ইরানকে চুক্তিতে আনতে সীমিত সামরিক হামলার ইঙ্গিত ট্রাম্পের
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ন্ত্রণে একটি নতুন চুক্তিতে তেহরানকে সম্মত করাতে যুক্তরাষ্ট্র সীমিত সামরিক হামলার বিকল্প বিবেচনা করছে। সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপের বিষয়ে কর্মকর্তাদের বক্তব্যের কয়েক ঘণ্টা পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ মন্তব্য করেন।
গত বৃহস্পতিবার ট্রাম্প বলেন, আগামী প্রায় ১০ দিনের মধ্যেই বিশ্ব জানতে পারবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে কোনো সমঝোতা হচ্ছে কি না, নাকি ওয়াশিংটন সামরিক পদক্ষেপের পথে হাঁটবে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যে তাদের সামরিক উপস্থিতি জোরদার করছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় মিত্ররা সন্দেহ করছে, ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির দিকে অগ্রসর হচ্ছে—যদিও তেহরান বরাবরই এ অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। এ প্রেক্ষাপটে মার্কিন ও ইরানি কর্মকর্তারা জেনেভা, সুইজারল্যান্ড-এ বৈঠক করেন। উভয় পক্ষই আলোচনায় অগ্রগতির কথা জানিয়েছে।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি জানান, সম্ভাব্য চুক্তির একটি খসড়া প্রস্তুত করা হচ্ছে এবং তা শিগগিরই মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
আলোচনার মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র অঞ্চলটিতে সামরিক শক্তি বাড়াচ্ছে। বিশ্বের বৃহত্তম যুদ্ধজাহাজগুলোর একটি USS Gerald R. Ford এ অঞ্চলের দিকে অগ্রসর হচ্ছে বলে জানা গেছে। এছাড়া USS Abraham Lincoln-সহ একাধিক ডেস্ট্রয়ার, যুদ্ধজাহাজ ও যুদ্ধবিমান মোতায়েন করা হয়েছে।
স্যাটেলাইট চিত্রে দেখা গেছে, ইরানও তাদের সামরিক স্থাপনাগুলো আরও সুরক্ষিত করছে। দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মার্কিন বাহিনীকে সতর্কবার্তা দিয়েছেন।
ট্রাম্প প্রায়ই সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বললেও তার মন্তব্য সব সময় বাস্তব পদক্ষেপে রূপ নেয় না এবং কখনো কখনো পরস্পরবিরোধীও হয়। তিনি প্রায়ই বলেন, সম্ভাব্য প্রতিপক্ষদের বিভ্রান্ত রাখতে নিজের পরিকল্পনা গোপন রাখেন।
সামরিক পদক্ষেপের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য এখনো প্রকাশ করা হয়নি। জানা গেছে, মার্কিন কর্মকর্তারা কয়েক সপ্তাহব্যাপী সম্ভাব্য অভিযানের বিভিন্ন বিকল্প তার সামনে উপস্থাপন করেছেন। অতীতে সময়সীমা নির্ধারণ করে কৌশলগত চমক তৈরি করার নজিরও রয়েছে তার।
এদিকে জরিপে দেখা যাচ্ছে, অভিবাসন ও অর্থনীতি পরিচালনায় ট্রাম্প প্রশাসনের ওপর অসন্তোষ বাড়ছে। এমন এক প্রেক্ষাপটে সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপ প্রশাসনের জন্য অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক চাপও বাড়াতে পারে।
সূত্র: বিবিসি