শুক্রবার , ২৬ জুন ২০২৬
শুক্রবার , ২৬ জুন ২০২৬
হোমবিশ্বনিউ স্টার্টের মেয়াদ শেষ, নতুন বৈশ্বিক অস্ত্র প্রতিযোগিতার আশঙ্কা

নিউ স্টার্টের মেয়াদ শেষ, নতুন বৈশ্বিক অস্ত্র প্রতিযোগিতার আশঙ্কা

favicon
ভোরের আলো ডেস্ক:
নিউ স্টার্টের মেয়াদ শেষ, নতুন বৈশ্বিক অস্ত্র প্রতিযোগিতার আশঙ্কা

রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে স্বাক্ষরিত সর্বশেষ পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ চুক্তি ‘নিউ স্টার্ট’-এর মেয়াদ শেষ হতে যাচ্ছে। এর ফলে বিশ্বজুড়ে নতুন করে অস্ত্র প্রতিযোগিতা শুরু হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, যেখানে চীনও একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিযোগী হিসেবে আবির্ভূত হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১০ সালের ৮ এপ্রিল চেক প্রজাতন্ত্রের রাজধানী প্রাগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা এবং তৎকালীন রুশ প্রেসিডেন্ট দিমিত্রি মেদভেদেভ নিউ স্টার্ট চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। এই চুক্তির মূল উদ্দেশ্য ছিল যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার পারমাণবিক অস্ত্রের সংখ্যা সীমিত রাখা এবং নতুন করে অস্ত্র বৃদ্ধিতে লাগাম টানা।

১৯৬২ সালের কিউবান ক্ষেপণাস্ত্র সংকটের পর থেকে পারমাণবিক সংঘাত নিয়ন্ত্রণে যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার মধ্যে যেসব চুক্তি হয়েছে, তার মধ্যে নিউ স্টার্ট ছিল সর্বশেষ।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ১৯৮৬ সালে বিশ্বে পারমাণবিক ওয়ারহেডের সংখ্যা ছিল ৭০ হাজারেরও বেশি। ২০২৫ সালে তা কমে দাঁড়িয়েছে প্রায় ১২ হাজারে। তবে এই সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়া তাদের পারমাণবিক অস্ত্রভাণ্ডার আধুনিকায়ন করেছে। পাশাপাশি গত এক দশকে চীন তার পারমাণবিক অস্ত্রের মজুত দ্বিগুণেরও বেশি বাড়িয়েছে।

ফেডারেশন অব আমেরিকান সায়েন্টিস্টের নিউক্লিয়ার ইনফরমেশন প্রজেক্টের সহযোগী পরিচালক ম্যাট কর্ডা বলেন, চুক্তিটি নবায়ন না হলে রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের কেউই আর অতিরিক্ত ওয়ারহেড ব্যবহার থেকে বিরত থাকতে বাধ্য থাকবে না। এতে উভয় দেশ তাদের মোতায়েন করা ক্ষেপণাস্ত্র ও ভারী বোমারু বিমানে শত শত অতিরিক্ত ওয়ারহেড সংযুক্ত করতে পারবে। তার মতে, উত্তেজনাকর পরিস্থিতিতে মোতায়েন অস্ত্রভাণ্ডারের আকার প্রায় দ্বিগুণ হয়ে যেতে পারে।

মস্কো ও ওয়াশিংটনের পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণপন্থীদের আশঙ্কা, নিউ স্টার্টের মেয়াদ শেষ হলে শুধু ওয়ারহেডের সীমা উঠে যাবে না, বরং পারস্পরিক আস্থা, বিশ্বাস এবং পরস্পরের পারমাণবিক সক্ষমতা যাচাইয়ের ব্যবস্থাও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

অন্যদিকে, নিরস্ত্রীকরণবিরোধীরা মনে করেন, এ ধরনের চুক্তি অস্পষ্ট এবং এতে প্রতারণার সুযোগ থাকে। তাদের দাবি, এসব চুক্তি পরাশক্তিগুলোর কৌশলগত স্বাধীনতা সীমিত করে।

এর আগে, গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছিলেন, যদি কখনো এমন সময় আসে যখন রাশিয়া বা চীনের মতো পারমাণবিক অস্ত্র যুক্তরাষ্ট্রের প্রয়োজন হয়, তবে তা পৃথিবীর জন্য অত্যন্ত দুঃখজনক হবে।