খায়রুল হকের জামিন স্থগিত চেয়ে আপিল বিভাগের চেম্বার আদালতে রাষ্ট্রপক্ষের আবেদন
হত্যা ও জালিয়াতিসহ চার মামলায় সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হককে হাইকোর্টের দেওয়া জামিন স্থগিত চেয়ে আপিল বিভাগের চেম্বার আদালতে আবেদন করেছে রাষ্ট্রপক্ষ। চলতি সপ্তাহেই এসব আবেদনের শুনানি হতে পারে বলে জানিয়েছেন তার আইনজীবী মোনাইম নবী।
এর আগে গত ৮ মার্চ বিচারপতি মো. খায়রুল আলম ও বিচারপতি মো. সগীর হোসেনের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এসব মামলায় তার জামিন প্রশ্নে জারি করা রুল যথাযথ ঘোষণা করে জামিন মঞ্জুর করেন।
এ বি এম খায়রুল হক দেশের ১৯তম প্রধান বিচারপতি হিসেবে ২০১০ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর নিয়োগ পান এবং একই বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর থেকে দায়িত্ব পালন শুরু করেন। ২০১১ সালের ১৭ মে তিনি অবসরে যান। পরে ২০১৩ সালের ২৩ জুলাই তাকে তিন বছরের জন্য আইন কমিশনের চেয়ারম্যান করা হয় এবং পরবর্তী সময়ে কয়েক দফায় তার মেয়াদ বাড়ানো হয়। গত বছরের ১৩ আগস্ট তিনি ওই পদ থেকে পদত্যাগ করেন।
সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের বিচারপতি থাকাকালে সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিল করে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা অবৈধ ঘোষণা এবং ফতোয়া অবৈধ ঘোষণার রায় দেন তিনি। তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাতিলের রায়ের কারণে রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার মুখে পড়েন তিনি।
গত বছর ২৪ জুলাই রাজধানীর ধানমণ্ডির বাসা থেকে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে। পরে ঢাকার যাত্রাবাড়ী এলাকায় যুবদলকর্মী আবদুল কাইয়ুম আহাদ হত্যা মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। নিহতের বাবা মো. আলাউদ্দিন গত বছরের ৬ আগস্ট মামলাটি করেন।
এ ছাড়া মিথ্যা তথ্য দিয়ে প্লট বরাদ্দ নেওয়ার অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) তার বিরুদ্ধে মামলা করে। একই বছর ২৫ আগস্ট তত্ত্বাবধায়ক সরকার সংক্রান্ত রায় জালিয়াতি ও রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়। মামলাটি করেন নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি ও ফতুল্লা থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল বারী ভূঁইয়া।