শুক্রবার , ১০ জুলাই ২০২৬
শুক্রবার , ১০ জুলাই ২০২৬
হোমবিশ্বগ্রিনল্যান্ড দখলের দাবি আবারও নাকচ করলেন সেখানকার বাসিন্দারা

গ্রিনল্যান্ড দখলের দাবি আবারও নাকচ করলেন সেখানকার বাসিন্দারা

favicon
ভোরের আলো ডেস্ক:
গ্রিনল্যান্ড দখলের দাবি আবারও নাকচ করলেন সেখানকার বাসিন্দারা

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের গ্রিনল্যান্ডের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার নতুন দাবিকে আবারও দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করেছেন দ্বীপটির বাসিন্দারা। তাদের ভাষ্য, গ্রিনল্যান্ডের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের অধিকার কেবল সেখানকার মানুষের, অন্য কোনো দেশের নয়।


সম্প্রতি তুরস্কের রাজধানী আঙ্কারায় অনুষ্ঠিত উত্তর আটলান্টিক সামরিক জোটের সম্মেলনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ট্রাম্প বলেন, জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে গ্রিনল্যান্ডের নিয়ন্ত্রণ যুক্তরাষ্ট্রের হাতে থাকা জরুরি। তার এই বক্তব্যের পর গ্রিনল্যান্ডের রাজধানী নুকে চলা ঐতিহ্যবাহী কায়াক প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী ও দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়।


প্রতিযোগিতায় উপস্থিত অনেকের অভিযোগ, ট্রাম্পের আগ্রহ গ্রিনল্যান্ডের মানুষের ইচ্ছার চেয়ে দ্বীপটির বিপুল খনিজ সম্পদ ও জ্বালানি সম্পদের প্রতি বেশি।


গ্রিনল্যান্ডে জন্ম নেওয়া বাহাত্তর বছর বয়সী অবসরপ্রাপ্ত ফ্রেডেরিক লারসেন বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণ ছাড়াই গ্রিনল্যান্ড নিজের সক্ষমতায় এগিয়ে যেতে পারবে। একই ধরনের মত প্রকাশ করেন ষাট বছর বয়সী সরকারি বিদ্যালয়ের শিক্ষক বিরগিথে গাইসলার। তিনি বলেন, গ্রিনল্যান্ড গ্রিনল্যান্ডের মানুষের এবং তাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার অন্য কোনো রাষ্ট্রের নেই।


গ্রিনল্যান্ড সামুদ্রিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের প্রশিক্ষক হান্স ডেভিড এজেকিয়াসেন ট্রাম্পের বক্তব্যকে সম্পূর্ণ অযৌক্তিক বলে মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, নিজের দেশের নানা সমস্যার সমাধান না করেই অন্য একটি অঞ্চলের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার দাবি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।


অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে আসা কায়াক দলের সদস্য এবং প্রকৌশলী অ্যান্ডি থন বলেন, ডেনমার্কের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রেখেই গ্রিনল্যান্ড ধীরে ধীরে আরও বিস্তৃত স্বায়ত্তশাসনের পথে এগোচ্ছে। তার মতে, মিত্র দেশগুলোর সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় থাকলে কৌশলগত কারণ দেখিয়ে গ্রিনল্যান্ডের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার প্রয়োজন হতো না।


ট্রাম্পের সাম্প্রতিক মন্তব্যের পর ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের নেতারাও আবারও এর বিরোধিতা করেছেন। গ্রিনল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জেন্স-ফ্রেডেরিক নিয়েলসেন বলেন, যতবারই এ ধরনের দাবি তোলা হোক না কেন, বাস্তবতা বদলাবে না। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, গ্রিনল্যান্ড বিক্রির জন্য নয় এবং এর ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবেন শুধুমাত্র গ্রিনল্যান্ডের জনগণ।