শুক্রবার , ২৬ জুন ২০২৬
শুক্রবার , ২৬ জুন ২০২৬
হোমবিশ্বএপস্টেইন কেলেঙ্কারির ছায়ায় কিয়ার স্টারমার: যুক্তরাজ্যে রাজনৈতিক সংকট, যুক্তরাষ্ট্রে ভিন্ন বাস্তবতা

এপস্টেইন কেলেঙ্কারির ছায়ায় কিয়ার স্টারমার: যুক্তরাজ্যে রাজনৈতিক সংকট, যুক্তরাষ্ট্রে ভিন্ন বাস্তবতা

favicon
ভোরের আলো ডেস্ক:
এপস্টেইন কেলেঙ্কারির ছায়ায় কিয়ার স্টারমার: যুক্তরাজ্যে রাজনৈতিক সংকট, যুক্তরাষ্ট্রে ভিন্ন বাস্তবতা

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার ব্যক্তিগতভাবে জেফরি এপস্টেইনের সঙ্গে যুক্ত না থাকলেও, বহুল আলোচিত এপস্টেইন কেলেঙ্কারির প্রভাব তার রাজনৈতিক অবস্থানকে নড়বড়ে করে তুলেছে। যুক্তরাজ্যে বিষয়টি নিয়ে তীব্র রাজনৈতিক চাপ তৈরি হলেও, যুক্তরাষ্ট্রে একই ইস্যুতে ভিন্ন চিত্র দেখা যাচ্ছে।


এপস্টেইন কেলেঙ্কারির ভুক্তভোগীরা যুক্তরাষ্ট্রে এখনও ন্যায়বিচারের দাবিতে সক্রিয় থাকলেও, ওয়াশিংটনের রাজনৈতিক বাস্তবতায় বিষয়টি তুলনামূলকভাবে কম আলোচিত। বিশ্লেষকদের মতে, সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের রাজনৈতিক প্রভাব এবং রিপাবলিকান কংগ্রেসের সমর্থন তাকে কঠোর নজরদারি থেকে অনেকটাই রক্ষা করেছে।


অন্যদিকে যুক্তরাজ্যে রাজনৈতিক জবাবদিহি ও তদন্তের চাপ অনেক বেশি। এপস্টেইনের সঙ্গে সম্পর্কের অভিযোগে জনরোষ এতটাই তীব্র যে রাজা তৃতীয় চার্লস তার ভাই সাবেক প্রিন্স অ্যান্ড্রুকে রাজকীয় দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেন।


এপস্টেইন–সংক্রান্ত নথি বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়ায় নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এসব নথি নরওয়ে ও পোল্যান্ডসহ বিভিন্ন দেশে পৌঁছেছে, যা কেলেঙ্কারির আন্তর্জাতিক প্রভাবকে তুলে ধরছে।


স্টারমারের জন্য পরিস্থিতি জটিল হয়ে ওঠে যখন সাবেক মন্ত্রী পিটার ম্যান্ডেলসনের সঙ্গে এপস্টেইনের সম্পর্ক নতুন করে সামনে আসে। সংসদে স্টারমার স্বীকার করেন যে, তিনি এই সম্পর্ক সম্পর্কে জানতেন, তবুও ম্যান্ডেলসনকে ওয়াশিংটনে রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগ দিয়েছিলেন। নতুন প্রকাশিত তথ্যের পর ম্যান্ডেলসনের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হয়েছে এবং তিনি হাউস অব লর্ডস ও লেবার পার্টি থেকে পদত্যাগ করেছেন।


এদিকে যুক্তরাষ্ট্রে ট্রাম্প জানিয়েছেন, দেশের সামনে এগিয়ে যাওয়ার সময় এসেছে। বিচার বিভাগ বলছে, নতুন করে কোনো মামলা করার পরিকল্পনা নেই এবং ট্রাম্পের বিরুদ্ধে অপরাধের প্রমাণ পাওয়া যায়নি।


রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ব্রিটিশ রাজনীতিতে স্টারমারের নেতৃত্ব এখন চ্যালেঞ্জের মুখে। লেবার পার্টির ভেতরেও নেতৃত্ব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। গত এক দশকে যুক্তরাজ্যে একাধিক প্রধানমন্ত্রীর পরিবর্তন দেশটির রাজনৈতিক অস্থিরতাকে আরও স্পষ্ট করেছে।