নরসিংদী-২ আসনে ‘গাদ্দারির’ অভিযোগ সারোয়ার তুষারের, আমজাদকে কাঠগড়ায়
নরসিংদী-২ আসনের নির্বাচনে জোটের বিরুদ্ধে ‘গাদ্দারি’র অভিযোগ তুলেছেন ১১ দলীয় জোট মনোনীত শাপলা কলি প্রতীকের প্রার্থী গোলাম সারোয়ার (সারোয়ার তুষার)। তিনি অভিযোগ করেন, দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী আমজাদ হোসাইনের কারণে জোটের ভোট বিভক্ত হয়েছে এবং এতে ফলাফল প্রভাবিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বেসরকারিভাবে প্রাপ্ত ভোটের হিসাব তুলে ধরেন। সেখানে উল্লেখ করা হয়, নরসিংদী-২ আসনে ধানের শীষ প্রতীক পেয়েছে ৫৭ হাজার ৬৯৪ ভোট, দাঁড়িপাল্লা ৩৬ হাজার ৬৬৯ ভোট এবং শাপলা কলি প্রতীক পেয়েছে ১৪ হাজার ৫৬৭ ভোট।
সারোয়ার তুষার দাবি করেন, জামায়াত প্রার্থী জোটের বিরুদ্ধে অবস্থান না নিলে এবং ব্যালটে দাঁড়িপাল্লা প্রতীক না থাকলে ১১ দলীয় জোট অন্তত ১০ থেকে ১৫ হাজার ভোটের ব্যবধানে জয়ী হতে পারত। তার অভিযোগ, জোটের ভোট বিভক্ত হওয়ায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)–এর প্রার্থী ৬ হাজার ৪৫৮ ভোটের ব্যবধানে জয় পেয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, পলাশ এলাকায় জোটের কার্যক্রম দুর্বল থাকায় অনেক ভোটার ধানের শীষে ভোট দিয়েছেন। পাশাপাশি ভোটের দিন বিভিন্ন কেন্দ্রে বিএনপির নেতাকর্মীদের সক্রিয় উপস্থিতি এবং প্রভাব বিস্তারের চেষ্টার কথাও উল্লেখ করেন তিনি। তার ভাষ্য, “আমজাদের এই গাদ্দারি বাংলাদেশ মনে রাখবে।”
সারোয়ার তুষার অভিযোগ করেন, তাকে একই সঙ্গে ধানের শীষ ও দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের বিরুদ্ধে লড়তে হয়েছে। তিনি দাবি করেন, দাঁড়িপাল্লা প্রতীক না থাকলে এই আসনের ফলাফল ভিন্ন হতে পারত। একই সঙ্গে তিনি বলেন, পলাশবাসীর ভালোবাসা তিনি পেয়েছেন এবং স্থানীয় প্রশাসনের প্রতি এনসিপি ও জামায়াত নেতাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নরসিংদী-2 আসনে মোট ছয়জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। এর মধ্যে বিএনপির প্রার্থী ড. আবদুল মঈন খান ৯২ হাজার ৩৫২ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন।
উল্লেখ্য, জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী হিসেবে শাপলা কলি প্রতীকে মনোনয়ন পেয়েছিলেন গোলাম সারোয়ার তুষার। তবে জোটের প্রার্থীকে সমর্থন না দিয়ে একই আসনে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন আমজাদ হোসাইন।