কিশোরদের মানসিক ক্ষতির ঝুঁকি জেনেও ব্যবস্থা নেয়নি মেটা, আদালতে অভিযোগ
ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামের মূল প্রতিষ্ঠান **মেটা** কিশোর-কিশোরীদের মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর তাদের প্ল্যাটফর্মের নেতিবাচক প্রভাব সম্পর্কে আগে থেকেই অবগত ছিল, কিন্তু যথাযথ পদক্ষেপ নেয়নি—এমন অভিযোগ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসি অঙ্গরাজ্য।
রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, সোমবার টেনেসির একটি আদালতে শুনানির সময় রাজ্যটির আইনজীবীরা দাবি করেন, মেটার নিজস্ব গবেষণায় দেখা গিয়েছিল যে ইনস্টাগ্রামের অতিরিক্ত ব্যবহার কিছু কিশোর-কিশোরীর মধ্যে বিষণ্নতা, খাদ্যাভ্যাসজনিত সমস্যা এবং আত্মক্ষতির চিন্তা বাড়াতে পারে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, এসব ঝুঁকির তথ্য জানা সত্ত্বেও মেটা এমন কিছু ফিচার চালু রাখে, যা ব্যবহারকারীদের দীর্ঘ সময় প্ল্যাটফর্মে সক্রিয় থাকতে উৎসাহিত করে। এর মধ্যে অটোপ্লে, ইনফিনিট স্ক্রল এবং ঘন ঘন নোটিফিকেশন উল্লেখযোগ্য।
আদালতে টেনেসির আইনজীবী টম কার্টমেল বলেন, ব্যবহারকারীদের বারবার অ্যাপে ফিরিয়ে আনতেই এসব ফিচার পরিকল্পিতভাবে তৈরি করা হয়েছে। শুনানির সময় বিষয়টি তুলে ধরতে তিনি আদালতেই মোবাইলের নোটিফিকেশনের শব্দ বাজিয়ে শোনান।
মামলায় টেনেসি মেটার বিরুদ্ধে আর্থিক জরিমানা আরোপের পাশাপাশি কিশোর-কিশোরীদের সুরক্ষায় প্ল্যাটফর্মে প্রয়োজনীয় পরিবর্তনের নির্দেশ দেওয়ার আবেদন জানিয়েছে।
তবে সব অভিযোগ অস্বীকার করেছে মেটা। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, তারা ব্যবহারকারীদের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয় এবং সময় নিয়ন্ত্রণ, অভিভাবকদের তদারকির সুবিধা ও নিরাপদ ব্যবহার নিশ্চিত করতে বিভিন্ন টুল চালু করেছে।
মেটা আরও বলেছে, কিশোর-কিশোরীদের অনলাইন নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব শুধু প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের নয়; পরিবার, সমাজ এবং সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সম্মিলিত দায়িত্ব রয়েছে।
সূত্র: রয়টার্স।