রায়পুরে আশরাফুল হত্যা: গ্রেপ্তার দাবিতে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন
লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে মাদক কারবারিদের পুলিশে দেওয়ায় কলেজছাত্র আশরাফুল ইসলামকে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তার দাবিতে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১১টার দিকে উপজেলার উত্তর চরবংশী ইউনিয়নের খাসেরহাটে এই কর্মসূচি আয়োজন করা হয়।
মানববন্ধনে আশরাফুলের মা আবেগঘন কণ্ঠে জানান, “বিচার লাগবে না, আমার বাবা লাগবরে… আমার বুকের হাহাকারটা নিভাইয়া দাও, আমাকে একটু মা কইয়া ডাইকলেই অইবে। আমার আর কেউ নাই।”
এসময় বক্তব্য দেন উত্তর চরবংশী ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক গাজী মোহাম্মদ মহিউদ্দিন, ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি আদনান হাবিব, নিহতের বাবা আজিজুল হক, বোন অন্তরা আক্তার ও মামা কে এম সালেহ আহমেদ।
আশরাফুলের মামা কে এম সালেহ আহমেদ জানান, “এলাকার কিছু মাদক কারবারিকে ধরতে পুলিশকে সহযোগিতা করায় ক্ষিপ্ত হয়ে আশরাফুলকে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। হত্যাকারীদের দ্রুত ফাঁসি চাই।”
আশরাফুলের বোন অন্তরা আক্তার বলেন, “ঘর থেকে ডেকে নিয়ে পরিকল্পিতভাবে আমার ভাইকে হত্যা করেছে। সব আসামি এখনো ধরা পড়েনি।”
রায়পুর থানার ওসি শাহীন মিয়া জানান, মামলার এজাহারভুক্ত চার আসামির মধ্যে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের জবানবন্দি ১৬৪ ধারায় নেওয়া হয়েছে। হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত আলামতও উদ্ধার করা হয়েছে। বাকি আসামিদের ধরতে অভিযান চলমান রয়েছে।
মামলার এজাহারে বলা হয়, আশরাফুল উপজেলার চরবংশী গ্রামের বাসিন্দা ও রায়পুর রুস্তম আলী কলেজের ডিগ্রি শেষ বর্ষের ছাত্র ছিলেন। ১৪ জানুয়ারি নাহিদ বেপারী ও শাহিন বেপারীসহ কিছু আসামি দেশীয় অস্ত্র দিয়ে তাকে পিটিয়ে আহত ও শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টা করে। পরে আশরাফুলকে উদ্ধার করে ঢাকায় হাসপাতালে নেওয়া হয়। ২০ জানুয়ারি নিউ লাইফ হাসপাতালে লাইফ সাপোর্টে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
পরবর্তীতে ১৬ জানুয়ারি তার বাবা আজিজুল হক থানায় মামলা দায়ের করেন। পুলিশের অভিযান শেষে শাহিন বেপারীকে গ্রেপ্তার করা হয়। ২৩ জানুয়ারি রাতে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ থানা এলাকা থেকে শাকিল ও সোহাগ বেপারীসহ তিনজনকে র্যাব-১১ গ্রেপ্তার করে।