বুধবার , ২৪ জুন ২০২৬
বুধবার , ২৪ জুন ২০২৬
হোমরাজনীতিআলোচনায় থেকেও শেষ পর্যন্ত হার—ত্রয়োদশ নির্বাচনে আলোচিত প্রার্থীদের পরাজয়

আলোচনায় থেকেও শেষ পর্যন্ত হার—ত্রয়োদশ নির্বাচনে আলোচিত প্রার্থীদের পরাজয়

favicon
ভোরের আলো ডেস্ক:
আলোচনায় থেকেও শেষ পর্যন্ত হার—ত্রয়োদশ নির্বাচনে আলোচিত প্রার্থীদের পরাজয়
ফাইল ছবি

অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের ১৮ মাস পর অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) দুই-তৃতীয়াংশের বেশি আসনে জয় পেয়ে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে। তবে নির্বাচনী মাঠে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি করেও শেষ পর্যন্ত পরাজিত হয়েছেন বিভিন্ন দলের একাধিক আলোচিত প্রার্থী। তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকজনের সংক্ষিপ্ত চিত্র তুলে ধরা হলো—

 নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী

রাজধানীর ঢাকা-৮ আসন ছিল এবারের নির্বাচনের সবচেয়ে আলোচিত আসনগুলোর একটি। এখানে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাসের বিপরীতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন এনসিপির নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। প্রচারণা জুড়ে নানা ইস্যুতে আলোচনায় থাকলেও শেষ পর্যন্ত ভোররাতে ঘোষিত ফলাফলে প্রায় পাঁচ হাজার ভোটের ব্যবধানে তিনি পরাজিত হন।


সারজিস আলম

পঞ্চগড়-১ আসনে শাপলাকলি প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন এনসিপির নেতা সারজিস আলম। তিনি পান ১ লাখ ৬৮ হাজার ৪৯ ভোট। ধানের শীষ প্রতীকে ব্যারিস্টার মুহম্মদ নওশাদ জমির ১ লাখ ৮৬ হাজার ১৮৯ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হন। পরাজয়ের পর বিজয়ী প্রার্থীকে অভিনন্দন জানিয়ে রাজনৈতিক সৌহার্দ্যের দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন সারজিস।

তাসনীম জারা

এনসিপির সাবেক নেত্রী ডা. তাসনীম জারা দলত্যাগ করে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ঢাকা-৯ আসনে নির্বাচন করেন। তবে তিনি তৃতীয় অবস্থানে থেকে পরাজিত হন।

মামুনুল হক

ঢাকা-১৩ আসনে বিএনপির ববি হাজ্জাজ ও ১১ দলীয় ঐক্য সমর্থিত মাওলানা মামুনুল হকের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হয়। ধানের শীষ প্রতীকে ববি হাজ্জাজ পান ৮৮ হাজার ৩৮৭ ভোট এবং মামুনুল হক পান ৮৬ হাজার ৬৭ ভোট। ২ হাজার ৩২০ ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হন তিনি। ফল ঘোষণার পর ভোট টেম্পারিংয়ের অভিযোগ তোলেন মামুনুল হক।

আমিনুল হক

ঢাকা-১৬ আসনে বিএনপির প্রার্থী আমিনুল ইসলাম পান ৮৪ হাজার ২০৭ ভোট। তবে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল মো. আব্দুল বাতেন ৮৬ হাজার ৮২৩ ভোট পেয়ে জয়ী হন।

মিয়া গোলাম পরওয়ার

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী–এর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার খুলনা-৫ আসনে বিএনপির প্রার্থী মোহাম্মদ আলি আসগারের কাছে ২ হাজার ৭০২ ভোটে পরাজিত হন।

মোহাম্মদ শিশির মনির

জামায়াতের প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় থাকা সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী শিশির মনির দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে পান ৫৭ হাজার ৮৫৮ ভোট। বিপরীতে বিএনপির প্রার্থী নাছির উদ্দিন চৌধুরী ধানের শীষে ৯৭ হাজার ৭৯০ ভোট পেয়ে জয়ী হন।

হামিদুর রহমান আজাদ

কক্সবাজার-২ আসনে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী ড. হামিদুর রহমান আজাদ ৮৯ হাজার ৬৩৪ ভোট পান। ধানের শীষ প্রতীকে আলমগীর মোহাম্মদ মাহফুজউল্লাহ ফরিদ ১ লাখ ২৫ হাজার ২৬২ ভোট পেয়ে জয়ী হন।

 জিএম কাদের

রংপুর-৩ আসনে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ কাদের (জিএম কাদের) লাঙ্গল প্রতীকে ৪৩ হাজার ৩৮৫ ভোট পান। সেখানে জামায়াত প্রার্থী মো. মাহবুবুর রহমান (বেলাল) ১ লাখ ৭৫ হাজার ৮২৭ ভোট পেয়ে জয়ী হন।

মাহমুদুর রহমান মান্না

বগুড়া-২ আসনে নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না কেটলি প্রতীকে মাত্র ৩ হাজার ৪২৬ ভোট পান, ফলে জামানত হারান। এ আসনে বিএনপির প্রার্থী মীর শাহে আলম ১ লাখ ৪৫ হাজার ২৪ ভোট পেয়ে জয়ী হন।

হারুনুর রশীদ হারুন

চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনে বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ও সাবেক এমপি হারুনুর রশীদ হারুন ১ লাখ ২৬ হাজার ৯৯৭ ভোট পান। দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে নুরুল ইসলাম বুলবুল ১ লাখ ৮৯ হাজার ৬১৩ ভোট পেয়ে জয়ী হন।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ ফলাফলের পাশাপাশি এসব আসনে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই ও আলোচিত প্রার্থীদের পরাজয় রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে।