শুক্রবার , ২৬ জুন ২০২৬
শুক্রবার , ২৬ জুন ২০২৬
হোমবিশ্বমেক্সিকোতে ‘এল মেনচো’ নিহতের পর সহিংসতার ঝড়, ৯,৫০০ সেনা মোতায়েন

মেক্সিকোতে ‘এল মেনচো’ নিহতের পর সহিংসতার ঝড়, ৯,৫০০ সেনা মোতায়েন

favicon
ভোরের আলো ডেস্ক:
মেক্সিকোতে ‘এল মেনচো’ নিহতের পর সহিংসতার ঝড়, ৯,৫০০ সেনা মোতায়েন

মেক্সিকোতে কুখ্যাত এক মাদক সম্রাট নিহত হওয়ার পর দেশজুড়ে সহিংসতার ঢেউ ছড়িয়ে পড়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সরকার বিপুলসংখ্যক সেনা মোতায়েন করেছে। দেশটির নিরাপত্তামন্ত্রী জানিয়েছেন, গত রোববার থেকে শুরু হওয়া এই সহিংসতায় এখন পর্যন্ত বহু প্রাণহানি ঘটেছে।


জালিস্কো রাজ্যে মেক্সিকোর জাতীয় রক্ষীবাহিনীর অন্তত ২৫ জন সদস্য নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন নিরাপত্তা কর্মকর্তারা। প্রতিরক্ষা সচিব রিকার্ডো ট্রেভিলা জানান, পশ্চিমাঞ্চলে অতিরিক্ত দুই হাজার ৫০০ সেনা পাঠানো হয়েছে। সব মিলিয়ে রোববার থেকে এখন পর্যন্ত ৯ হাজার ৫০০ সেনা মোতায়েন করা হয়েছে।


জালিস্কো নিউ জেনারেশন কার্টেলের প্রধান নেমিসিও অসিগুয়েরা স্যাভাতেস, যিনি ‘এল মেনচো’ নামে পরিচিত, সামরিক অভিযানে নিহত হন। তার মৃত্যুর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সমর্থকরা একাধিক রাজ্যে মহাসড়ক অবরোধ, যানবাহন ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে অগ্নিসংযোগসহ সহিংস কর্মকাণ্ড শুরু করে।


এই কার্টেলটি দেশটির অন্যতম ভয়ংকর অপরাধী সংগঠন হিসেবে পরিচিত ছিল এবং এর নেতা ছিলেন সরকারের মোস্ট ওয়ান্টেড তালিকাভুক্ত ব্যক্তি। তাকে ধরিয়ে দিতে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে বিপুল অর্থ পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছিল।


প্রতিরক্ষা সচিবের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রেমিকার সঙ্গে দেখা করতে গেলে নিরাপত্তা বাহিনী তাকে শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চালায়। এ সময় তার দেহরক্ষী ও সামরিক কমান্ডোদের মধ্যে তীব্র গোলাগুলি হয়। এতে তিনি গুরুতর আহত হন এবং তাপালপা থেকে রাজধানী মেক্সিকো সিটিতে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। অভিযানে তার ছয়জন নিরাপত্তারক্ষী নিহত এবং তিনজন সেনাসদস্য আহত হন।


নিরাপত্তা সচিব ওমর গার্সিয়া হারফুচ জানিয়েছেন, সহিংসতায় একজন কারারক্ষী, রাজ্য প্রসিকিউটর দপ্তরের এক কর্মকর্তা এবং কার্টেলের অন্তত ৩০ সদস্য নিহত হয়েছেন।


প্রেসিডেন্ট ক্লডিয়া শেইনবাউম সেনাবাহিনীর অভিযানের প্রশংসা করে বলেছেন, তার সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার দেশজুড়ে শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। তিনি বলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকার ও সশস্ত্র বাহিনী সমন্বিতভাবে কাজ করছে।


এদিকে মাদক সম্রাটের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর বিভিন্ন শহরে কার্টেল সদস্যরা রাস্তায় কাঁটা ও পেরেক ছড়িয়ে অবরোধ সৃষ্টি করে। কোথাও বাস ও অন্যান্য যানবাহনে আগুন দেওয়া হয়। কয়েক ডজন ব্যাংক ও স্থানীয় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান অগ্নিসংযোগে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।


সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া যাচাইকৃত ভিডিওতে দেখা গেছে, জালিস্কো রাজ্যের পুয়ের্তো ভাল্লার্তা শহরের আকাশে সামরিক হেলিকপ্টার উড়ছে এবং বিভিন্ন স্থানে ধোঁয়া উঠছে। রাজধানী গুয়াদালাজারার উত্তরে সান ইসিড্রো এলাকায় কার্টেল সদস্যদের সঙ্গে জাতীয় রক্ষীবাহিনীর সংঘর্ষের ভিডিওও প্রকাশিত হয়েছে, যেখানে গুলিবর্ষণ ও হতাহতের দৃশ্য দেখা যায়।


প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সেনাবাহিনীর নেতৃত্বে পরিচালিত এই অভিযানে জাতীয় রক্ষীবাহিনী ও বিমান বাহিনী সহায়তা দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া গোয়েন্দা তথ্যও অভিযানে সহায়ক ভূমিকা রেখেছে।


সূত্র: বিবিসি