যে কাজে পিএইচডিধারীদের লাগত দুই মাস, এআই করছে মাত্র ২-৩ ঘণ্টায়
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) নিয়ে একসময় সংশয় প্রকাশ করলেও এখন এর কার্যকারিতায় মুগ্ধ বিশ্বের শীর্ষ হেজ ফান্ড প্রতিষ্ঠান সিটাডেল-এর প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কেন গ্রিফিন। তার দাবি, প্রতিষ্ঠানের একটি এআই সিস্টেম এমন কাজ মাত্র দুই থেকে তিন ঘণ্টায় সম্পন্ন করছে, যা আগে মাস্টার্স বা পিএইচডিধারী গবেষকদের করতে ছয় থেকে আট সপ্তাহ সময় লাগত।
সম্প্রতি স্ট্যানফোর্ড বিজনেস স্কুলে এক আলোচনায় কেন গ্রিফিন জানান, শুরুতে তিনি এআই নিয়ে অতিরিক্ত উচ্ছ্বাসকে গুরুত্ব দেননি। এমনকি চলতি বছরের শুরুতে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের দাভোস সম্মেলনে তিনি এআইকে কঠোর ভাষায় সমালোচনাও করেছিলেন। তবে নিজের প্রতিষ্ঠানে বাস্তব প্রয়োগ দেখে তার সেই ধারণা পুরোপুরি বদলে গেছে।
তার ভাষ্য, প্রতিষ্ঠানের এক কর্মী একটি **এজেন্টিক এআই** সিস্টেম তৈরি করেছেন, যা ফাইন্যান্স বিষয়ক গবেষণাপত্র পুনর্গঠন ও বিশ্লেষণের মতো জটিল কাজ প্রায় স্বয়ংক্রিয়ভাবে সম্পন্ন করতে সক্ষম।
গ্রিফিন বলেন, আগে এ ধরনের গবেষণামূলক কাজ শেষ করতে মাস্টার্স ও পিএইচডিধারী কর্মীদের ছয় থেকে আট সপ্তাহ সময় লাগত। অথচ নতুন এআই সিস্টেম একই কাজ মাত্র দুই থেকে তিন ঘণ্টার মধ্যেই সম্পন্ন করছে। তার মতে, কয়েক বছর আগেও এমন উচ্চমানের বুদ্ধিবৃত্তিক কাজ এআই করতে পারবে—এটি অনেকের কাছেই অকল্পনীয় ছিল।
তবে এই প্রযুক্তিগত অগ্রগতির পরও সিটাডেলে কর্মী ছাঁটাইয়ের কোনো পরিকল্পনা নেই বলে জানান তিনি। বরং এআইকে কর্মীদের বিকল্প নয়, উৎপাদনশীলতা বাড়ানোর একটি শক্তিশালী সহায়ক হিসেবে দেখছেন। তার বিশ্বাস, এআই ব্যবহারের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানের দক্ষ জনবল আরও বড় পরিসরে এবং জটিল সমস্যা সমাধানে কাজ করতে পারবে।
অন্যদিকে, প্রযুক্তি খাতের অনেক বিশেষজ্ঞের মতে, ভবিষ্যতে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে অনেক পুনরাবৃত্তিমূলক ও বিশ্লেষণধর্মী কাজ এআইয়ের মাধ্যমে সম্পন্ন হওয়ায় চাকরির বাজারে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। অ্যামাজনের মেশিন লার্নিং বিভাগের ভাইস প্রেসিডেন্ট রাজীব রাস্তোগিও সম্প্রতি মন্তব্য করেছেন, বর্তমানে মানুষের হাতে সম্পন্ন হওয়া বহু কাজ ধীরে ধীরে এআই দ্বারা প্রতিস্থাপিত হবে, ফলে একই কাজ কম সময়, কম খরচ ও কম শ্রমে সম্পন্ন করা সম্ভব হবে।