শুক্রবার , ২৬ জুন ২০২৬
শুক্রবার , ২৬ জুন ২০২৬
হোমরাজনীতিইনসাফভিত্তিক রাষ্ট্র গড়ার আহ্বান মাসুদ সাঈদীর, ‘একুশ ন্যায় ও মর্যাদার প্রতীক’

ইনসাফভিত্তিক রাষ্ট্র গড়ার আহ্বান মাসুদ সাঈদীর, ‘একুশ ন্যায় ও মর্যাদার প্রতীক’

favicon
ভোরের আলো ডেস্ক:
ইনসাফভিত্তিক রাষ্ট্র গড়ার আহ্বান মাসুদ সাঈদীর, ‘একুশ ন্যায় ও মর্যাদার প্রতীক’

মাসুদ সাঈদী বলেছেন, শহীদদের রক্তের ঋণ শোধ করতে হলে ইনসাফপূর্ণ, ন্যায়ভিত্তিক ও মানবিক রাষ্ট্র গড়ে তুলতে হবে। তিনি উল্লেখ করেন, একুশের চেতনা কেবল ভাষার দাবিতে সীমাবদ্ধ নয়; এটি ন্যায়, অধিকার ও মর্যাদার সংগ্রামের প্রতীক।


আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে পিরোজপুরের জিয়ানগর উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।


তিনি বলেন, বাংলা ভাষাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবিতে তৎকালীন পূর্ব বাংলার ছাত্র-যুব সমাজ পাকিস্তানি শাসকদের জারি করা ১৪৪ ধারা উপেক্ষা করে রাজপথে নেমেছিল। আন্দোলনরত ছাত্র-জনতার মিছিলে পুলিশ গুলি চালালে সালাম, বরকত, রফিক, জব্বার, শফিকসহ নাম না জানা অনেকেই শহীদ হন। ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি ঢাকার রাজপথ তরুণদের রক্তে রঞ্জিত হয়েছিল।


মাসুদ সাঈদী বলেন, “আমরা বুকের তাজা রক্তের বিনিময়ে মাতৃভাষায় কথা বলার অধিকার অর্জন করেছি। একুশ মানে মুক্তি, একুশ মানে চেতনা, অন্যায়ের বিরুদ্ধে আপসহীন লড়াই।” তিনি আরও বলেন, ১৯৫২, ১৯৭১, ১৯৯০ ও ২০২৪—সবই একই সূত্রে গাঁথা ইতিহাসের ধারাবাহিকতা।


তিনি উল্লেখ করেন, ১৯৯৯ সালের ১৭ নভেম্বর ইউনেসকো ২১ ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে স্বীকৃতি দেয়, যা বাঙালি জাতির জন্য গৌরবের। তবে বাস্তবে এখনো সর্বস্তরে বাংলা ভাষার ব্যবহার নিশ্চিত হয়নি বলে তিনি মন্তব্য করেন। আদালতে ইংরেজিতে রায় লেখা এবং বাংলা মাস অনুযায়ী দিবস পালনের পরিবর্তে ইংরেজি তারিখ ব্যবহারের বিষয়েও সমালোচনা করেন তিনি।


সভায় সভাপতিত্ব করেন জিয়ানগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হাসান মো. হাফিজুর। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. ওয়ালিউর রহমান, জিয়ানগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শামিম হাওলাদার, এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক নাজমুল হাসান, গণঅধিকারের জিয়ানগর উপজেলা সভাপতি মো. আলাউদ্দিন, জিয়ানগর উপজেলার আমির মাওলানা আলী হোসেন, ইন্দুরকানী সরকারি কলেজের প্রভাষক জাকারিয়া হোসেন এবং ইন্দুরকানী প্রেস ক্লাবের সভাপতি মো. নাসির হোসেন।