মঙ্গলবার , ৩০ জুন ২০২৬
মঙ্গলবার , ৩০ জুন ২০২৬
হোমসারা দেশভারি বৃষ্টিতে বাড়ছে নদীর পানি, কয়েক জেলায় স্বল্পমেয়াদি বন্যার শঙ্কা

ভারি বৃষ্টিতে বাড়ছে নদীর পানি, কয়েক জেলায় স্বল্পমেয়াদি বন্যার শঙ্কা

favicon
ভোরের আলো ডেস্ক:
ভারি বৃষ্টিতে বাড়ছে নদীর পানি, কয়েক জেলায় স্বল্পমেয়াদি বন্যার শঙ্কা

দেশের অভ্যন্তরে এবং ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে টানা ভারি থেকে অতিভারি বৃষ্টিপাতের কারণে দেশের বিভিন্ন নদ-নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে কয়েকটি জেলার নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যা দেখা দিতে পারে বলে সতর্ক করেছে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র।


সোমবার (২৯ জুন) প্রকাশিত সর্বশেষ বুলেটিনে জানানো হয়, কুড়িগ্রামের পাটেশ্বরী পয়েন্টে দুধকুমার নদীর পানি বিপৎসীমার ২৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এছাড়া তিস্তা, সুরমা, কুশিয়ারা ও যাদুকাটা নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে পানি সতর্কসীমার কাছাকাছি পৌঁছেছে।


গত ২৪ ঘণ্টায় রংপুর বিভাগে ভারি থেকে অতিভারি এবং সিলেট ও চট্টগ্রাম বিভাগের বিভিন্ন এলাকায় ভারি বৃষ্টিপাত হয়েছে। এ সময়ে সর্বোচ্চ ১৩৮ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে কুড়িগ্রামের পাটেশ্বরীতে। একই সময়ে ভারতের অরুণাচল প্রদেশ ও আসামেও ব্যাপক বৃষ্টিপাত হয়েছে, যার প্রভাব বাংলাদেশের উজানের নদীগুলোতে পড়ছে।


আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী দুই দিন রংপুর, সিলেট ও ময়মনসিংহ বিভাগসহ ভারতের সংলগ্ন কয়েকটি অঞ্চলে ভারি থেকে অতিভারি বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে। এর ফলে ব্রহ্মপুত্র-যমুনা অববাহিকার নদীগুলোর পানি আগামী পাঁচ দিন পর্যন্ত বাড়তে পারে।


পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, ২ থেকে ৪ জুলাইয়ের মধ্যে কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, জামালপুর ও বগুড়া জেলার ব্রহ্মপুত্র-যমুনা নদী সতর্কসীমায় পৌঁছাতে পারে। এতে নদীতীরবর্তী নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।


রংপুর বিভাগের তিস্তা, দুধকুমার ও ধরলা নদীর পানিও আগামী তিন দিনে আরও বৃদ্ধি পেতে পারে। এর মধ্যে তিস্তা আগামী ২৪ ঘণ্টা এবং ধরলা ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে। ফলে নীলফামারী, লালমনিরহাট, রংপুর ও গাইবান্ধার নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যা দেখা দেওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। পাশাপাশি কুড়িগ্রামে চলমান বন্যা পরিস্থিতি আরও অবনতির সম্ভাবনা রয়েছে।


এদিকে সিলেট, সুনামগঞ্জ, শেরপুর, ময়মনসিংহ ও নেত্রকোণার কয়েকটি নিম্নাঞ্চলেও আগামী ৪৮ থেকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে সাময়িক প্লাবনের আশঙ্কা রয়েছে। তবে ঢাকা, রাজশাহী ও খুলনা বিভাগের প্রধান নদীগুলোর পানি এখনো বিপৎসীমার নিচে রয়েছে এবং আপাতত এসব এলাকায় বড় ধরনের বন্যার শঙ্কা নেই বলে জানিয়েছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র।