শুক্রবার , ২৬ জুন ২০২৬
শুক্রবার , ২৬ জুন ২০২৬
হোমবিশ্বখনিজ খাতে চুক্তি, ভারত–ব্রাজিল বাণিজ্য ২০ বিলিয়ন ডলারে নেওয়ার লক্ষ্য

খনিজ খাতে চুক্তি, ভারত–ব্রাজিল বাণিজ্য ২০ বিলিয়ন ডলারে নেওয়ার লক্ষ্য

favicon
ভোরের আলো ডেস্ক:
খনিজ খাতে চুক্তি, ভারত–ব্রাজিল বাণিজ্য ২০ বিলিয়ন ডলারে নেওয়ার লক্ষ্য

ভারত ও ব্রাজিল খনিজ সম্পদ খাতে সহযোগিতা জোরদারে নতুন চুক্তি সই করেছে। গত শনিবার নয়াদিল্লিতে চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয়, যেখানে উপস্থিত ছিলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা।


তিন দিনের সফরে ভারতে এসে লুলা দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ নিয়ে আলোচনা করেন। চুক্তির লক্ষ্য হলো ভারতের ক্রমবর্ধমান অভ্যন্তরীণ ইস্পাত চাহিদা পূরণ এবং বৈশ্বিক কাঁচামাল প্রতিযোগিতার মধ্যে উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানো।


ইস্পাত খাতে কৌশলগত সহযোগিতা


ব্রাজিল বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ লৌহ আকরিক উৎপাদক দেশ। ভারতের সরকারি বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ইস্পাত খাতে দীর্ঘমেয়াদি প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে প্রয়োজনীয় কাঁচামাল ও প্রযুক্তিতে প্রবেশাধিকার বাড়াতে উভয় দেশ ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করবে।


সহযোগিতার আওতায় অনুসন্ধান কার্যক্রম, খনন এবং ইস্পাত-সম্পর্কিত অবকাঠামোতে বিনিয়োগ আকর্ষণের ওপর জোর দেওয়া হবে। বর্তমানে ভারতের ইস্পাত উৎপাদন সক্ষমতা ২১৮ মিলিয়ন মেট্রিক টন। অবকাঠামো উন্নয়ন ও শিল্পায়নের ফলে অভ্যন্তরীণ চাহিদা বাড়তে থাকায় উৎপাদন সক্ষমতা আরও সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে।


বাণিজ্য ২০ বিলিয়ন ডলারে নেওয়ার প্রতিশ্রুতি


মোদি জানান, আগামী পাঁচ বছরে ভারত–ব্রাজিল দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ২০ বিলিয়ন ডলারের বেশি করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে দুই দেশের বাণিজ্যের পরিমাণ প্রায় ১৫ বিলিয়ন ডলার।


তিনি আরও বলেন, প্রযুক্তি, উদ্ভাবন, ডিজিটাল পাবলিক অবকাঠামো, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), সেমিকন্ডাক্টরসহ বিভিন্ন খাতে সহযোগিতা জোরদার করা হবে। ২০০৬ সাল থেকে দুই দেশ কৌশলগত অংশীদার হিসেবে কাজ করছে।


ল্যাটিন আমেরিকা ও ক্যারিবীয় অঞ্চলে ব্রাজিলই ভারতের বৃহত্তম বাণিজ্যিক অংশীদার। জাতিসংঘ সংস্কার, জলবায়ু পরিবর্তন ও সন্ত্রাসবাদ দমনসহ বিভিন্ন বৈশ্বিক ইস্যুতেও দুই দেশ একসঙ্গে কাজ করে।


‘নতুন স্নায়ুযুদ্ধ’ চায় না ব্রাজিল


ভারত সফর শেষে সংবাদ সম্মেলনে লুলা বলেন, ব্রাজিল কোনো ‘নতুন স্নায়ুযুদ্ধ’ চায় না। তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প–এর উদ্দেশে বলেন, সব দেশকে সমানভাবে মূল্যায়ন করা উচিত এবং অন্য দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করার আহ্বান জানান।


আগামী মার্চের প্রথম সপ্তাহে ওয়াশিংটনে ট্রাম্পের সঙ্গে লুলার বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। আলোচনায় বাণিজ্য, অভিবাসন, বিনিয়োগ ও বিশ্ববিদ্যালয় অংশীদারত্বের বিষয়গুলো গুরুত্ব পাবে বলে জানিয়েছেন তিনি।


সূত্র: আল জাজিরা