বুধবার , ১৫ জুলাই ২০২৬
বুধবার , ১৫ জুলাই ২০২৬
হোমঅর্থনীতি-ব্যবসারমজান সামনে রেখেই সক্রিয় বাজার সিন্ডিকেট, বাড়ছে নিত্যপণ্যের দাম

রমজান সামনে রেখেই সক্রিয় বাজার সিন্ডিকেট, বাড়ছে নিত্যপণ্যের দাম

favicon
ভোরের আলো ডেস্ক:
রমজান সামনে রেখেই সক্রিয় বাজার সিন্ডিকেট, বাড়ছে নিত্যপণ্যের দাম

বাংলাদেশে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি যেন সাধারণ মানুষের নিত্যদিনের দুশ্চিন্তার নাম। বাজারে অস্থিরতা ও নিয়ন্ত্রণহীনতা এখন প্রায় নিয়মিত ঘটনায় পরিণত হয়েছে। রমজান সামনে রেখে এই পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক রূপ নিচ্ছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, বাজারে সক্রিয় সিন্ডিকেটের কারণেই দ্রব্যমূল্য সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে।

অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর দেড় বছরে নিত্যপণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে কার্যকর কোনো অগ্রগতি দেখা যায়নি। বরং ডিম, মুরগি, পেঁয়াজ, সবজি, ভোজ্যতেল, চিনি ও চালের মতো পণ্যের দাম বেড়েই চলেছে। বিশেষ করে ডিম ও পেঁয়াজের বাজার সবচেয়ে বেশি অস্থিতিশীল। অল্প কয়েকটি পণ্যের দাম সামান্য কমলেও সার্বিকভাবে বাজারে স্বস্তি ফেরেনি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, মূল্যবৃদ্ধির প্রধান কারণ অসাধু ব্যবসায়ী ও মধ্যস্বত্বভোগীদের সিন্ডিকেট। কৃষিপণ্য উৎপাদনের পর বাজারজাতকরণ পর্যায়ে ফড়িয়া ও আড়তদারদের নিয়ন্ত্রণে পড়ে পণ্য। খাদ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, কৃষিপণ্যের মুনাফার প্রায় ৮০ শতাংশই ভোগ করে মধ্যস্বত্বভোগীরা, যেখানে উৎপাদক ও ভোক্তা উভয়ই ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

রমজানকে সামনে রেখে ইতোমধ্যে সবজির বাজার চড়া হয়ে উঠেছে। কাঁচা মরিচ, শসা, টমেটো, ফুলকপি ও শিমের দাম সপ্তাহের ব্যবধানে কেজিতে ১০ থেকে ৩০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। একইভাবে মুরগির দামও বেড়েছে, যা রমজানে সাধারণ মানুষের প্রোটিন চাহিদাকে আরও ব্যয়বহুল করে তুলতে পারে।

পাইকারি বাজারেও মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব স্পষ্ট। চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জসহ বিভিন্ন পাইকারি বাজারে তেল, চিনি, ডাল ও ছোলার দাম বেড়েছে। দেশি ও আমদানি করা পেঁয়াজ, রসুন, আদা এবং ডালের দামও ঊর্ধ্বমুখী।

এদিকে চট্টগ্রাম বন্দরে পণ্য খালাসে জটিলতা পরিস্থিতিকে আরও ঘোলাটে করে তুলেছে। বহির্নোঙর ও কুতুবদিয়া চ্যানেলে শতাধিক জাহাজ আটকা পড়ে রয়েছে। এর ফলে রমজান-সংশ্লিষ্ট খাদ্যপণ্যের সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে। লাইটার জাহাজের সংকটের কারণে পণ্য খালাসে স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় কয়েকগুণ বেশি সময় লাগছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, এখানেও সিন্ডিকেট সক্রিয় রয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, রমজান ও জাতীয় নির্বাচন—এই দুটি গুরুত্বপূর্ণ সময় একসঙ্গে আসায় বাজার ব্যবস্থাপনায় সামান্য অবহেলাও বড় ধরনের সামাজিক অসন্তোষ সৃষ্টি করতে পারে। তাই বাজার সিন্ডিকেট ভাঙতে রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার বিকল্প নেই।