বুধবার , ২৪ জুন ২০২৬
বুধবার , ২৪ জুন ২০২৬
হোমরাজনীতিবুকভরা হতাশায় এনসিপি থেকে পদত্যাগ আরিফুল ইসলাম তালুকদারের

বুকভরা হতাশায় এনসিপি থেকে পদত্যাগ আরিফুল ইসলাম তালুকদারের

favicon
অনলাইন সংস্করণ
বুকভরা হতাশায় এনসিপি থেকে পদত্যাগ আরিফুল ইসলাম তালুকদারের

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় কমিটির দক্ষিণাঞ্চলের সংগঠকের পদ থেকে ‘বুকভরা হতাশা’ নিয়ে পদত্যাগ করেছেন আরিফুল ইসলাম তালুকদার। ২৮ নভেম্বর তিনি দলের আহ্বায়কের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন। চিঠিতে তিনি অভিযোগ করেন, দল অভ্যন্তরীণ দুর্বলতা কাটিয়ে উঠতে ব্যর্থ হয়েছে; বরং ক্ষমতার অপব্যবহার, সিদ্ধান্তহীনতা, অনিয়ম ও আচরণগত সংকট আরও বেড়েছে।


আরিফুল জানান, ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে তার সরাসরি ভূমিকা ছিল। তার ভাষায়, তরুণদের শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ করে নতুন রাজনৈতিক কাঠামো গড়ার স্বপ্ন নষ্ট হয়েছে নেতৃত্বের হীনমন্যতা ও অদূরদর্শী পদক্ষেপের কারণে।


পদত্যাগপত্রে তিনি দাবি করেন, আন্দোলনের একই প্রেক্ষাপটে উঠে আসা কেন্দ্রীয় নেতাদের একটি অংশ অস্বাভাবিকভাবে অর্থসম্পদের মালিক হয়েছেন, যা সাধারণ মানুষের চোখে ধরা পড়ে এবং আন্দোলনের শরিকদের মধ্যে বৈষম্য সৃষ্টি করেছে। এতে জাতীয় ঐক্য বিনষ্ট হয়েছে এবং ‘জুলাই বিপ্লব’ তার উজ্জ্বলতা হারিয়েছে।


তিনি আরও অভিযোগ করেন, জুলাইয়ের আহতদের তালিকা তৈরিতে অবিচার করা হয়েছে। রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র এখনো নির্দিষ্ট এক বলয়ের নিয়ন্ত্রণে, সচিবালয়সহ ৯০ শতাংশ জায়গায় ‘পুরোনো ফ্যাসিবাদী আমলারা’ বহাল রয়েছে। গণহত্যার বিচার দৃশ্যমান নয় এবং অভিযুক্ত রাজনৈতিক দলগুলোর বিরুদ্ধেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।


আরিফুল বলেন, গত তিনটি নির্বাচনে ‘মাফিয়ার হয়ে কাজ করা’ আমলাদের দিয়েই আবারও নির্বাচনী প্রস্তুতি চলছে, অথচ এসব বিষয়ে দল নীরব। নেতৃত্বের অনিয়ম, ক্ষমতার অপব্যবহার ও দুর্নীতির দায়ভার তাকেও নিতে হচ্ছে—যা তাকে গভীরভাবে হতাশ করেছে।


দলের নেতৃত্বকে বিপ্লবোত্তর ব্যর্থতার জন্য দায়ী করে তিনি লেখেন, অভ্যুত্থানে যাঁরা দীর্ঘদিন কাজ করেছেন, তাদের স্বীকৃতি লোপাট করা হয়েছে। এমনকি দেশের দায়িত্ব হিসেবে অন্তর্বর্তীকালীন উপদেষ্টা পরিষদ গঠনের কাজেও দল ব্যর্থ হয়েছে। দেড় বছরে ব্যর্থতা ও অনৈক্য ছাড়া তেমন কোনো সাফল্য নেই।


আরিফুল দাবি করেন, এনসিপি তারুণ্যের শক্তিকে একত্রিত করতে ব্যর্থ হয়েছে, জাতীয় ঐক্য দুর্বল করেছে এবং পুরোনো ক্ষমতাকেন্দ্রিক রাজনৈতিক সংস্কৃতি বজায় রেখেছে। তিনি অভিযোগ করেন, দলের নিয়ন্ত্রণ এমন একটি বলয়ের হাতে চলে গেছে যারা জনমানসের অনুভূতি থেকে বিচ্ছিন্ন এবং দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের ধর্মীয় অনুভূতির প্রতি উদাসীন।


চিঠির শেষাংশে তিনি লেখেন, “সব মিলিয়ে ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক পথচলায় এই দলের সঙ্গে থাকার প্রয়োজন বোধ করছি না। তাই বুকভরা হতাশা নিয়ে পদত্যাগ করছি।”


বিডি প্রতিদিন/আশিক