শুক্রবার , ২৬ জুন ২০২৬
শুক্রবার , ২৬ জুন ২০২৬
হোমবিশ্বছুরি হামলার অভিযোগে গ্রেপ্তার নরওয়ের ক্রাউন প্রিন্সেসের ছেলে মারিয়াস হোইবি, শুরু হচ্ছে ধর্ষণ মামলার বিচার

ছুরি হামলার অভিযোগে গ্রেপ্তার নরওয়ের ক্রাউন প্রিন্সেসের ছেলে মারিয়াস হোইবি, শুরু হচ্ছে ধর্ষণ মামলার বিচার

favicon
ভোরের আলো ডেস্ক:
ছুরি হামলার অভিযোগে গ্রেপ্তার নরওয়ের ক্রাউন প্রিন্সেসের ছেলে মারিয়াস হোইবি, শুরু হচ্ছে ধর্ষণ মামলার বিচার

নরওয়ের ক্রাউন প্রিন্সেস মেটে-ম্যারিটের বড় ছেলে মারিয়াস বোর্গ হোইবিকে ছুরি হামলার অভিযোগে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ধর্ষণ মামলার বিচার শুরুর মাত্র কয়েক দিন আগে নতুন এই অভিযোগে তাকে আটক করা হলো। মঙ্গলবার স্থানীয় সময় অসলোতে তার বিচার শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।


নরওয়ের পুলিশ ২৯ বছর বয়সী মারিয়াস হোইবিকে চার সপ্তাহের রিমান্ডে পাঠিয়েছে। অসলো পুলিশ জানায়, শারীরিক হামলা, ছুরি দেখিয়ে হুমকি দেওয়া এবং আদালতের জারি করা নিষেধাজ্ঞা ভঙ্গের অভিযোগে রবিবার সন্ধ্যায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ধারণা, তার বিরুদ্ধে আবারও অপরাধ সংঘটনের ঝুঁকি রয়েছে।


পুলিশের তথ্যমতে, মারিয়াস বোর্গ হোইবির বিরুদ্ধে মোট ৩৮টি অভিযোগ রয়েছে। এর মধ্যে চারটি ধর্ষণ মামলা, সাবেক সঙ্গীর বিরুদ্ধে পারিবারিক সহিংসতা এবং একাধিক নারীর অজান্তে ও অনুমতি ছাড়া ভিডিও ধারণের অভিযোগ অন্তর্ভুক্ত। তবে ধর্ষণসহ গুরুতর অভিযোগগুলো তিনি অস্বীকার করেছেন।


মারিয়াস হোইবি নরওয়ের ক্রাউন প্রিন্সেস মেটে-ম্যারিটের ছেলে এবং সিংহাসনের উত্তরসূরি ক্রাউন প্রিন্স হাকনের সৎ ছেলে। তার বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার বিচার মঙ্গলবার অসলোতে শুরু হয়ে প্রায় সাত সপ্তাহ চলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।


পুলিশ পুনরায় অপরাধ সংঘটনের আশঙ্কায় তাকে চার সপ্তাহ কারাগারে রাখার আবেদন করে। ওসলো জেলা আদালত জানিয়েছে, প্রসিকিউশন বা আদালতের নতুন কোনো সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত অথবা আগামী ২ মার্চ পর্যন্ত তাকে রিমান্ডে রাখা হবে। ওসলো পুলিশের প্রসিকিউটর আন্দ্রেয়াস ক্রুশেভস্কি বলেন, শারীরিক ক্ষতি, ছুরি ব্যবহার করে হুমকি এবং নিষেধাজ্ঞা ভঙ্গের অভিযোগে হোইবিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।


এদিকে, এই গ্রেপ্তারের ঘটনা এমন এক সময়ে ঘটল, যখন ক্রাউন প্রিন্সেস মেটে-ম্যারিট যুক্তরাষ্ট্রে প্রকাশিত জেফ্রি এপস্টিন–সংক্রান্ত নথির কারণে সমালোচনার মুখে রয়েছেন। ওই নথিতে তার নাম প্রায় এক হাজারবার উল্লেখ রয়েছে। জানা গেছে, ২০১১ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত টানা তিন বছর তিনি কুখ্যাত যৌন নিপীড়ক প্রয়াত জেফ্রি এপস্টিনের সঙ্গে যোগাযোগ রেখেছিলেন।


শনিবার দেওয়া এক বিবৃতিতে ক্রাউন প্রিন্সেস বলেন, এপস্টিনের সঙ্গে তার যোগাযোগ ছিল ভুল বিচক্ষণতার ফল এবং এর জন্য তিনি গভীরভাবে অনুতপ্ত। তিনি একে ‘অত্যন্ত লজ্জাজনক’ বলেও উল্লেখ করেন।


নরওয়ের জনপ্রিয় ট্যাবলয়েড ভিজির সাংবাদিক শাজিয়া মাজিদের মতে, এই ইমেইল ও তথ্য প্রকাশ হয়েছে ‘সবচেয়ে খারাপ সময়ে’। তার ভাষায়, মানুষের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ ও হতাশা তৈরি হয়েছে এবং রাজতন্ত্র এখন একটি গুরুতর সংকটের মুখে। তবে তিনি আশা প্রকাশ করেন, রাজা হ্যারাল্ড পঞ্চম, রানী সোনজা ও ক্রাউন প্রিন্স হাকনের পাশে জনগণ থাকবে।


এই প্রেক্ষাপটে মঙ্গলবার নরওয়ের সংসদে রাজতন্ত্র বিলুপ্ত করে প্রজাতন্ত্র গঠনের প্রস্তাব নিয়ে ভোট হওয়ার কথা রয়েছে। যদিও প্রস্তাবটি পাস হওয়ার সম্ভাবনা কম, তবে আগের তুলনায় বেশি সমর্থন পেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।


‘নরওয়ে অ্যাজ আ রিপাবলিক’ সংগঠনের নেতা ক্রেগ আন-স্টকডেল বলেন, এপস্টিন–সংক্রান্ত ইমেইলগুলো রাজতন্ত্রের প্রতি মানুষের আস্থা ভেঙে দিয়েছে এবং রাজপরিবারের জনপ্রিয়তা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।


নরওয়ের প্রধানমন্ত্রী ইয়োনাস গার স্টোরে বলেছেন, নথিতে যাদের নাম এসেছে, তাদের প্রকৃত ঘটনা সম্পর্কে স্বচ্ছ হওয়া উচিত। তিনি বলেন, নথিতে নাম থাকা মানেই অপরাধ প্রমাণিত—এমন নয়। এপস্টিন নথিতে নরওয়ের সাবেক প্রধানমন্ত্রী থরবিয়র্ন ইয়াগলান্ডের নামও উঠে এসেছে। তবে তিনি জানিয়েছেন, এপস্টিনের দ্বীপে যাওয়ার কোনো সফর বাস্তবে হয়নি।


সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান