গ্যাস সংকট, বাড়তি বিদ্যুৎ চাহিদা ও বকেয়া বিল — জ্বালানি খাতে তিন বড় চ্যালেঞ্জে পড়বে নতুন সরকার
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে একাধিক সংকটের মুখে পড়তে যাচ্ছে আগামী নির্বাচনের পর দায়িত্ব নেওয়া নতুন সরকার। বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রাকৃতিক গ্যাসের ঘাটতি, বাড়তি বিদ্যুতের চাহিদা এবং বেসরকারি বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোর বিপুল বকেয়া—এই তিনটি প্রধান চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করাই হবে সরকারের জন্য সবচেয়ে কঠিন কাজ।
দেশজুড়ে বর্তমানে গ্যাস সরবরাহ মারাত্মকভাবে কমে যাওয়ায় বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। তিতাস গ্যাস কোম্পানির তথ্যমতে, দৈনিক প্রায় ২৪০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ মিলছে মাত্র ১৫০০ মিলিয়ন ঘনফুট। ফলে আবাসিক ও শিল্প খাতে গ্যাস সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে।
এদিকে সামনে রমজান মাস, সেচ মৌসুম ও গ্রীষ্মকাল—এই সময়ে বিদ্যুতের চাহিদা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে দেশজুড়ে ১০০০ থেকে ১২০০ মেগাওয়াট পর্যন্ত লোডশেডিং শুরু হয়েছে, যা রোজায় গিয়ে ২০০০ মেগাওয়াটে পৌঁছাতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
২১ জানুয়ারি বিদ্যুৎ বিভাগে অনুষ্ঠিত আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় পেট্রোবাংলা সতর্ক করেছে যে অভ্যন্তরীণ গ্যাস উৎপাদন ক্রমাগত কমে যাওয়ায় ভবিষ্যতে বিদ্যুৎ উৎপাদন আরও বাধাগ্রস্ত হতে পারে।
শিল্প খাতেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। গ্যাসের অভাবে অনেক কারখানা বিকল্প জ্বালানি যেমন সিএনজি, এলপিজি বা ডিজেল ব্যবহার করছে, ফলে উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় কিছু শিল্প প্রতিষ্ঠান বন্ধ হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।
জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, বর্তমান প্রবণতা অব্যাহত থাকলে ২০৩০ সালের পর দেশীয় গ্যাসের বাণিজ্যিক ব্যবহার অনেকাংশেই সীমিত হয়ে যেতে পারে। একই সঙ্গে সমুদ্র এলাকায় নতুন গ্যাস অনুসন্ধানের গতি ধীর হওয়ায় আমদানিনির্ভরতা বাড়ছে।
পিডিবি সূত্রে জানা গেছে, দেশে প্রায় ২৯ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা থাকলেও জ্বালানি সংকটসহ নানা কারণে এর অর্ধেকও উৎপাদন করা যাচ্ছে না। আসন্ন রমজান, নির্বাচন, সেচ মৌসুম ও গ্রীষ্মে বাড়তি চাহিদা সামাল দিতে প্রায় ৩৮ হাজার ৪৫১ কোটি টাকা ভর্তুকি চাওয়া হয়েছে। এই ভর্তুকি না মিললে দীর্ঘ সময়ের লোডশেডিং শুরু হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
অন্যদিকে, বেসরকারি বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোর কাছে সরকারের প্রায় ৩০ হাজার কোটি টাকা বকেয়া রয়েছে। এই অর্থ পরিশোধ না হওয়ায় অনেক কেন্দ্র জ্বালানি আমদানির জন্য এলসি খুলতে পারছে না, যা ভবিষ্যতে বিদ্যুৎ সরবরাহকে আরও ঝুঁকির মধ্যে ফেলতে পারে।