গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের সেনারা ইরানের পতাকাবাহী যে কার্গো জাহাজ আটক করেছে, সেটি ছেড়ে দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে জাতিসংঘের কাছে চিঠি পাঠিয়েছে তেহরান। জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের কাছে মঙ্গলবার ওই চিঠি পাঠান জাতিসংঘে নিযুক্ত ইরানের স্থায়ী প্রতিনিধি আমির সাঈদ ইরাভানি। সেখানে ইরানের পতাকাবাহী পণ্যবাহী জাহাজ আটকের ঘটনাকে ‘জলদস্যুতা’ অভিহিত করে সেটির বিরুদ্ধের ‘কঠোর নিন্দা’ জানিয়েছে তেহরান। যুক্তরাষ্ট্রের এমন পদক্ষেপের বিরুদ্ধে ব্যবস্থার নেওয়ার কথাও চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে। চিঠিতে তেহরান বলেছে, ‘আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী, এই নির্লজ্জ কর্মকাণ্ড মোকাবিলা করার পূর্ণ অধিকার ইরানের ইসলামী প্রজাতন্ত্রের রয়েছে।’ এদিকে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র সামরিকভাবে বিজয় লাভ করেছে বলে দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। যুক্তরাষ্ট্রে সফররত ব্রিটেনের রাজা তৃতীয় চার্লসকে আপ্যায়নকালে তিনি এমন দাবি করেন। যদিও কথা বলার সময় সরাসরি ইরানের নাম উল্লেখ করেননি ট্রাম্প, বরং ‘প্রতিপক্ষ’ বলে সম্বোধন করেছেন। ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা সেই নির্দিষ্ট প্রতিপক্ষকে সামরিকভাবে পরাজিত করেছি।’ ইরানকে কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র বানাতে দেওয়া হবে না বলেও জানান তিনি। ট্রাম্প আরো বরেন, ‘আমরা ওই প্রতিপক্ষকে, চার্লস আমার সঙ্গে একমত, পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে দেব না।’ ‘কমিউনিজম, ফ্যাসিবাদ ও স্বৈরাচার’ শক্তির বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাষ্ট্র একজোট হয়ে লড়বে বলেও জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
দেশের বাজারে বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম লিটারে ৪ টাকা বাড়িয়ে ১৯৯ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। বুধবার (২৯ এপ্রিল) সচিবালয়ে ভোজ্যতেলের মূল্য পর্যালোচনা বৈঠক শেষে এ তথ্য জানান খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।
তিনি জানান, বোতলজাত তেলের পাশাপাশি খোলা সয়াবিন তেলের দামও লিটারে ৪ টাকা বাড়ানো হয়েছে। ফলে খোলা তেলের দাম ১৭৫ টাকা থেকে বেড়ে ১৭৯ টাকায় বিক্রি হবে।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বৈশ্বিক বাজারে মূল্য বৃদ্ধির কারণে আমদানিনির্ভর পণ্যের ওপর সরাসরি প্রভাব পড়ছে। সয়াবিন তেল পুরোপুরি আমদানিনির্ভর হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়ার প্রভাব দেশের বাজারেও পড়েছে।
তিনি আরও জানান, রমজান মাস থেকেই আন্তর্জাতিক বাজারে সয়াবিন তেলের দাম বাড়তে শুরু করে। এ সময় থেকেই আমদানিকারক ও রিফাইনাররা মূল্য সমন্বয়ের দাবি জানিয়ে আসছিলেন। তাদের দাবি ছিল, দাম সমন্বয় না হলে তারা লোকসানে পড়বেন এবং পুঁজির সংকটে পড়বেন।
সরকার বিষয়টি পর্যালোচনা করে আন্তর্জাতিক বাজারদর, আমদানি ব্যয় ও সংশ্লিষ্ট খরচ বিবেচনায় সীমিত পরিসরে এই মূল্য সমন্বয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানান মন্ত্রী।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, এ সিদ্ধান্তে বাজারে সরবরাহ স্বাভাবিক থাকবে এবং ব্যবসায়ীদের ওপর লোকসানের চাপ কিছুটা কমবে, পাশাপাশি ভোক্তারাও পরিস্থিতি বিবেচনায় বিষয়টি ইতিবাচকভাবে নেবেন।
বৈঠকে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভোজ্যতেল শিল্প সংশ্লিষ্ট রিফাইনার ও আমদানিকারকদের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।