বুধবার , ২৪ জুন ২০২৬
বুধবার , ২৪ জুন ২০২৬
হোমরাজনীতিবামপন্থীদের নতুন জোট ‘গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্ট’ গঠনের ঘোষণা

বামপন্থীদের নতুন জোট ‘গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্ট’ গঠনের ঘোষণা

favicon
অনলাইন সংস্করণ
বামপন্থীদের নতুন জোট ‘গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্ট’ গঠনের ঘোষণা

চলমান দুর্নীতি ও লুণ্ঠননির্ভর রাজনীতির বিকল্প হিসেবে শোষণমুক্ত সমতার সমাজ গড়তে বামপন্থী রাজনৈতিক দলগুলো ‘গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্ট’ নামে নতুন জোট গঠনের ঘোষণা দিয়েছে। শনিবার রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে বাম গণতান্ত্রিক জোট ও বাংলাদেশ জাসদ আয়োজিত জাতীয় কনভেনশন থেকে এ ঘোষণা আসে।


কনভেনশনে বাম-প্রগতিশীল গণতান্ত্রিক দল ও সংগঠনগুলোকে অন্তর্ভুক্ত করে একটি বৃহত্তর যৌথ প্ল্যাটফর্ম তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়। ঘোষণাপত্র পাঠের পাশাপাশি আন্দোলন পরিচালনা এবং আগামী জাতীয় নির্বাচনে প্রার্থী দেয়ার লক্ষ্যে ৭ দফা রাজনৈতিক প্রস্তাব গৃহীত হয়।


বাম গণতান্ত্রিক জোটের সমন্বয়ক ও বাসদের সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশীদ ফিরোজ কনভেনশনের সভাপতিত্ব করেন। তিনি বলেন, জুলাই সনদে সংবিধানের চার মূলনীতি বাদ দেওয়ার প্রস্তাব এবং অন্তর্বর্তী সরকারের সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ড মুক্তিযুদ্ধের চেতনার পরিপন্থী। তিনি দাবি করেন, চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানে ফ্যাসিবাদ পতন হলেও এর প্রত্যাশিত পরিবর্তন আজও বাস্তবায়িত হয়নি।


সিপিবির প্রেসিডিয়াম সদস্য মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম বলেন, দেশ এখনো গভীর সংকট, নৈরাজ্য, দুর্নীতি ও লুঠতন্ত্রে নিমজ্জিত। এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে বাম-প্রগতিশীল শক্তির ঐক্যে ‘রেইনবো কোয়ালিশন’ গড়ে তোলা জরুরি।


বাংলাদেশ জাসদের সভাপতি শরীফ নুরুল আম্বিয়া বলেন, আজ থেকে বাম দলগুলোর পরিচয় হবে গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্টের মানুষ হিসেবে। তিনি অভিযোগ করেন, সাম্প্রতিক বিভিন্ন সহিংস কর্মকাণ্ডে প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূসের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ সম্পৃক্ততা রয়েছে বলে জনগণ মনে করে।


কনভেনশনের ঘোষণাপত্র পাঠ করেন সিপিবির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ কাফী রতন। এতে বলা হয়, দেশের ভবিষ্যৎ নিরাপদ করতে হলে প্রগতিশীল গণতান্ত্রিক ধারার সরকার প্রয়োজন। এ লক্ষ্যে দেশপ্রেমিক প্রগতিশীল-বাম দল, সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন, শ্রমিক-পেশাজীবী সংগঠন, নারী সংগঠন ও বিভিন্ন জাতিসত্তার প্রতিনিধিদের নিয়ে ‘জনগণের নিজস্ব রাজনৈতিক শক্তি’ গড়ে তোলার আহ্বান জানানো হয়।


বাসদ (মার্কসবাদী)'র সমন্বয়ক মাসুদ রানা সাম্প্রদায়িক উগ্রবাদ ও সাংস্কৃতিক অবক্ষয়ের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, মুক্তচিন্তা ও সংস্কৃতির ওপর হামলা কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না।


কনভেনশনে সিদ্ধান্ত হয়, সারাদেশে আলোচনার মাধ্যমে যুক্তফ্রন্টের কাঠামো ও পরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হবে। জেলা-উপজেলায় মতবিনিময় সভার মাধ্যমে ‘পরিচালনা কমিটি’ গঠিত হবে এবং যৌথ নেতৃত্বের ভিত্তিতে যুক্তফ্রন্ট পরিচালিত হবে।


সভায় বক্তৃতা করেন অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী, বিপ্লবী কমিউনিস্ট লীগের সাধারণ সম্পাদক ইকবাল কবীর জাহিদ, কবি মোহন রায়হান, ঐক্য ন্যাপ সভাপতি অ্যাডভোকেট এস এম এ সবুরসহ বিভিন্ন প্রগতিশীল রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও পেশাজীবী সংগঠনের নেতারা।