শুক্রবার , ০১ মে ২০২৬
শুক্রবার , ০১ মে ২০২৬
হোমতথ্যপ্রযুক্তিঅস্ট্রেলিয়ায় ১৬ বছরের নিচে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিষিদ্ধ: কঠোর বয়স যাচাই ১০ ডিসেম্বর থেকে কার্যকর

অস্ট্রেলিয়ায় ১৬ বছরের নিচে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিষিদ্ধ: কঠোর বয়স যাচাই ১০ ডিসেম্বর থেকে কার্যকর

favicon
অনলাইন সংস্করণ
অস্ট্রেলিয়ায় ১৬ বছরের নিচে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিষিদ্ধ: কঠোর বয়স যাচাই ১০ ডিসেম্বর থেকে কার্যকর

অস্ট্রেলিয়া সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেছে যে আগামী ১০ ডিসেম্বর থেকে দেশটিতে ১৬ বছরের কম বয়সী শিশু-কিশোররা আর কোনো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করতে পারবে না। শিশুদের মানসিক স্বাস্থ্য রক্ষা, অনলাইন নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং ক্ষতিকর কনটেন্টের ঝুঁকি কমানোর লক্ষ্যেই এই কঠোর নিয়ম চালু করা হচ্ছে। সরকার জানিয়েছে, বয়স যাচাই আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে কঠোর করা হবে এবং সব প্ল্যাটফর্মকে বাধ্যতামূলকভাবে নিয়ম মানতে হবে।


বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, অনলাইনে সাইবার বুলিং, গ্রুমিং, ক্ষতিকর কনটেন্ট এবং অস্বাস্থ্যকর আচরণ থেকে শিশু-কিশোরদের সুরক্ষা দিতে বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে অস্ট্রেলিয়া এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী—ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, টিকটক, স্ন্যাপচ্যাট, ইউটিউব, থ্রেডস, রেডিট, এক্স, কিক এবং টুইচসহ মোট ১০টি প্ল্যাটফর্মে ১৬ বছরের নিচের কেউ নতুন অ্যাকাউন্ট খুলতে পারবে না। যারা বর্তমানে এসব প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করছে, তাদের অ্যাকাউন্টও মুছে ফেলতে বা বন্ধ করতে হবে। নিয়ম ভাঙলে সংশ্লিষ্ট প্ল্যাটফর্মকে সর্বোচ্চ ৪৯.৫ মিলিয়ন অস্ট্রেলিয়ান ডলার জরিমানা করা হবে।


বয়স নির্ধারণের জন্য প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোকে ‘যৌক্তিক প্রযুক্তিগত ব্যবস্থা’ নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যদিও নির্দিষ্ট কোনো প্রক্রিয়া বাধ্যতামূলক করা হয়নি, সরকার সম্ভাব্য উপায় হিসেবে—সরকারি আইডি দিয়ে বয়স যাচাই, মুখমণ্ডল বা কণ্ঠ শনাক্তকরণ এবং অনলাইন আচরণ বিশ্লেষণের কথা উল্লেখ করেছে। শুধুমাত্র ব্যবহারকারীর লেখা বয়স বা বাবা-মায়ের অনুমতির ভিত্তিতে আর অ্যাকাউন্ট খোলার সুযোগ থাকবে না।


মেটা জানিয়েছে, তারা ইতোমধ্যেই ব্যবস্থা নেওয়া শুরু করেছে এবং ৪ ডিসেম্বর থেকে অস্ট্রেলিয়ার কিশোরদের অ্যাকাউন্ট বন্ধ করা হবে। যদি কোনো অ্যাকাউন্ট ভুলভাবে বন্ধ হয়ে যায়, তবে সরকার অনুমোদিত পরিচয়পত্র বা ভিডিও সেলফির মাধ্যমে বয়স যাচাই করে অ্যাকাউন্ট পুনরায় সচল করা যাবে। অন্যান্য প্ল্যাটফর্ম এখনও তাদের পরিকল্পনা স্পষ্টভাবে জানায়নি।


তবে এই সিদ্ধান্ত নিয়ে বিতর্কও শুরু হয়েছে। সমালোচকরা বলছেন, নিষেধাজ্ঞা বাস্তবে অনলাইন ঝুঁকি কমাতে যথেষ্ট নয়, কারণ গেমিং প্ল্যাটফর্ম, ডেটিং অ্যাপ বা এআই চ্যাটবট এই নিয়মের আওতায় নেই। অনেক কিশোর আগে থেকেই ভুয়া বয়স, ভিপিএন বা বিকল্প অ্যাপ ব্যবহার করে এসব সীমাবদ্ধতা পাশ কাটানোর অভিজ্ঞতা রাখে।


সব সমালোচনা সত্ত্বেও অস্ট্রেলিয়া সরকার মনে করছে, এই উদ্যোগ শিশু-কিশোরদের অনলাইনে আরও নিরাপদ পরিবেশ গড়ার পথে একটি বড় এবং গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।


ছবি: বিবিসি