শুক্রবার , ২৬ জুন ২০২৬
শুক্রবার , ২৬ জুন ২০২৬
হোমবিশ্বউত্তেজনার মধ্যেই ইরানে মানবিক সহায়তা পাঠাল আজারবাইজান

উত্তেজনার মধ্যেই ইরানে মানবিক সহায়তা পাঠাল আজারবাইজান

favicon
ভোরের আলো ডেস্ক:
উত্তেজনার মধ্যেই ইরানে মানবিক সহায়তা পাঠাল আজারবাইজান

ইরানি ড্রোন হামলার অভিযোগ ঘিরে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত ককেশাস অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হওয়ার কয়েক দিনের মধ্যেই ইরানে মানবিক সহায়তা পাঠিয়েছে আজারবাইজান। মঙ্গলবার নেওয়া এ উদ্যোগকে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা কমানোর ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে।

গত সপ্তাহে ইসরায়েলের ঘনিষ্ঠ মিত্র আজারবাইজান তেহরানের বিরুদ্ধে ‘সন্ত্রাসবাদে জড়িত থাকার’ অভিযোগ তোলে। দেশটির দাবি, ইরানি একটি ড্রোন বিমানবন্দরে আঘাত হানে এবং একটি স্কুলের কাছে বিস্ফোরিত হয়। এতে ইরান সীমান্তবর্তী আজারবাইজানের নাখিচেভান অঞ্চলে চারজন আহত হন।

ঘটনার পর আজারবাইজানের প্রেসিডেন্ট ইলহাম আলিয়েভ সশস্ত্র বাহিনীকে প্রতিশোধমূলক প্রস্তুতি নিতে নির্দেশ দেন এবং বাহিনীকে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রাখা হয়। একই সঙ্গে ইরান থেকে দেশটির কূটনীতিকদেরও ফিরিয়ে নেওয়া হয়।

তবে ইরানের সামরিক বাহিনী ড্রোন হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেছে। তারা এ ঘটনার জন্য আজারবাইজানের মিত্র ইসরায়েলকে উসকানির অভিযোগে অভিযুক্ত করে।

এর মধ্যেই উত্তেজনা প্রশমনের ইঙ্গিত হিসেবে আজারবাইজানের জরুরি পরিস্থিতি মন্ত্রণালয় জানায়, ৮ মার্চ দুই দেশের প্রেসিডেন্টের টেলিফোন আলাপের পর ইরানে কয়েক টন খাদ্য ও ওষুধ পাঠানো হয়েছে।

এর আগে আজারবাইজানের প্রেসিডেন্টের দপ্তর জানায়, রবিবার ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান ফোন করে ড্রোন হামলার ঘটনা তদন্তের আশ্বাস দেন এবং বলেন, এ ঘটনার সঙ্গে ইরানের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই।

বিবৃতিতে বলা হয়, আলিয়েভ ঘটনাটির পূর্ণ তদন্তের ওপর জোর দেন এবং দুই নেতা যৌথ অর্থনৈতিক প্রকল্পগুলোর ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা করেন। এতে ধারণা করা হচ্ছে, দুই দেশই পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত না করে উত্তেজনা কমানোর পথ খুঁজছে।

ইরান দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছে, আজারবাইজানের প্রধান অস্ত্র সরবরাহকারী ইসরায়েল গোয়েন্দা তৎপরতা ও সম্ভাব্য হামলার জন্য আজারবাইজানের ভূখণ্ড ব্যবহার করে।

২০২৫ সালের জুনে ইসরায়েল ইরানের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে বড় ধরনের হামলা চালানোর পর বাকু তেহরানকে আশ্বস্ত করেছিল যে তাদের ভূখণ্ড ইরানের বিরুদ্ধে কোনো হামলার জন্য ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না।

এ ছাড়া ইরানে বসবাসকারী প্রায় এক কোটি জাতিগত আজারিদের মধ্যে বিচ্ছিন্নতাবাদী প্রবণতা নিয়ে তেহরানের দীর্ঘদিনের উদ্বেগও রয়েছে।