ইরানকে ট্রাম্পের সরাসরি হুঁশিয়ারি, পাকিস্তানে আলোচনার আগে উত্তেজনা চরমে
মধ্যপ্রাচ্য সংকটের মধ্যে ইরানকে সরাসরি সতর্কবার্তা দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে তিনি দাবি করেন, আন্তর্জাতিক জলপথ নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে ইরান বিশ্বকে সাময়িকভাবে চাপে রাখছে এবং আলোচনার জন্যই তাদের নেতৃত্ব এখনো টিকে আছে।
এর আগে নিউইয়র্ক পোস্টকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, পাকিস্তানে চলমান আলোচনা ব্যর্থ হলে মার্কিন যুদ্ধজাহাজ দ্রুতই আবার হামলা শুরু করতে প্রস্তুত। তিনি জানান, অল্প সময়ের মধ্যেই পরিস্থিতি স্পষ্ট হয়ে যাবে।
ইরানের পক্ষে আলোচনায় যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি এবং পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ-এর। অন্যদিকে মার্কিন প্রতিনিধিদলের নেতৃত্বে রয়েছে।
আলোচনায় যেসব বিষয় গুরুত্ব পেতে পারে তার মধ্যে রয়েছে—ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম হস্তান্তর, হরমুজ প্রণালি আন্তর্জাতিক নৌ চলাচলের জন্য উন্মুক্ত রাখা, আঞ্চলিক সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে সমর্থন বন্ধ করা এবং ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়ন্ত্রণ। এর বিপরীতে ইরান চায় যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার।
তবে ইরান এখনই আলোচনায় বসতে অনিচ্ছুক। গালিবাফ জানিয়েছেন, লেবাননে যুদ্ধবিরতি কার্যকর করা এবং ইরানের আটকে থাকা সম্পদ মুক্ত না হলে কোনো আলোচনা শুরু হবে না।
মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে বিদেশি ব্যাংকে থাকা তেল ও গ্যাস রপ্তানির বিপুল অর্থ তুলতে পারছে না ইরান। এ পরিস্থিতিতে সম্ভাব্য চুক্তি নিয়েও সংশয় প্রকাশ করেছেন ট্রাম্প।
তবে হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে আশাবাদী বার্তা দেওয়া হয়েছে। মুখপাত্র আনা কেলি জানিয়েছেন, মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে একটি সমঝোতায় পৌঁছানো সম্ভব বলে মনে করছেন প্রেসিডেন্ট।