের জন্মগত হৃদরোগ শনাক্ত হয়েছে। এর মানে প্রতিদিন গড়ে ১৮৬ শিশু এ রোগ নিয়ে জন্ম নিচ্ছে। কারও হার্টে ছিদ্র, আবার কারও ভালভে সমস্যা রয়েছে।


বিএমইউ’র শিশু কার্ডিওলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক তারিকুল ইসলাম জানান, প্রত্যন্ত অঞ্চলে এ রোগের হার তুলনামূলক বেশি। তিনি এর পেছনে শিক্ষার অভাব, স্বাস্থ্যসেবার ঘাটতি ও চিকিৎসা নিতে অনীহাকে প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন।


গবেষণায় দেখা গেছে, আক্রান্ত শিশুদের প্রায় অর্ধেকেরই অস্ত্রোপচার প্রয়োজন হয়। তবে ঢাকার বাইরে জন্মগত হৃদরোগের চিকিৎসার সুযোগ নেই বললেই চলে। রাজধানীতেও মাত্র কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে এ চিকিৎসা দেওয়া হয়।


ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশনের শিশু হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক তওফিক শাহরিয়ার হক বলেন, জন্মের এক মাসের মধ্যে অনেক শিশুর মৃত্যুর অন্যতম কারণ এই রোগ। গর্ভাবস্থায় ইকোকার্ডিওগ্রাফির মাধ্যমে শিশুর হৃদপিণ্ডের অসামঞ্জস্যতা শনাক্ত করা সম্ভব হলেও চিকিৎসা সম্ভব নয়। তবে জন্মের পরপরই কী পদক্ষেপ নিতে হবে, তা পরিকল্পনা করা যায়। কিছু ধরনের জন্মগত হৃদরোগ আছে, যেগুলো এক মাসের মধ্যে চিকিৎসা না হলে শিশুকে বাঁচানো কঠিন।


গবেষণায় দেখা যায়, জন্মগত হৃদরোগের সুনির্দিষ্ট কারণ অজানা। তবে গর্ভাবস্থায় মায়ের পুষ্টিকর খাবার গ্রহণ, চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চলা এবং বায়ুদূষণ এড়িয়ে চলা রোগের ঝুঁকি কমাতে পারে।


ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশনের রোগতত্ত্ব বিভাগের প্রধান অধ্যাপক সোহেল রেজা চৌধুরী বলেন, খাবার ও ফসলে বিভিন্ন কেমিক্যাল ব্যবহারের কারণে ঝুঁকি বাড়তে পারে। এমনকি প্লাসেন্টার ভেতরেও মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া গেছে।


চিকিৎসকদের মতে, জন্মের পর শিশুদের শ্বাসকষ্ট, ঠোঁট ও ত্বক নীলচে বা ধূসর হওয়া, দ্রুত হৃৎস্পন্দন ও ওজন না বাড়া জন্মগত হৃদরোগের গুরুত্বপূর্ণ উপসর্গ। দ্রুত শনাক্ত ও চিকিৎসা দিলে বেশিরভাগ শিশুকেই সুস্থ করা সম্ভব।