বুধবার , ০৮ জুলাই ২০২৬
বুধবার , ০৮ জুলাই ২০২৬
হোমবিশ্বযুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন হলে মধ্যপ্রাচ্যে সব মার্কিন ঘাঁটিতে হামলার হুঁশিয়ারি ইরানের

যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন হলে মধ্যপ্রাচ্যে সব মার্কিন ঘাঁটিতে হামলার হুঁশিয়ারি ইরানের

favicon
ভোরের আলো ডেস্ক:
যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন হলে মধ্যপ্রাচ্যে সব মার্কিন ঘাঁটিতে হামলার হুঁশিয়ারি ইরানের

যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘন অব্যাহত থাকলে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের সব সামরিক ঘাঁটি ইরানের ড্রোন হামলার বৈধ লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হবে বলে কঠোর সতর্কবার্তা দিয়েছে তেহরান। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রও ইরানের বিরুদ্ধে নতুন দফায় সামরিক অভিযান চালানোর কথা জানিয়েছে, ফলে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে।


বুধবার (৮ জুলাই) ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের বরাতে জানানো হয়, রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন আইআরআইবিতে প্রচারিত এক বিবৃতিতে ইরানের সেনাবাহিনী দাবি করেছে, বাহরাইনের শেখ ইসা বিমানঘাঁটিতে অবস্থানরত মার্কিন বাহিনীর সমাবেশস্থল লক্ষ্য করে তারা হামলা চালিয়েছে।


ইরানের সামরিক বাহিনীর দাবি, দেশের দক্ষিণাঞ্চলের সামরিক ও বেসামরিক এলাকায় যুক্তরাষ্ট্রের কথিত আগ্রাসন এবং যুদ্ধবিরতি চুক্তির একাধিক ধারা লঙ্ঘনের জবাব হিসেবেই এই অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।


বিবৃতিতে আরও বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র যদি ভবিষ্যতেও যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘন অব্যাহত রাখে, তাহলে মধ্যপ্রাচ্যে থাকা সব মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ইরানের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার আওতায় আসতে পারে।


এর আগে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) দাবি করে, তারা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্রের ৮৫টি সামরিক স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে। দেশটির সংবাদমাধ্যম তাসনিমের তথ্য অনুযায়ী, হামলার লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে বাহরাইনের সালমান বন্দর, মার্কিন নৌবাহিনীর পঞ্চম নৌবহরের সদর দপ্তর এবং কুয়েতের আলি আল-সালেম বিমানঘাঁটিও ছিল।


অন্যদিকে কুয়েতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশটির আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কয়েকটি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ভূপাতিত করেছে। একই সময়ে বাহরাইনজুড়ে বিমান হামলার সতর্ক সংকেত জারি করা হয়।


এদিকে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার জবাবে ইরানের ৮০টিরও বেশি লক্ষ্যবস্তুতে নতুন দফায় বিমান হামলা চালানো হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, বাণিজ্যিক নৌ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এই সামরিক অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।


মধ্যপ্রাচ্যে পাল্টাপাল্টি সামরিক পদক্ষেপের ফলে আঞ্চলিক উত্তেজনা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে না এলে এর প্রভাব শুধু আঞ্চলিক নিরাপত্তাই নয়, বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যেও পড়তে পারে।