কালীঘাটে মিছিল ঘিরে উত্তেজনা, চড় মারার ঘটনায় নতুন রাজনৈতিক বিতর্কে মমতা
পশ্চিমবঙ্গের কালীঘাটে তৃণমূল কংগ্রেসের একটি মিছিলকে কেন্দ্র করে উত্তেজনার মধ্যে দলের নেত্রী ও রাজ্যের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এক ব্যক্তিকে চড় মারার ঘটনায় নতুন রাজনৈতিক বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনাটির ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর রাজ্যজুড়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে তিনি কাকে চড় মেরেছেন, তা আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
বুধবার (৮ জুলাই) বারুইপুরে এক কিশোরী ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে কালীঘাট তৃণমূলের উদ্যোগে একটি মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। আদালতের অনুমতি নিয়ে বালিগঞ্জ ফাঁড়ি থেকে হাজরা মোড় পর্যন্ত মিছিল করার কথা ছিল।
তৃণমূলের অভিযোগ, মিছিল শুরু হওয়ার পর ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)-এর কর্মীরা পথরোধ করে বিক্ষোভ ও স্লোগান দিতে শুরু করলে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা, ধাক্কাধাক্কি এবং সংঘর্ষের পরিস্থিতি তৈরি হয়।
এ সময় নিজের কালীঘাটের বাসা থেকে বেরিয়ে আসেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি উপস্থিত কর্মী-সমর্থকদের শান্ত থাকার আহ্বান জানান এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, ভিড়ের মধ্যে অনেকেই মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণ করতে সামনে এগিয়ে এলে তিনি হঠাৎ একজনকে চড় মারেন। পরে নিরাপত্তাকর্মীরা দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
ঘটনার পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেন, আদালতের অনুমতি থাকা সত্ত্বেও তাদের মিছিল আটকে দেওয়া হয়েছে। তার দাবি, এটি ছিল পূর্বপরিকল্পিত হামলা। তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে এবং তার দলের কর্মীদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে। আদালতের নির্দেশ কার্যকর না হওয়ায় আদালত অবমাননার মামলা করার কথাও জানান তিনি।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, তার বাড়ির সামনেও বিরোধী দলের সমর্থকেরা জড়ো হয়ে ভীতি সৃষ্টির চেষ্টা করেছে এবং পুরো ঘটনাটির পেছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য রয়েছে।
অন্যদিকে বিজেপি এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে। দলের নেতা ও সংসদ সদস্য সুকান্ত মজুমদার বলেন, ক্ষমতা হারানোর পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ভারসাম্য হারিয়ে এমন আচরণ করছেন। তিনি ঘটনাটিকে দুর্ভাগ্যজনক বলে মন্তব্য করেন।
রাজ্য বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যও তৃণমূলের সমালোচনা করে বলেন, গণতান্ত্রিক দেশে সবাই শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচি পালনের অধিকার রাখে। তার দাবি, রাজনৈতিক সংকট থেকে দৃষ্টি সরাতেই এ ধরনের বিতর্ক তৈরি করা হচ্ছে।
এদিকে সংঘর্ষ চলাকালে কয়েকজনকে মারধরের অভিযোগও উঠেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে এক ব্যক্তিকে একটি গাড়ির ওপর ফেলে মারধরের দৃশ্য দেখা গেছে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
মিছিল ঘিরে সংঘর্ষ, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের চড় এবং তৃণমূল-বিজেপির পাল্টাপাল্টি অভিযোগের জেরে পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে।