কিশোরগঞ্জ-৫ আসনে প্রার্থীর মনোনয়ন চ্যালেঞ্জ, ইসিতে আপিল ও শুনানি আজ
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে কিশোরগঞ্জ-৫ আসনের প্রার্থী সৈয়দ এহসানুল হুদার মনোনয়নপত্রকে কেন্দ্র করে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) বিরুদ্ধে গুরুতর অনিয়ম, তথ্য গোপন ও জালিয়াতির অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগকারীদের প্রশ্ন—মনোনয়নপত্রের সঙ্গে দাখিল করা হলফনামায় স্বাক্ষর, তারিখ ও ছবি না থাকা, একাধিক ঘর ফাঁকা রাখা এবং ভুল তথ্য থাকা সত্ত্বেও কীভাবে সেটিকে বৈধ ঘোষণা করা হলো?
এ বিষয়ে ওই আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী শেখ মুজিবুর রহমান ইকবাল নির্বাচন কমিশনে আনুষ্ঠানিক আপিল করেছেন। তাঁর অভিযোগ, ইসির ওয়েবসাইটে প্রথমে যে হলফনামা প্রকাশ করা হয়েছিল, তাতে একাধিক ত্রুটি ও অনিয়ম ছিল। কিন্তু বিষয়টি গণমাধ্যমে প্রকাশের পর রাতারাতি সেটি সরিয়ে নতুন হলফনামা আপলোড করা হয়েছে। এতে করে প্রার্থীর ভুল সংশোধনের দায় নিয়ে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
নির্বাচনী বিধি অনুযায়ী, হলফনামার কোনো অংশ ফাঁকা রাখা যাবে না এবং তা সম্পূর্ণ ও যথাযথভাবে পূরণ, সত্যায়িত, স্বাক্ষরিত ও তারিখসহ ছবি সংযুক্ত থাকতে হবে। অভিযোগে বলা হয়, সৈয়দ এহসানুল হুদার হলফনামায় এসব মৌলিক শর্ত একাধিকবার লঙ্ঘিত হয়েছে।
আপিলে উল্লেখ করা ত্রুটিগুলোর মধ্যে রয়েছে—৩ নম্বর কলামের ‘খ’ অংশে ভুল তথ্য, ‘গ’ অংশ অসম্পূর্ণ; ৭ নম্বর কলামের ‘ক’ অংশে ভুল তথ্য, ‘খ’ অংশ অসম্পূর্ণ, ‘গ’ অংশ পুরোপুরি ফাঁকা; ৮ নম্বর কলাম ফাঁকা রাখা এবং ১০ নম্বর কলামের ‘ক’ অংশে ভুল তথ্য প্রদান। অভিযোগকারীর ভাষ্য অনুযায়ী, এসব ত্রুটি সাধারণ ভুল নয়, বরং সরাসরি আইন লঙ্ঘনের শামিল।
এতে রিটার্নিং অফিসারের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। কারণ ৩ জানুয়ারি যাচাই-বাছাইয়ের দিন এসব ত্রুটি থাকা সত্ত্বেও কোনো আপত্তি না তুলে মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়। স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে এ নিয়ে ব্যাপক আলোচনা ও প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে।
সবচেয়ে বিতর্কিত অভিযোগ হলো—গণমাধ্যমে বিষয়টি প্রকাশের পর ইসির ওয়েবসাইট থেকে আগের হলফনামা সরিয়ে সংশোধিত আরেকটি হলফনামা প্রকাশ করা হয়েছে। অভিযোগকারীর দাবি, যে হলফনামার ত্রুটির কারণে মনোনয়ন বাতিল হওয়ার কথা ছিল, সেটিই পরে পরিবর্তন করা হয়েছে।
সৈয়দ এহসানুল হুদার বিরুদ্ধে উত্থাপিত অনিয়ম, তথ্য গোপন ও জালিয়াতির অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে মনোনয়নপত্র বাতিলের দাবি জানানো হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে নির্বাচন কমিশনের শুনানি আজ সোমবার দুপুর ১২টার দিকে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। কমিশনের সিদ্ধান্তের দিকে এখন তাকিয়ে কিশোরগঞ্জ-৫ আসনের ভোটার ও রাজনৈতিক মহল।
সূত্র: বাংলাদেশ প্রতিদিন